ঢাকা      মঙ্গলবার ২১, মে ২০১৯ - ৭, জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৬ - হিজরী



ডা. আতিকুর রহমান

এমিবিবিএস, এসএমসি
নন-ক্যাডার (৩৯তম বিসিএস)


৩৯তম বিসিএসের পোস্টমর্টেম

দেশের সকল খাতের উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় স্বাস্থ্যসেবাকেও যুগোপযোগী করে তুলতে অপ্রতুল জনবলের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এ খাতে ১০ হাজার চিকিৎসক নিয়োগের লিখিত নির্দেশনা প্রদান করেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তবে সেটি কত দিনের মাঝে কিংবা কয়টি বিসিএসের মাঝে নেয়া হবে তা উল্লেখ ছিল না। 

পরবর্তীতে যখন ৪ হাজার ৭৫০ জনের সার্কুলার হলো সেখানে উল্লেখ ছিল, প্রয়োজনে পদ সংখ্যা বাড়তে পারে। এরপর বিভিন্ন জায়গায় মন্ত্রীরা ৭ হাজার, ১০ হাজার ডাক্তার নিয়োগের আশ্বাস দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে ৩৯তম বিসিএসের সকল প্রার্থী নিয়োগের বস্তুনিষ্টতায় বিশ্বাস করেন। এমনকি ফলাফল প্রকাশের মাত্র দুদিন আগেও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উদ্ধৃতি দিয়ে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, ৭ হাজার চিকিৎসক চূড়ান্ত হয়ে গেছে এবং সেখানে ৬০ শতাং মেয়ে সুযোগ পেয়েছে। কিন্তু মাত্র দুদিনের মাথায় দেখা যায় পুরো উল্টো চিত্র।  সেখানে দেখা যায়, নিয়োগে ৪ হাজার ৭৫০ জনের জন্যই সুপারিশ করা হয় এবং ৬০ শতাং মেয়ে কথাটিও ভুল। আদতে মেয়ে ছিলো ৪০ শতাং এর কিছু বেশি। ৭ হাজার, ১০ হাজার নিয়োগের আশা নিয়ে বসে থাকা অনেক যোগ্য প্রার্থী ৪০তম বিসিএসেও ঠিকমতো বসতে পারেনি।  কারণ রেজাল্ট আর পরীক্ষার মাঝে মাত্র ২ দিনের ফারাক রাখা হয়। 

আর পদসংখ্যা অপ্রতুল এবং জন প্রশাসন মন্ত্রণালয়ের চাহিদাপত্র না পাওয়ার যুক্তি দেখিয়ে লিখিত-মৌখিকভাবে উত্তীর্ণ আট হাজার ৩৬০ জনকে নন-ক্যাডার নামক অনিশ্চিত ভবিষ্যতে ঝুলিয়ে রাখা হয়। 

এমতাবস্থায় কিছু প্রশ্ন থেকেই যায়:
১. পদ খালি না থাকলে ১০ হাজার চিকিৎসক নিয়োগের প্রস্তাবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর স্বাক্ষর কেনো আসলো?
২. বারবার মন্ত্রীগণ ৭ হাজার/দশ হাজারের আশ্বাসই বা কেনো দিলেন? 
৩. বাংলাদেশে বর্তমানে ২৬ হাজারের মতো চিকিৎসক সরকারিভাবে কাজ করেন। কিন্তু জনসংখ্যা অনুপাতে WHO এর ক্রাইটেরিয়া পূরণ করতে আরো ৫২ হাজার চিকিৎসকের প্রয়োজন পড়ে।  
৪. উন্নয়ন, অগ্রগতির সোনার বাংলায় শুধু স্বাস্থ্য সেক্টর কেন অবহেলিত থেকে যাচ্ছে চিরকাল? অসংখ্য হাসপাতালকে ৩১ বেড থেকে ৫০ বেড, ৫০ বেড থেকে ১০০ বেড, ১০০ বেড থেকে ২৫০ বেডে উন্নীত করা হলেও কোনো পদ সৃষ্টি না করেই গুটিকয়েক জনবলকে কলুর বলদের মতো খাটানো হচ্ছে। সঙ্গে চাকরি এবং সেবাদান থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে হাজারো মেধাবীকে।

উল্লেখ করা প্রয়োজন, কয়েকশ’ সরকারি হাসপাতালে অসংখ্য বেড সংখ্যা বাড়ানো হলেও জনবল কাঠামো রাখা হয়েছে আগের মতোই। প্রয়োজনীয় জনবলের পদ সৃষ্টি করা ছাড়াই পুরাতন কাঠামো অনুযায়ী ২০১৮-১৯ সালে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হাসপাতালের চিত্র তুলে ধরা হলো:

ইউনিয়ন সাব-সেন্টার এবং কমিউনিটি ক্লিনিক বাদ রেখেই বিভিন্ন মিডিয়ায় প্রাপ্ত তথ্য উপাত্ত অনুযায়ী জেলা ভিত্তিক চিকিৎসক সংখ্যার সর্বশেষ তথ্য (শয্যা সংখ্যা বাড়ানোর অনুপাতে নতুন পদ সৃষ্টি ছাড়াই বর্তমান পরিস্থিতি)

১. রাজশাহী (শূন্য পদ ১২০টি):
জেলা সিভিল সার্জন দপ্তরের দেয়া তথ্য অনুয়ায়ী, চিকিৎসক সংকট জেলার নয় উপজেলার ৭৬ ইউনিয়ন উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রেই। প্রত্যেক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে একজন করে সহকারী সার্জনের পদ রয়েছে। এর মধ্যে পবা উপজেলার নয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ৪টিতে, মোহনপুরের ৬ স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ৩টিতে, তানোরের ৮ স্বাস্থ্য কেন্দ্রের ৮টিতে, গোদাগাড়ীর ১১ স্বাস্থ্য কেন্দ্রের ৯টিতে, বাগমারার ১৭ স্বাস্থ্য কেন্দ্রের ১৭টিতে, দুর্গাপুর সাত স্বাস্থ্য কেন্দ্রের ৭টিতে, চারঘাটের ছয় স্বাস্থ্য কেন্দ্রের ৬টিতে, পুঠিয়ায় ৭ স্বাস্থ্য কেন্দ্রের ৭টিতে এবং বাঘার ৫ স্বাস্থ্য কেন্দ্রের ৩টিতেই চিকিৎসক নেই।

কেবল ইউনিয়ন উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রই নয়, উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতেও চিকিৎসক সংকট। জেলার বাঘা উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসকের পদ রয়েছে সবমিলিয়ে ২২টি। এখানে নেই জরুরি মেডিকেল অফিসার ও মেডিকেল অফিসার। শূন্য রয়েছে সার্জারি, গাইনি, মেডিসিন, এনেস্থেশিয়া, চক্ষু, হৃদরোগ, চর্ম ও যৌন এবং অর্থোপেডিক বিভাগের জুনিয়র কনসালটেন্ট পদও। 

জেলার পবা উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে রয়েছেন একমাত্র আবাসিক মেডিকেল অফিসার। এর বাইরে নয় উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে এই পদে কোনো চিকিৎসক নেই। নগরীর উপকণ্ঠ হওয়ায় পবা উপজেলার স্বাস্থ্যকেন্দ্রে কোনো চিকিৎসক পদ শূন্য নেই। কখনো খালিও থাকে না।

তবে রোগী উপস্থিতি নেই বললেই চলে এখানকার সাস্থ্যকেন্দ্রে। উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোর মধ্যে পুঠিয়ায় ৬, চারঘাটে ৬, দুর্গাপুরে ৭, বাগমারায় ৪, তানোরে ৭, মোহনপুর ও গোদাগাড়ীতে একজন করে চিকিৎসকের পদ শূন্য। আর এ নিয়েই সেবা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে এসব স্বাস্থ্যকেন্দ্র। 

রাজশাহী-চাঁপাইনবাবগঞ্জ মহাসড়কের দুর্ঘটনাপ্রবণ গোদাগাড়ীতে রয়েছে ৩১ শয্যা হাসপাতাল। প্রতিদিনই এখানে ঘটছে ছোট-বড় সড়ক দুর্ঘটনা। অথচ জরুরি অস্ত্রোপচারের জন্য এই হাসপাতালে নেই সার্জিক্যাল বিশেষজ্ঞ। ৯ চিকিৎসক পদ থাকলেও এখানে আবাসিক মেডিকেল অফিসারসহ আরো ৫ পদ শূন্য।

২. চাঁপাইনবাবগঞ্জ (ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ছাড়াই শূন্যপদ ৪২টি):
চাঁপাইনবাবগঞ্জে সরকারি পাঁচটি হাসপাতালে অর্ধেকের বেশি চিকিৎসকের পদ দীর্ঘদিন থেকে শূন্য। চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর হাসপাতাল ও চার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স মিলিয়ে ৭৯ চিকিৎসকের বিপরীতে কর্মরত আছেন ৩৭ জন। অর্ধেকের বেশি চিকিৎসক পদ শূন্য থাকায় কাঙ্খিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সাধারণ মানুষ।

সূত্রে জানা গেছে, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সরকারি আধুনিক হাসপাতালটি ১০০ শয্যার হলেও এর জনবল কাঠামো এখনো রয়ে গেছে ৫০ শয্যায়। তারপরও ৫০ শয্যার অনুমোদিত জনবল কাঠামোর ২১ জন চিকিৎসকের পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন ১১ জন। দীর্ঘদিন থেকে এখানে চোখের চিকিৎসক নেই, হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েও প্রাথমিক চিকিৎসাও এখানে মিলছে না। কারণ এ বিষয়েও কোনো বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নেই দীর্ঘদিন। এরই মধ্যে ১০০ শয্যা থেকে ২৫০ শয্যায় উন্নীত হতে যাচ্ছে হাসপাতালটি। ভবন নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে, খুব শিগগিরই এটি উদ্বোধন করা হবে।

এর বাইরে, শিবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সও একই রকম অবস্থা। এখানেও ২১ পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন ১১ জন চিকিৎসক। গোমস্তাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১৮টি পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন নয়জন চিকিৎসক। নাচোল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক আছেন চারজন। এখানে পদ সংখ্যা ১০টি। আর ভোলাহাটে নয় পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন মাত্র দুজন চিকিৎসক। চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর হাসাপাতালসহ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে সামান্যতম চিকিৎসা সেবা মিলছে না উল্লেখ করে চাঁপাইনবাবগঞ্জ নাগরিক কমিটির সদস্য সচিব মুনিরুজ্জামান মনির বলেন, ‘জেলা সদরের একটা হাসপাতালে একজন হার্টের চিকিৎসক নেই। অর্ধেক পদই শূন্য। একটু কিছু হলেই রাজশাহীতে স্থানান্তর করে দেয়। এ প্রবণতা এখানে সবচেয়ে বেশি। মনে হয় কোনো রকমে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দিতে পারলেই হয়। এ রকম অবস্থা চলে আসছে দীর্ঘদিন ধরে। এতে রোগীদের বাড়তি খরচ গুণতে হয়। অনেক সময় রাজশাহী যেতে যেতে রোগীর অবস্থার আরও অবনতি হয়। এমনকি অনেক সময় মারা যায় রোগী। এখনো সয়ংসম্পূর্ণ হতে পারল না আমাদের সরকারি হাসপাতালটি, এটা আমাদের কষ্ট বাড়ায়।’

চিকিৎসক সংকটের বিষয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জের সিভিল সার্জন সায়ফুল ফেরদৌস মুহা. খাইরুল আতাতুর্ক জানান, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর হাসপাতালটি ২৫০ শয্যায় উন্নীত হতে যাচ্ছে। অবকাঠামো নির্মাণকাজ শেষের পথে। ২৫০ শয্যার জন্য প্রযোজনীয় লোকবল কাঠামো প্রস্তুত করে পাঠানো হয়েছে। হাসপাতালটি উদ্বোধনের আগেই নতুন জনবল অনুমোদন পাওয়া যাবে। তখন চিকিৎসক সংকট অনেকাংশেই দূর করা সম্ভব হবে। সেইসঙ্গে বাড়বে সেবার মান। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে চিকিৎসক সংকট দূর করার পরিকল্পনার কথাও জানান সিভিল সার্জন।

৩. নাটোর (শূন্যপদ ৮৮টি):
নাটোর সদর হাসপাতাল ও ৬টি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বর্তমানে চিকিৎসকদের পদ শূন্য ৮৮টি।

৪. নওগাঁ ( শূন্যপদ ১৯০টি)
নওগাঁর ১১টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসকের ২৭৫টি পদের ১৯০টিই শূন্য। এ কারণে জেলায় চিকিৎসা সেবার নাজুক হয়ে পড়েছে। চিকিৎসাবঞ্চিত হচ্ছে গ্রামাঞ্চলের দরিদ্র সাধারণ মানুষ। নওগাঁ সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, জেলার ১১টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসকের ২৭৫টি পদের মধ্যে বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র ৮৫জন অর্থাৎ জেলায় ৬৯ দশমিক ১ শতাংশ চিকিৎসকের পদ শূন্য রয়েছে।

৫. পাবনা (৩ উপজেলার তথ্য না পেয়েও শূন্যপদ ৯৪টি):
আটঘরিয়া উপজেলায় ১০টি, ঈশ্বরদী উপজেলায় ৮টি, চাটমোহর উপজেলায় ২৯টি, সাঁথিয়া উপজেলায় ২৪টি, সুজানগর উপজেলায় ২৩টি। 

৬. বগুড়া (শূন্য পদ অগণিত): 
১১০টি ইউনিয়ন সেবা কেন্দ্রে ১১০ জন এমবিবিএস ডাক্তারের বিপরীতে রয়েছেন মাত্র ২৩ জন ডাক্তার। এজেলায় শূন্যপদ ৮৭টি। 
এগুলো হলো: গাবতলী উপজেলায় ১৭টি, আদমদিঘী উপজেলায় ১০টি, শেরপুর উপজেলায় ১৩টি,  সোনাতলা উপজেলায় ১৮টি, দুঁপচাঁচিয়ায় ১৫টি, বক্ষব্যাধি হাসপাতালে কোনো চিকিৎসক নেই। 

৭. জয়পুরহাট (শূন্য পদ ৮৫টি): 
৮. সিরাজগঞ্জ: 
সদর হাসপাতালে ৩১টি, রায়গঞ্জে ৮টি, উল্লাপাড়ায় ১৮টি। 
৯. কুষ্টিয়া: 
২৫০ শয্যা বিশিষ্ট কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসক সংকটে সেবা চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বারবার সরকারের উচ্চ পর্যায়ে বিষয়টি জানানোর পরও কোনো কাজ হচ্ছে না। চিকিৎসক না থাকায় দীর্ঘদিন যাবৎ ভোগান্তিতে আছে কুষ্টিয়াসহ পার্শ্ববর্তী চার জেলার মানুষ।

১৯৬৩ সালে স্থাপিত এ হাসপাতালের শুরুতে শয্যা সংখ্যা ছিল ১৫০। ২০০৫ সালে উদ্বোধন হলেও ২০১০ সালে হাসপাতালটিতে ২৫০ শয্যার কার্যক্রম শুরু হয়।

২০১১ সালে কুষ্টিয়া মেডিকেল স্কুলে (ম্যাটস) কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ চালুর দুই বছর পর কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালকে অস্থায়ী ভিত্তিতে মেডিকেল কলেজ হিসেবে ঘোষণা দেওয়া হয়। ফলে এখন শুধু কুষ্টিয়া নয় আশপাশের জেলা ঝিনাইদহ, মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা ও রাজবাড়ী জেলার মানুষ উন্নত চিকিৎসার জন্য আসে এ হাসপাতালে। কিন্তু সে অনুসারে বাড়েনি লোকবল এবং সেবার মান।

হাসপাতাল সূত্র বলছে, কুষ্টিয়া জেলায় একমাত্র হাসপাতাল হওয়ায় সমগ্র কুষ্টিয়াবাসীর একমাত্র ভরসা কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতাল। ২০০৭ সালে ২৫০ শয্যায় উন্নতি করা হলেও বাড়ানো হয়নি চিকিৎসকের সংখ্যা। অল্প সংখ্যক চিকিৎসকদের নিরলস পরিশ্রম আর আন্তরিকতায় সেবা দেয়া হচ্ছে বিশাল সংখ্যক রোগীদের। বহির্বিভাগে রোগীর সংখ্যা এক থেকে দেড় হাজার জন ও ভর্তি রোগী সাড়ে ছয়শ জন। এতো সংখ্যক রোগীর সেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের। এদিকে সেবা নিতে আসা রোগীরা বলছেন, অনেক সময় একজন ডাক্তার অনেক রোগী দেখেন। তাই সেখানে রোগীদের লম্বা সিরিয়াল থাকে সব সময়। যদি আরো ডাক্তার বাড়ানো হয় তাহলে সেবা পেতে আমাদের সুবিধা হয়। কারণ সকল বিভাগের সামনে সব সময় রোগীর লম্বা লাইন থাকে। কিন্তু অনেক সময় চিকিৎসক সকল রোগীকে দেখতে পারেনা না বা জরুরি রোগীরা ডাক্তার দেখাতে পারেন না। তাই অতিদ্রুত চিকিৎসক সংকট দূর করার দারি জানান তারা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের এক চিকিৎসক বলেন, দক্ষতা, নিরলস পরিশ্রম আর সৃজনশীল প্রতিভার মাধ্যমে অল্প সংখ্যক চিকিৎসক দিয়ে এই বিশাল জনগোষ্ঠীর চিকিৎসা সেবা দেওয়া হচ্ছে। আমরা রোগীদের সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার চেষ্টা করি। কিন্তু জনবল সংকটের কারণে সেবা দিতে হিমশিম খেতে হয়। তাই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের এই বিষয়ে দক্ষ জনবল বাড়ানোর জন্য হস্তক্ষেপ কামনা করেন এই চিকিৎসক।

১০. ঝিনাইদহ: শূন্যপদ ১৩৩টি। 
১১. চুয়াডাঙ্গা: শুধুমাত্র সদর হাসপাতালেই শূন্যপদ ৩৯টি। 
১২. মেহেরপুর: শূন্যপদ ৬৯টি। 
১৩. সাতক্ষীরা: শূন্যপদ ১৫০ এর অধিক। 
১৪. যশোর: শূন্য পদ ১২৯টি। 
১৫. খুলনা: শূন্যপদ ১২৬টি। 
খুলনা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মাসিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ১৭টি হাসপাতালে ৩০৮টি চিকিৎসক পদের মধ্যে ১২৬টিই শূন্য।

১৬. বাগেরহাট: শূন্যপদ ১০৬টি।  
জানা যায়, ১৯৭০ সালে ৫০ শয্যা নিয়ে এ হাসপাতালের যাত্রা শুরু হয়। পরে ১৯৯৭ সালে ১০০ শয্যায় উন্নীত করা হলেও ৫০ শয্যার জনবলে চলছে হাসপাতালের কার্যক্রম। আর বর্তমানে সেই ৫০ শয্যার জনবলও অর্ধেকে নেমে এসেছে। ফলে দিন দিন দুরাবস্থায় পড়ছে চিকিৎসা সেবা। ভয়াবহ এ চিকিৎসক সংকটের কথা বারবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও কোনো প্রতিকার পাওয়া যায়নি।
৫০ শয্যার লোকবল অনুযায়ী, হাসপাতালে ২৪ জন চিকিৎসকের ১১টি পদ শূন্য রয়েছে। এর মধ্যে কনসালট্যান্টের ১২টি পদের মধ্যে ৭টি এবং মেডিকেল অফিসারদের ১২টি পদের ৪টি পদ শূন্য রয়েছে। কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরও ১৭টি পদ শূন্য রয়েছে।

১৭. মাগুরায় ৬৬টি, নড়াইলে ৭৭টি, পিরোজপুরে ৯২টি, ভোলায় ১০৫টি, বরিশালে ৮৯টি, পটুয়াখালীতে ১৩৮টি, বরগুনায় ১১১টি, ঝালকাঠিতে ৪২টি, দিনাজপুরে ১০০টি, রংপুরে ৯২টি শূন্য পদ রয়েছে।  
২৭. গাইবান্ধার সদরে ৩১টি, গোবিন্দগঞ্জে ২৯টি ও অন্যান্য হিসাবের বাহিরে। 
২৮. কুড়িগ্রাম:
সদরে ২৮টি ও অন্যান্য উপজেলায় ৭০টি পদ শূন্য রয়েছে। 
২৯. লালমনিরহাট:
সদরে ২৩টি, আদিতমারী উপজেলায় ১৪টি ও  অন্য তিনটি উপজেলায় কমপক্ষে ৩৫টি পদ শূন্য রয়েছে।  
৩০. ঠাকুরগাঁও: 
শুধুমাত্র সদর হাসপাতালেই ২০ এর অধিক পদ শূন্য এবং অন্যান্য উপজেলায় চিকিৎসক নেই বললেই চলে। 
৩১. নীলফামারীঃ 
সদর হস্পিটালে ১১টি ও অন্যান্য উপজেলায় চিকিৎসক নেই বললেই চলে। 
৩২. পঞ্চগড়ঃ
সদরে ২৬টি, তেঁতুলিয় উপজেলায় ২৪টি পদ শূন্য। 
৩৩. ঢাকাঃ এখানে চিকিৎসক সংকট নেই বললেই চলে। ধামরাইয়ে শূন্য পদ ৫টি। 
৩৪. মুন্সিগঞ্জ:  
সিরাজদিখানে শূন্য পদ ১০টি, লৌহজংয়ে ১২টি ও সদরে শূন্য পদ ১৬টি
৩৫. মানিকগঞ্জ:
সদরে ৭টি, ঘিউর উপজেলায় ৫টি পদ শূন্য। 
৩৬. রাজবাড়ী সদরে ২৪টি ও গোয়ালন্দে ১৫টি পদ শূন্য। 
৩৭. শরীয়তপুরে ১২৮টি পদ শূন্য। 
৩৮. মাদারীপুর সদরে ১০টি, কালকিনিতে ৮টি, শিবচর উপজেলায় ২২টি শূন্যপদ রয়েছে। 
৩৯. ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালে ১৯টি, বোয়ালমারী উপজেলায় ১৭টি, ভাঙ্গা উপজেলায় ২৩টি, নগরকান্দা উপজেলায় ১৬টি পদ শূন্য। 
৪০. গোপালগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে ২৫টি, কোটলীপাড়া উপজেলায় শূন্যপদ ১৩টি। 
৪১. গাজীপুর গাজীপুর মেডিকেল কলেজে ১০০টি পদে জনবল প্রয়োজন। এছাড়া শ্রীপুর উপজেলায় ১৫টি পদ শূন্য, কাপাসিয়ায় ৪টি, টঙ্গীতে ১০টি পদ শূন্য। 
৪২. টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলায় ৮টি, নাগরপুরে ১৬টি, ভুঞাপুরে ২৫টি পদ শূন্য। 
৪৩. কিশোরগঞ্জে৮ ১৫০টি পদ শূন্য। 
৪৪. নারায়ণগঞ্জের খানপুর বিশেষায়িত হাসপাতালে শূন্য পদ ২৬টি, আড়াইহাজার উপজেলা কমপ্লেক্সে ৫ টি শূন্য পদ। 
৪৫. নরসিংদীর বেলাব উপজেলায় ১৫টি, পলাশ উপজেলায় ৫টি, ভৈরব উপজেলায় ১৪টি পদ শূন্য। 
৪৬. ময়মনসিংহে শূন্যপদ ১২০টি, নেত্রকোনায় ৬৩টি, শেরপুরে শূন্যপদ ৩৭টি, জামালপুরে ৪৮টি, সিলেটে ৯১টি, হবিগঞ্জে ১১১টি, সুনামগঞ্জে ১৬২টি, 
৫৩. মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলায় ২১টি, শ্রীমঙ্গলে ১৩টি, রাজনগরে ৫টি, ২৫০ শয্যা হস্পিটালে ২১টি পদ শূন্য।
৫৪. বি বাড়িয়ায় সরাইল উপজেলায় ১৫টি, নাসিরনগরে ১৬টি পদ শূন্য। 
৫৫. কুমিল্লায় ৫৭টি পদ শূন্য। 
৫৬. নোয়াখালীর সেনবাগে ১৭টি, কোম্পানিগঞ্জে ২০টি, সূবর্ণচরে ১৬টি, চাটখিলে ১৯টি পদ শূন্য রয়েছে। 

৫৭. ফেনী সদর হাসপাতালে ১৭টি, পশুরামপুরে ১৫টি, সোনাগাজীতে ১৮টি, উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রে ১৭টি
পদ শূন্য রয়েছে। 
৫৮. চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতালে ১৯টি, হাজীগঞ্জে ১৮টি, মতলব উত্তর উপজেলা কমপ্লেক্সে ৪টি, কচুয়ায় ১০টি পদ শূন্য। 
৫৯. লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে ৩টি, রায়পুরে ১৩টি, উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রে ২টি, রামগঞ্জে ৫টি, ইউনিয়ন সাব সেন্টারে ৯টি পদ শূন্য। 
৬০. চট্টগ্রামে ১৫০টি, রাঙ্গামাটিতে ৮১টি, খাগড়াছড়ি ৪৯টি, ৬৩. কক্সবাজারে ৯০টি এবং বান্দরবানে উল্লেখযোগ্য কোনো ডাটা সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি।

গণমাধ্যমের কল্যাণে প্রাপ্ত এসব পদ সংখ্যার আংশিক হেরফের হতে পারে এক স্থান থেকে আরেকস্থানে বদলীর কারণে। কিন্তু গত দু বছরে ৩৯তম বিসিএসসের আগে বড় কোনো নিয়োগ না হওয়ায় মোট সংখ্যার তেমন কোনো হেরফের হবে না। এর বাইরে পড়ে রয়েছে ১৬ হাজার চিকিৎসকহীন কমিউনিটি ক্লিনিক, পড়ে রয়েছে আরো অসংখ্য ইউনিয়ন সাব সেন্টার, না জানা আরো অনেক উপজেলা হেলথ কমপ্লেক্স।

বেড সংখ্যা বাড়ানোর অনুপাতে প্রয়োজনীয় সংখ্যক পদ সংখ্যা বাড়ালে একদিকে যেমন রোগীরা তাদের কাঙ্ক্ষিত সেবা পাবে, ঠিক তেমন সেবাদান, সরকারী চাকরি লাভ থেকে বঞ্চিত হবে না কোনো মেধাবী চিকিৎসক। বিষয়গুলো দ্রুত সমাধানে বিশ্ব মানবতার রোল মডেল, সোনার বাংলার রূপকার জননেত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপের কোনো বিকল্প নেই।

সংবাদটি শেয়ার করুন:

 


পাঠক কর্নার বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

৩৯তম বিসিএসের নন-ক্যাডারদের দাবি, বিপক্ষ মতের যুক্তিখণ্ডন

৩৯তম বিসিএসের নন-ক্যাডারদের দাবি, বিপক্ষ মতের যুক্তিখণ্ডন

যুক্তি-১ বিপক্ষ মতের কাউকে কাউকে বলতে শোনা যায়, একসঙ্গে এত চিকিৎসক নিয়োগের…

‘প্রধানমন্ত্রীর স্বদিচ্ছা সত্ত্বেও নিয়োগবঞ্চিত নন-ক্যাডার চিকিৎসকরা’

‘প্রধানমন্ত্রীর স্বদিচ্ছা সত্ত্বেও নিয়োগবঞ্চিত নন-ক্যাডার চিকিৎসকরা’

জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে টানা তৃতীয়বার ক্ষমতায় আসার আগের দুই মেয়াদে আওয়ামী…

নিরাপত্তাহীনতায় কর্মস্থল বদল

নিরাপত্তাহীনতায় কর্মস্থল বদল

যায় দিন ভাল, আসে দিন খারাপ! জানি না আর কি কি খারাপ…

শিশুদের উচ্চ রক্তচাপঃ এক অবহেলিত অধ্যায়

শিশুদের উচ্চ রক্তচাপঃ এক অবহেলিত অধ্যায়

শিশুদের রক্তচাপ মাপতে গেলেই রোগীর বাবা-মা সবসময়ই যে প্রশ্নটি করেন সেটি হল…

দেশে ক্যান্সার চিকিৎসার বাস্তবতা ও আমার কিছু অভিজ্ঞতা

দেশে ক্যান্সার চিকিৎসার বাস্তবতা ও আমার কিছু অভিজ্ঞতা

আমার মা ২ সপ্তাহ আগে মারা গেছেন। উনি গত আড়াই বছর ধরে…

চিকিৎসক জীবনের সবচেয়ে মধুর সম্বোধন!

চিকিৎসক জীবনের সবচেয়ে মধুর সম্বোধন!

খবর: ‘দিদি’ বলে সম্বোধন করায় সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) সঞ্চিতা…

আরো সংবাদ














জনপ্রিয় বিষয় সমূহ:

দুর্যোগ অধ্যাপক সায়েন্টিস্ট রিভিউ সাক্ষাৎকার মানসিক স্বাস্থ্য মেধাবী নিউরন বিএসএমএমইউ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঢামেক গবেষণা ফার্মাসিউটিক্যালস স্বাস্থ্য অধিদপ্তর