ঢাকা      মঙ্গলবার ২৫, জুন ২০১৯ - ১১, আষাঢ়, ১৪২৬ - হিজরী



ডা. আহমাদ হাবিবুর রহিম

লেখক, কলামিস্ট

বিসিএস (স্বাস্থ্য), সহকারী সার্জন

বিলাইছড়ি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, রাঙ্গামাটি


কাব্যের শুরুটা যেভাবে 

-হ্যালো?
-
-হ্যালোওওও?

-হ্যালোওওওওওও!!!

(ফেসবুকের ইনবক্সে টানা কয়েকদিন যোগাযোগের চেষ্টা করেও কোনোভাবেই জনৈক লেখকের নাগাল পাওয়া গেলো না। তিনি মেসেজগুলো দেখছেন, কিন্তু জবাব দিচ্ছেন না। তার পক্ষ থেকে কোনো সাড়াই পাওয়া যাচ্ছে না। এরপর পাঠিকা অবলম্বন করলেন এক অভিনব পদ্ধতি। ফলাফলটা নিজেই দেখে নিন!)

-আচ্ছা আপনি কি নিজেকে ফেরেশতা মনে করেন?

(কিছুক্ষণ পরেই জবাব চলে এলো!)

-কই নাতো!

-না মানে, আপনার লেখা দেখলেতো তাই মনে হয়। মনে হয়, আপনি পুরোই দুধে ধোঁয়া তুলসী পাতা।

- ও!

- শুনুন, মানুষের সামনে এভাবে নিজেকে মহান হিসেবে তুলে ধরাটাও কিন্তু এক প্রকার ভণ্ডামি।

- জ্বি।

- আর এই ভণ্ডামিটা আপনি দারুণভাবে করে যাচ্ছেন।

- তাই?

- হ্যা, আমি নিশ্চিত। আপনি একজন ভণ্ড।

- ঠিক।

- স্বীকার করলেন তাহলে আপনার ভণ্ডামি?

- জ্বী।

- ধন্যবাদ। আপনার এই ব্যাপারটা ভালো লাগলো।

- কোনটা?

- এই যে সহজে নিজের দোষটা স্বীকার করে নিলেন...

- ও আচ্ছা।

- আপনি কিন্তু বেশ অহংকারীও।

- তাই?

- হ্যা। আপনার মধ্যে কেমন একটা নাকউঁচু ভাব আছে।
- হয়তো।

- হয়তো না বাস্তবেই। আমি কারো লেখা পড়লেই বুঝতে পারি বাস্তবের মানুষটা আসলে কেমন। যেমন আপনার লেখা পড়ে বুঝেছি আপনি কেমন।

- কি বুঝলেন?

- এই যে আপনি আসলে একটা মাকাল ফল। ভেতরে তেমন কিছু নাই। শুধু কথার ফটফটানি।

- গুড অবজার্ভেশন।

- ইংরেজি আমি আপনার চেয়ে কম পারি না। কথায় কথা হুটহাট ইংরেজি অন্তত আমার সঙ্গে বলবেন না। আমার খুব বিরক্ত লাগে।

- সরি।

- সরির বাংলা জানেন না? দুঃখিত বলুন।

- বললাম।

- কই বললেন? ঠিক করে বলুন 'দুঃখিত'।

- দুঃখিত।

- এইবার হয়েছে। আচ্ছা আপনি এতো অহংকারী কেন? আপনাকে আমি যে এতো কিছু বলছি আপনি তাতে কোন গুরুত্বই দিচ্ছেন না। এতো অহঙ্কার থাকা কিন্তু ভালো না। ঠিক মতো কথার জবাব দিন।

- দিচ্ছি তো!

- না আপনি আমাকে এড়িয়ে যাচ্ছেন। আপনাকে আমি ভণ্ড বললাম, অহঙ্কারী বললাম, কিন্তু আপনার কোনো বিকার নাই! আপনি যদি ভেবে থাকেন আপনি খুব সুন্দর লেখেন তাই আমি আপনার প্রেমে পড়ে গেছি; তাই আবেগে একেবারে গদগদ হয়ে আপনার সঙ্গে কথা বলবো; তাহলে আপনি ভুল ভেবেছেন।

- এমনটা ভাবিনিতো!

- আপনাদের যে অবস্থা লেখায় চল্লিশ পঞ্চাশটা লাইক পড়লেই আর মাথা ঠিক থাকে না। ভাবটা এমন হয়ে যায় যে "মুই কি হনু রে!"

- আমি এমন না।

- সবাই মুখে মুখে এমনটাই বলে কিন্তু মনে মনে নিজেকে তালেবর মনে করে। অন্য কাউকে আর দাম দিতে চায় না। যেমন আপনি আমাকে দিচ্ছেন না।

- কী বলেন!

- ঠিকই বলেছি। শোনেন, লেখালেখি করলে আমি নিজেও এতোদিনে অমন দু আড়াইশো লাইক পেতাম। এটা কোনো ব্যাপার না। এইতো সেদিনই, "মনটা ভালো নেই" লিখে স্ট্যাটাস দিয়েছি; ওটাতে সাতাত্তরটা লাইক পেয়েছি। বাংলাদেশের খেলার দিন "অভিনন্দন বাংলাদেশ" লিখে স্ট্যাটাস দিয়ে একশো চব্বিশটা লাইক পেয়েছি।

- বিশাল ব্যাপার।  লিখে যান।

- নাহ পরে ফেসবুক সেলিব্রেটি হয়ে গেলে আপনাদের মতো আমাকেও ভণ্ডামি করতে হবে। সেটা আমার দ্বারা সম্ভব না। আচ্ছা আপনি একবারও বড় বাক্য লিখছেন না। কোনো মতে দুয়েকটা শব্দ দিয়েই কাজ চালাচ্ছেন। আমি মুখের ওপর সত্যগুলো বলে ফেলায় আপনি কি আমার উপর রাগ করেছেন?

- না সত্যটাইতো বলেছেন।

- তাই বলে নিজের সাফাই গাইবেন না একটু?

- দরকার কী?

- আপনি শুধু অহংকারীই না আপনি বেশ দাম্ভিকও বটে। আর সঙ্গে বেশ কিছুটা অসামাজিকও।

- আর কিছু?

- হ্যা, আরও অনেক অনেক কিছু। আপনি নিজেকে কি মনে করেন বলুন তো?

- কিছুই না।

- আপনি তো মিথ্যাও বলেন দেখি!

- বলিতো...

- এতো ভাব নেয়া ভালো না। আপনি এখনও আমার একটা কথার জবাব ঠিকমতো দিচ্ছেন না। এখনও হ্যা হু করেই যাচ্ছেন।

- তাইতো!

- আপনার সঙ্গে কথা বলতে আসাটাই ঠিক হয়নি। আপনার সম্পর্কে আমার পর্যবেক্ষণ পুরোপুরিই ঠিক।

- ঠিক।

- আপনি কি একটি পূর্ণ বাক্যও বলবেন না? অথচ ফেসবুকেতো কতো বড় বড় লেখা দেন। ভুলভাল বানানে লিখে ফেসবুকের নিউজফিডের সৌন্দর্য্যই নষ্ট করে ফেলেন।

- দুঃখিত। বানান ঠিকমতো পারি না যে।

- আমি আপনাকে সাহায্য করতে পারি।

- ঠিক আছে।

- দয়া করে একটা দীর্ঘবাক্য বলুন অন্তত...

- কি বলবো?

- আপনিই জানেন কি বলবেন!

- তাও ঠিক।

- আপনি কী জানেন যে আপনি মানুষের কী পরিমাণ সময় নষ্ট করেন?

- কিভাবে?

- ফেসবুকে এত্তো বড় বড় লেখা দেয়া ঠিক না।

- কেন?

- মানুষ পড়তে পড়তে বিরক্ত হয়ে যায়। সময়ও নষ্ট হয় বেশ। অধিকাংশই মানুষই কিন্তু পড়ে না এগুলো। একটু ছোট করে লিখলে কী হয়?

- পারি না যে!

- আমার নিজেরই পড়তে বেশ কষ্ট হয়। এত্তো লম্বা লেখা।

- পড়ার কি দরকার?

- ভালো লাগে যে। তাই পড়ি। কিন্তু অনুরোধ রইলো আরো ছোট করে লিখবেন।

- সম্ভব না।

- কি সম্ভব না?

- অনুরোধ রাখা।

- বললাম না আপনি খুব অহংকারী। হাতে হাতে প্রমাণ পেলেন তো?

- হ্যা।

- আচ্ছা আপনাকে এতো কিছু বললাম মাইন্ড করেননি তো?

- সত্যিইতো বলেছেন।

- আসলে ভাবলাম, আমি আপনাকে একটু ভড়কে দেবো। তাই শুরু থেকেই এভাবে আক্রমণ করে কথা বলা শুরু করেছিলাম।

- কি লাভ তাতে?

- তাহলে পরবর্তীতে আলাদা করে আমার কথা আপনার মনে থাকবে।

- তাহলে?

- তাহলে কিছু না। আপনি আসলেই একটা রসকষহীন মানুষ। আপনার লেখা পড়লে এটা বোঝা যায় না। এখন বুঝলাম। আপনার সঙ্গে গল্প করার চেষ্টা করাই বৃথা।

- ঠিক।

- আপনি একটিবারও আমার সম্পর্কে জানতে চাইলেন না। মানুষ এতোটা উদাসীন কিভাবে হয়?

- সরি না মানে দুঃখিত।

- আসলে আপনার সঙ্গে চ্যাট করতে আসাটাই ঠিক হয়নি। আপনি আসলেই একটা বিরক্তিকর মানুষ।

- ঠিক।

- আপনার লেখালেখিগুলো আসলেই ভণ্ডামি। বাস্তবে আপনি দারুণ অসামাজিক আর ঘোরতর আত্মকেন্দ্রিক একজন মানুষ। কারও সঙ্গে ঠিক মতো কথাও বলতে শেখেননি আপনি।

- আজ জানলাম।

- আপনি এমন কেন বলুনতো?

- আসলে চ্যাট অপছন্দ করি। বিশেষ করে মেয়েদের সাথে।

- ও আপনি তাহলে একজন নারী বিদ্বেষীও!

- আসলে তা না।

- আসলে কি তাহলে?

- বিপরীত লিঙ্গের কারো সঙ্গে চ্যাট করাটা ঠিক না। ঝামেলা আছে।

- তাহলে প্রথমেই রিপ্লাই না দিতেন।

- যেভাবে শুরু করেছিলেন!

- তাহলে তো আমি সফল। একটা স্বীকৃতিতো পেলাম অন্তত।

- এতো ছোট কাজে!

- আপনি আসলেই একটা ভণ্ড। বললেন মেয়েদের সঙ্গে চ্যাট করা উচিত না। কিন্তু আমার সঙ্গে ঠিকই এতোক্ষণ চ্যাট করছেন। কথা কাজে কোনো মিলই নেই আপনার।

- তাইতো!

- আপনার মতো একটা ছদ্মবেশী ভণ্ড মানুষের সঙ্গে কি আমার চ্যাট করা উচিত?

- মনে হয় না।

- তাই চলে যাচ্ছি। তবে শুনুন একটা ব্যাপার। আপনার সত্য স্বীকার করে নেয়ার সৎসাহসটা আমার বেশ ভালো লেগেছে। এটা কিন্তু পরবর্তীতেও ধরে রাখবেন।

- আপনাকে ধন্যবাদ। এতোগুলো দোষ ধরিয়ে দেয়ায়।

- হুম। তাহলে তো আপনার অনেক উপকার করলাম।

- জ্বী।

- এর জন্য প্রতিদান দেবেন না কিছু?

- কী দেয়া যায়?

- হুম। আপাতত মাঝে মাঝে আপনার সঙ্গে কথা বলার সুযোগটা দিলেই হবে। তাহলে আপনার দোষগুলো আরো ভালো করে ধরিয়ে দিতে পারবো।

- আপনার লাভ?

- পরোপকার বলতে পারেন। আমি আবার মানুষের উপকার করতে ভালোবাসি কি না! অবশ্য পরে অনেক বড়ো কিছুওতো চাইতে পারি।

- কী?

- পরে বলবো। এখন থাক।

- ঠিক আছে।

- আচ্ছা, আপনার মোবাইল নাম্বারটা দিন তো?

- কেন?

- আমার কাছে সবসময় ইন্টারনেট থাকে নাতো তখন না হয় ফোনে দোষ ধরিয়ে দিলাম।

- না দিলে হয় না?

- ঠিকাছে। সেটা পরে দিলেও হবে। আপাতত তাহলে ফেসবুকেই দোষধরা চলুক...

(সংবিধিবদ্ধ সতর্কীকরণ: এটা কেবলই একটা গল্প। এর সব চরিত্রই কাল্পনিক। গল্পের কোনো কিছু যদি বাস্তব কোনো ব্যক্তি বা ঘটনার সঙ্গে মিলে যায়, তাহলে তা কেবলই কাকতাল বলে গণ্য হবে।)

সংবাদটি শেয়ার করুন:

 





জনপ্রিয় বিষয় সমূহ:

দুর্যোগ অধ্যাপক সায়েন্টিস্ট রিভিউ সাক্ষাৎকার মানসিক স্বাস্থ্য মেধাবী নিউরন বিএসএমএমইউ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঢামেক গবেষণা ফার্মাসিউটিক্যালস স্বাস্থ্য অধিদপ্তর