১৮ মে, ২০১৯ ০৫:০২ পিএম

প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্ত চান ৩৯তম বিসিএসের নন-ক্যাডার চিকিৎসকরা

প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্ত চান ৩৯তম বিসিএসের নন-ক্যাডার চিকিৎসকরা

মেডিভয়েস রিপোর্ট: নিয়োগের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তরফ থেকে লিখিত সিদ্ধান্ত চান ৩৯তম বিসিএসে উত্তীর্ণ নন-ক্যাডার চিকিৎসকরা। এ লক্ষ্যে আগামীকাল প্রধানমন্ত্রীর কাছে একটি স্মারকলিপি দেওয়া হবে জানিয়ে তারা বলেন, স্বাস্থ্যখাতের বিদ্যমান সংকট দূর করতে চিকিৎসক নিয়োগের বিকল্প নাই। নন-ক্যাডার চিকিৎসকরা বলেন, ৮ হাজার ৩৬০ জন চিকিৎসক নিয়োগই যথেষ্ট নয়, স্বাস্থ্যখাত ভালোভাবে চালাতে হলে আরও ২০ থেকে ২৫ হাজার ডাক্তার জরুরি। 

এ বিসিএসে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ডা. গোবিন্দ দাশ মেডিভয়েসকে বলেন, “নতুন করে চার হাজার ৭৯২ জন চিকিৎসক নিয়োগে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ঘোষণায় হয়তো বা আমাদের কথা একবারও উল্লেখ করা হয়নি। এ কারণে আমরা ধরে নিতে পারছি না যে, আমাদের থেকেই এই চিকিৎসক নেওয়া হবে। এজন্য আমরা প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে একটি লিখিত বক্তব্য চাই, যেখানে আমাদের ৮ হাজার ৩৬০ জনকে নিয়োগের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত জানানো হবে। প্রধানমন্ত্রীর তরফ থেকে একটি সিদ্ধান্ত চাচ্ছি আমরা।”

নিজেদের দাবির যৌক্তিকতা তুলে ধরে সাপ্পোরো ডেন্টাল কলেজের ২০১২-১৩ সেশনের এ শিক্ষার্থী আরও বলেন, “আমাদের দেশে যে চিকিৎসক সংকট তা ৮ হাজার ৩৬০ জন চিকিৎসক নিয়োগ দিলেই শেষ হবে না। এদেশের স্বাস্থ্যখাত ভালোভাবে চালাতে হলে আরও ২০ থেকে ২৫ হাজার ডাক্তার জরুরি। আমাদের দাবি, আরও চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়া হোক। আট হাজার ৩৬০ জন নিয়োগের মাধ্যমে যেন এ প্রক্রিয়াটি থেমে না যায়। পরবর্তীতে ধাপে ধাপে যেন চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়া হয়। বিসিএসে এমবিবিসের সিট খুবই কম, ২৫০ থেকে ৩০০টি। ডেন্টালের জন্য আরও কম, ৫-১০টা।”

তাদের নিয়োগ নিশ্চিতের মাধ্যমে পরিবর্তনের সূচনার বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে ডা. গোবিন্দ বলেন, “আমরা চাই, আমাদেরকে নেন। এবং এর মাধ্যমে একটি পরিবর্তন শুরু হোক। ভবিষ্যতে যেন এ রকম স্পেশাল বিসিএসের মাধ্যমে আরও বেশি বেশি ডাক্তার নিয়োগ হয়। যাতে সরকারি হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসক সংকট দূর হয়।” 

চলতি বছরই দেশের চার হাজার ৭৯২ চিকিৎসক নিয়োগে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেকের ঘোষণাকে কিভাবে দেখছেন—জানতে চাইলে উত্তীর্ণ আরেক চিকিৎসক ডা. মাসউদুর রহমান মেডিভয়েসকে বলেন, “আমাদের দাবি হচ্ছে, উত্তীর্ণ ৮ হাজার ৩৬০ জন নন-ক্যাডার চিকিৎসককে ক্যাডারভুক্ত করা হোক। এ দাবির পরিপ্রেক্ষিতে কোনো ঘোষণা ছাড়া এটা আমাদের উদ্দেশ্যে বলা হয়েছে বলে মনে করছি না। আমাদের জন্য সুনির্দিষ্টি করে ঘোষণা চাই। স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী, যদি এ নিয়োগ হয়, তাহলে আমাদের কথা হচ্ছে—আমরা তো উত্তীর্ণ। যোগ্যরা থাকতে তো অন্য কাউকে নিয়োগ দেওয়ার প্রয়োজন পড়ে না।” 

যশোর মেডিকেল কলেজের জে-২ ব্যাচের এ শিক্ষার্থী আরও বলেন, “পিএসসি বলেছে, আগামী দুই থেকে আড়াই বছর নতুন করে বিশেষ বিসিএস আয়োজন করতে পারবে না। তাহলে তো দীর্ঘ সময় নিয়োগ বন্ধ থাকবে। প্রায় সাড়ে চার বছর। তার চেয়ে বরং আমরা যারা আছি, তারাই অগ্রগণ্য এবং যোগ্য। আমরা একবার যোগ্যতার প্রমাণ দিয়েছি।” 

এ প্রসঙ্গে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব এ এম পারভেজ রহিম মেডিভয়েসকে বলেন, “তাদের থেকে না, নতুন করে নেওয়া হবে, ১০ হাজারের অবশিষ্ট চিকিৎসকদের নেওয়া হবে। এজন্য পিএসসি থেকে নতুন করে বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হবে।”

সেজন্য আবার স্পেশাল কোনো বিসিএসের আয়োজন করা হবে কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “আমরা যখন তখন বিসিএস আয়োজন করতে পারি না, জেনারেল বিসিএস থেকে তাদের নেওয়া হবে। আগামী ২/৩ বছরের মধ্যে স্পেশাল বিসিএসের সম্ভাবনা নাই।”

একসঙ্গে ১০ হাজার নেওয়া হলে আগামী চার বছর চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়া সম্ভব হতো না বলেও জানান তিনি। 

এ সময় ৩৩তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তিতে ২ হাজার ৪০০ পদ থাকলেও ৬ হাজার ২০০ জনকে নিয়োগের বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দিলে পারভেজ রহিম বলেন, “বিধি অনুযায়ী, এটা সাধারণ বিসিএসে করা যায়, স্পেশাল বিসিএসে সম্ভব হয় না। সাধারণ বিসিএসে ফলাফল ঘোষণার আগে পিএসসি চাইলে নেওয়া যেতে পারে।”

তিনি বলেন, “পাবলিক সার্ভিস কমিশন যদি সুপারিশ করে তাহলে নন-ক্যাডারদের থেকে ক্যাডারভুক্ত করা হবে। তানা হলে কার্যকর হবে না। পিএসসি থেকে সুনির্দিষ্ট করে বললেই তা বাস্তবায়ন হবে।”

পাবলিক সার্ভিস কমিশন কারও প্রতি কোনো অবিচার করে না উল্লেখ করে পিএসসির সাবেক এ ডেপুটি ডিরেক্টর বলেন, কেউ চাইলে ৫০ টাকা জমা দিয়ে পিএসসি থেকে তার নম্বর শিট সংগ্রহ করতে পারবে। 

এ বিষয়ে কথা বলতে একাধিকবার চেষ্টা করেও পিএসসি চেয়ারম্যান এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে ফোনে পাওয়া যায়নি। 

প্রসঙ্গত, হাসপাতাল ও মেডিক্যাল কলেজে চিকিৎসক সংকট নিরসনের লক্ষ্যে সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সুপারিশ অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিশেষ বিসিএসের মাধ্যমে আরও ১০ হাজার চিকিৎসক দ্রুত নিয়োগের অনুমতি দেন। এ লক্ষ্যে আয়োজিত ৩৯তম বিশেষ বিসিএসে ১৩ হাজার ১৫২ জন উত্তীর্ণ হন। তবে সেখান থেকে মাত্র চার হাজার ৭৯২ জন চিকিৎসককে নিয়োগের সুপারিশ করে পিএসসি। এতে উত্তীর্ণ আরও আট হাজার ৩৬০ জন চিকিৎসক অনিশ্চয়তায় পড়েন।

Add
একজন এফসিপিএস পরীক্ষা উত্তীর্ণ চিকিৎসকের অনুভুতি

পরীক্ষা প্রস্তুতির শেষের কয়েকদিন মেয়ের সাথে দেখা করতে পারিনি

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি
জাতীয় ওষুধনীতি-২০১৬’ এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন

নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি