ঢাকা মঙ্গলবার, ২২ অক্টোবর ২০১৯, ৭ কার্তিক ১৪২৬,    আপডেট ৫৭ মিনিট আগে
ডা. আশিকুর রহমান রুপম

ডা. আশিকুর রহমান রুপম

প্রাক্তন অনারারি মেডিকেল অফিসার,

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল।


১৬ মে, ২০১৯ ১৪:১১

`দশ হাজার চিকিৎসক নিয়োগে অনুমোদন দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী'

`দশ হাজার চিকিৎসক নিয়োগে অনুমোদন দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী'

প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় দেশের বিভিন্ন খাতের সঙ্গে সঙ্গে স্বাস্থ্য খাতও এগিয়ে যাচ্ছে। প্রান্তিক অঞ্চলের মানুষদের উন্নত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সরকারের চেষ্টা এবং পরিকল্পনার কোনো কমতি নেই। তবুও বর্তমানে দেশের বহু জায়গায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, ইউনিয়ন সাবসেন্টার (উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র) ও সদর হাসপাতালে ডাক্তার ব্যাপক সংকট রয়েছে। যে কারণে গণমাধ্যমের কল্যাণে চিকিৎসক সংকটের খবর প্রায়ই শোনা যায়। এসব জায়গায় চাহিদার বিপরীতে কয়েকজন চিকিৎসক বিশাল জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে যাচ্ছেন। সেসব অঞ্চলের চিকিৎসকরা যে কি কষ্ট করে ইনডোর, আউটডোর, ইমার্জেন্সি সামলান, তা শুধুমাত্র তারাই জানেন। 

এই গত সপ্তাহেও পঞ্চগড়ের তেতুলিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একজন চিকিৎসক নিজে অসুস্থ শরীরে শীরার মাধ্যমে সালাইন লাগিয়েও রোগী সেবা দেওয়ার ঘটনা সবার বিবেককে নাড়া দিয়েছে। 

এগুলো কেন হয়?
সে জায়গাগুলোতে পর্যাপ্ত পরিমাণে পোস্ট খালি থাকার পরও ডাক্তার নিয়োগ দেওয়া হয় না। এই সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো পোস্ট ফাঁকা রেখেই দিনের পর দিন স্বাস্থ্য সেবা দেওয়া হচ্ছে। যার ফলে প্রায়ই ঘটে অপ্রীতিকর ঘটনা। 

মিলেনিয়াম গোল ডেভেলপমেন্ট (এমডিজি) ও টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (এসডিজি) বেশ কয়টি ছিল স্বাস্থ্য সেবা বিষয়ক। বর্তমান সরকার সেই লক্ষগুলো অর্জনে অনেক কাজ করেছে। দেশের জনসংখ্যা এখন বেড়েছে। বেসরকারিভাবে ধরে নেওয়া হয় ১৮ বা ১৯ কোটির কম নয়। অথচ চিকিৎসা সেবার মতো সবচেয়ে স্পর্শকাতর বা সেনসিটিভ একটা সেক্টরে পদ সংখ্যা সেই অনুপাতে বাড়ানো হয় না।

এ সংকট বিবেচনায় নিয়ে বর্তমান সরকার ২০১৭ সালে দশ হাজার চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়ার পরিকল্পনা গ্রহণ করে। যাতে চলমান সংকট কিছুটা হলে কমে এবং স্বাস্থ্য সেবার এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করা যায়। 

এরই ধারাবাহিকতায় ২০১৭ সালের ৫ জুন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের পক্ষ থেকে তৎকালীন স্বাস্থ্য সচীব জনাব মো. সিরাজুল হক খান (স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ) এবং তৎকালীন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জনাব মো. নাসিম ও মাননীয় স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী (বর্তমান স্বাস্থ্যমন্ত্রী) জনাব জাহিদ মালেক স্বাক্ষরিত এক অনুমোদনপত্র মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সদয় অনুমোদনের জন্য প্রেরণ করা হয় এবং বঙ্গবন্ধু কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তা অনুমোদন করেন।

উক্ত অনুমোদনপত্রে কতগুলো বিষয় সুস্পষ্ট উল্লেখ ছিল, তা নিম্নে দেওয়া হলো:

১. দশ হাজার ডাক্তার নিয়োগ দেওয়া হবে, অনুমোদনপত্রের বিষয়ের মধ্যে কোথাও "পর্যায়ক্রমে" শব্দটির উল্লেখ ছিল না। 

২. সারা বাংলাদেশে ১৮ কোটি মানুষের বিপরীতে রাষ্ট্রায়ত্ত চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানে শুধুমাত্র ২০ হাজার ৯৯৮ জন ডাক্তার আছেন।  অথচ ডাক্তার ও রোগীর আনুপাতিক হার হওয়া উচিত ১:১০।

৩. সৃজিত এবং সৃজনের প্রক্রিয়াধীন পদ অর্থাৎ ধরে নেওয়া যায় শূন্য পদ সংখ্যা ২৮ হাজার ৩৮৯টি।

৪. বর্তমান সময়ে চিকিৎসক স্বল্পতার কারণ দেখিয়ে, সরকার দ্রুততম সময়ের মধ্যে ১০ হাজার ডাক্তার নিয়োগ দেওয়ার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নিকট সদয় অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়। এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তাতে স্বাক্ষর করে অনুমোদন করেন।

এখন পরবর্তীতে যদি বিভিন্ন সময়ে বলা হয়, একবারে তো নিতে চাওয়া হয়নি। তাহলে বিষয়টা দারুণভাবে মর্মাহত করবে তরুণ চিকিৎসক সমাজকে। এটা একটা written statement. যেখানে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, তৎকালীন স্বাস্থ্যমন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রীর ও সচীবের স্বাক্ষর রয়েছে।  

এবং এখানে সুস্পষ্টভাবে ৯ হাজার ৫০০ জন সহকারী সার্জন এবং ৫০০ জন ডেন্টাল সার্জন নেওয়ার কথা বলা আছে। কোনো নন-ক্যাডারের জন্য পোস্টই নাই।  তাহলে এখন দুইবারে বা তিনবারের নেওয়ার বক্তব্য কতটুকু যৌক্তিক। 

৬. সবার মনে থাকার কথা, ৩৩তম বিসিএসে ২ হাজার ৪০০ পোস্ট সার্কুলারে থাকলেও প্রয়োজনের তাগিদে সে বিসিএসে ৬ হাজার ২০০ জনকে নেওয়া হয় এবং সবাইকে স্বাস্থ্য ক্যাডারে। সে সময় কিন্তু পরবর্তী ব্যাচগুলোর প্রতি অবিচারের প্রশ্ন আসেনি। কিংবা পরের ব্যাচগুলোর অভিভাবকত্ব নিয়েও সরকার প্রশ্নবিদ্ধ হয়নি। 

আর আজ সারা বাংলাদেশে চিকিৎসকদের এতো সংকট থাকা সত্ত্বেও বলা হচ্ছে, ৩৯তম বিসিএস উত্তীর্ণদের যারা সাড়ে চার হাজারের বাইরে, তাদের নন-ক্যাডার পোস্টে পদায়ন করা হবে।

আমাদের কথা হলো, উত্তীর্ণরা সবাই রাষ্ট্রের স্বাস্থ্য খাতে অংশ নিতে চান, অবদান রাখতে চান। তারা গ্রামে গিয়ে প্রান্তিক অঞ্চলের মানুষের সেবা দিতে চান। তারা সরকারের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে চান। দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চান।

তাদের দফা ও দাবি একটাই, তাহলো: বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী মাননীয় প্রধানমন্ত্রী অনুমোদিত ৯ হাজার ৫০০ সহকারী সার্জন এবং ৫০০ ডেন্টাল সার্জন নিয়োগ প্রদান করে দেশের সেবা করার সুযোগ প্রদান।

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত