ডা. কাওসার উদ্দিন

ডা. কাওসার উদ্দিন

সহকারী সার্জন

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়।


১৫ মে, ২০১৯ ১০:৫৬ এএম
পাথরঘাটার ঘটনা প্রসঙ্গে!

রোগীদের সাথে খারাপ আচরণ মোটেও কাম্য নয়

রোগীদের সাথে খারাপ আচরণ মোটেও কাম্য নয়

মনে মনে কল্পনা করুন, কোন একটি বিশাল হাসপাতালে একজন বা দুজন মাত্র চিকিৎসক। দীর্ঘদিন ধরে তাদের একান্ত বাধ্য হয়েই সামলাতে হচ্ছে আউটডোর, ইনডোর, ইমার্জেন্সি; দিনের পর দিন, মাসের পর মাস, বছরের পর বছর।

ইনকাম? হয়তো কারো জমজমাট চেম্বার, ইনকাম ভালই হয়, কারো হয়ত না। এতে পকেট হয়তো ভরে, পেটও ভরে, কিন্তু মনের শান্তি কি আসে? মেটে কি শারীরিক ক্লান্তি? মোটেও মেটে না!

একটা হাসপাতালে কত রঙ-বেরঙের পরিস্থিতি যে মোকাবেলা করতে হয়, তা যারা যেখানে থাকে তারাই ভাল জানে। সর্বাস্থায় সব পরিস্থিতিতে মাথা ঠান্ডা রেখে কাজ করাটা বেশ কঠিন! আমাদের দেশে তো আরো কঠিন, যেখানে সদা সর্বদা এই শ্রেণীকে চাপে রাখা হয়। পরিশ্রমের চেয়ে নামমাত্র বিনিময়ে ইচ্ছেমত খাঁটানো হয়। আর চুন থেকে পান খসলেই গালিটাও তাকেই দেয়া হয়। যেন সব দোষ এই নন্দঘোষেরই!

এই শ্রেণীর মানুষদের ধৈর্য্য বেশি। কারণ, অন্য সবাই যখন মোজ মাস্তিতে সময় কাটায়, তখন তাদের একঘেয়ে সময় কাটাতে হয় বিদঘুটে সব বইয়ের পাতা উল্টাতে উল্টাতে। আজ যদি বিভিন্ন মানসিক রোগের স্কোর নিয়ে এই শ্রেণীর উপর জরিপ চালানো হয়, তবে গ্যারান্টি দিয়ে বলছি সংখ্যাগুরুই পাওয়া যাবে হতাশ দুঃশ্চিন্তাগ্রস্ত, আরো কত সব মানসিক ব্যাধিতে আক্রান্ত।

এসব ক্লান্তি ছাপিয়ে তবুও তারা সেবা দেয়, মুখে ঝাড়ি, আচরণে যদি মারমুখিও হয় তবুও তাদের কলম চলে সেবার স্বার্থে। আমরা কখনো খুঁজি না, জানতেও চাই না, তার কষ্ট হচ্ছে কিনা বা তার কোন কষ্ট আছে কিনা। আমরা সবাই ব্যস্ত যে যার কষ্ট নিয়ে, কার আছে এত সময় খোঁজ নেয়ার ওই মানুষটি ঠিকমত খেয়েছে কিনা, ঘুমিয়েছে কিনা গত দু'দিন। দেখার মধ্যে দেখি কাকে সে মার দিল, ওরে বাবা ক্যাডার ডাক্তার! কারা তাকে দেখিয়ে দু পয়সা ভিজিট দিয়ে যায়, ওরে বাবা, ডাক্তার কসাই রে, শুধু টাকাই চেনে!

বাদ দিলাম এসব, সব কিছুর পরেও রোগীদের সাথে খারাপ আচরণ মোটেও কাম্য নয়। সব কিছুর যেমন নিয়ম আছে, ওই ছেলেটির অপরাধের শাস্তিও অন্যভাবে দেয়া যেত। পাবলিক যা দেখে তাই খায়, যা শোনে তাই বিশ্বাস করে।

এটিএম শামসুজ্জামান যে কতবার মারা গেলো, আর সে খবর যে কতবার শেয়ার হল তা দেখে অনুমেয় আমাদের আমজনতা আম পেলেই খায়, কোন কারণে কি ঘটলো তা তাদের না জানলেও চলে কারণ ইতোমধ্যে আমরাসহ সবাই মিলে তাদের মন ও মস্তিষ্কে এই তথ্য একদম গেঁথে দিয়েছি, ডাক্তার মানেই খারাপ, কসাই এক একটা!

আমরা সবাই যে ভাল তা কিন্তু মোটেও না। বহু ডাক্তার আছে আচার আচরণ কথা বার্তায় এক একটা....!! এর ভুঁড়িভুঁড়ি উদাহরণ আছে। ফরেনসিকের টিসি দাস স্যার বলেছিলেন, 'আমরা নাকি মানুষ হয়ে ঢুকি, আর বের হই ডাক্তার হয়ে! এই ডাক্তারদের সবাই আর তখন মানুষ থাকি না, কিছু হই অমানুষ!'

আর একটা বিষয় কি, আচরণ ও ব্যাবহারগত যে ত্রুটি তা কম কিন্তু কোয়াকদেরই, বেশিটা আমাদেরই। কারণ ওরা ব্যবহার দিয়ে রোগী ধরে, আর আমরা অনেকে ভাবি, কিসের কি ব্যবহার, কিসের সময় দিয়ে কথা বলা! যোগ্যতায় আমি সুপিরিয়র, পারি সব দু’মিনিটেই। রোগী এই সুপিরিয়র ডাক্তারের দু’মিনিটের জন্য হাহাকার করে, আর বের হয়েই পুরো ডাক্তার সমাজের গুষ্টি উদ্ধার করে, ডাক্তার সময় দেয় না, কিন্তু কতটাকা ভিজিট নেয়, টেস্ট দিয়ে কমিশন খায়। এ প্রফেশনের অধিকাংশই ভাল, খারাপ দেখবেন গুঁটিকয়েক। আর লোকে অল্প খারাপটাই মনে রাখে, ভুলে যায় ভাল সব!

পরিবর্তন কতটুকু কি আসবে জানি না। টুমোরো ইজ মিস্ট্রি, তাই সামনে কি হবে আল্লাহ মালুম, কিন্তু বর্তমানে যা হচ্ছে তাতে তরুন শ্রেণী বীতশ্রদ্ধ। হতাশার কালো মেঘ জমে জমে আকাশ অন্ধকার, সূর্যের তাপেও যেন অতিষ্ঠ গরম। উভয় সংকটে মাঝপথে এসে হাবুডুবু খাওয়া এ মানুষগুলো খড়কুটোর মত নিরুদ্দেশে ভেসে দিন পার করে, তাদের চোখে স্বপ্ন অনেক, এই বুঝি স্বপ্ন ছোয়া যায়, পরক্ষণেই এলেমেলো ঢেউ স্বপ্নকে তাড়িয়ে দেয় ওই দূরে...।

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
তুমি সবার প্রফেসর আবদুল্লাহ স্যার, আমার চির লোভহীন, চির সাধারণ বাবা
পিতাকে নিয়ে ছেলে সাদি আব্দুল্লাহ’র আবেগঘন লেখা

তুমি সবার প্রফেসর আবদুল্লাহ স্যার, আমার চির লোভহীন, চির সাধারণ বাবা

বেশিদিন ওমিপ্রাজল খেলে হাড় ক্ষয়ের ঝুঁকি বাড়ে 
কিডনি পাথরের ঝুঁকি বাড়ায় নিয়মিত অ্যান্টাসিড সেবন 

বেশিদিন ওমিপ্রাজল খেলে হাড় ক্ষয়ের ঝুঁকি বাড়ে 

ডাক্তার-নার্সদের অক্লান্ত পরিশ্রমের কথা মিডিয়ায় আসে না
জাতীয় হৃদরোগ ইন্সটিটিউটের সিসিউতে ভয়ানক কয়েক ঘন্টা

ডাক্তার-নার্সদের অক্লান্ত পরিশ্রমের কথা মিডিয়ায় আসে না