ঢাকা      শুক্রবার ১৯, জুলাই ২০১৯ - ৪, শ্রাবণ, ১৪২৬ - হিজরী



ডা. মো. ফজলুল কবির পাভেল

সহকারী সার্জন, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল


গাউট বা গেঁটেবাত

আমাদের শরীরে রক্তের মধ্যে ইউরিক এসিড নামে এক প্রকার উপাদান থাকে। এই ইউরিক এসিডের মাত্রা বেড়ে গেলে বিভিন্ন অস্থি-সন্ধি বা জয়েন্টে প্রদাহ হয়। এই প্রদাহকে গাউট বা গেঁটেবাত বলা হয়। ছেলেদের এই অসুখ বেশি হয়। যারা আর্থিকভাবে সচ্ছল তাদের এই রোগে আক্রান্ত হবার ঝুঁকি বেশি।

বিভিন্ন কারণে এই সমস্যা দেখা দেয়। এসব কারণের মধ্যে আছেঃ

১. দেহের অতিরিক্ত ওজন

২. প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার বেশি গ্রহণ 

৩. মদ্যপান

৪. কিডনির অসুখ

৫. জেনেটিক বা পারিবারিক 

৬. পলিসাইথেমিয়া বা লোহিত রক্ত কণিকা বেড়ে যাওয়া 

৭. বিভিন্ন ওষুধের ব্যবহার 

৮. হিমোলাইটিক এনিমিয়া ইত্যাদি । 

গাউটে বিভিন্ন উপসর্গ দেখা যায়। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই পায়ের বুড়ো আঙুলের গোড়া ফুলে লাল হয়ে যায়। ভয়াবহ ব্যাথা হয়। রোগী আক্রান্ত স্থান হাত দিতেই দেয়না। অন্যান্য জয়েন্টও ফুলে যেতে পারে এবং হাড় ও তরুণাস্থি ক্ষয় হতে থাকে। মনোসোডিয়াম ইউরেট মনোহাইড্রেট নামে এক ধরণের ক্রিস্টাল জয়েন্টে জমে জয়েন্ট ফুলে যায়। জয়েন্টের স্বাভাবিক কর্মক্ষমতা আস্তে আস্তে হারাতে থাকে।

ভালভাবে রোগের ইতিহাস নিয়ে, রোগীকে শারীরিক পরীক্ষা করে এবং কিছু টেস্টের মাধ্যমে সহজেই এ রোগ নির্ণয় করা যায়। ল্যাবরেটরি টেস্টের মধ্যে রক্তে ইউরিক এসিডের লেভেল দেখা হয়। জয়েন্ট থেকে সাইনোভিয়াল ফ্লুইড বের করে অ্যানালাইসিস করলে মনোসোডিয়াম ইউরেট মনোহাইড্রেট ক্রিস্টাল পাওয়া যায়। এটি পেলে গাউট রোগ নিশ্চিতভাবে ডায়াগনোসিস করা যায়। এ ছাড়া আক্রান্ত জয়েন্টের এক্স-রে করা হয়। এর ফলে অন্য কোন রোগ আছে কিনা তাও বোঝা যায়।

হঠাৎ গাউটে আক্রান্ত হলে ননস্টেরয়েডাল এন্টিইনফ্লামেটরি ড্রাগ যেমন: ন্যাপ্রোক্সেন, ডাইক্লোফেনাক, ইনডোমেথাসিন দিয়ে চিকিৎসা করা হয়। এসব ওষুধ ব্যথা নিরাময়ে ভূমিকা রাখে। মুখে খাওয়ার ওষুধ কলচিসিন ব্যাথা কমাতে খুব কার্যকর। তবে এই ওষুধে বমি ও ডায়রিয়া হতে পারে। তীব্র ব্যথার সময় আক্রান্ত জয়েন্ট থেকে ফ্লুয়িড বা তরল পদার্থ বের করে আনলে রোগী আরাম বোধ করেন। অনেক সময় জয়েন্টে ইনজেকশনের সাহায্যে স্টেরয়েডও দেয়া লাগতে পারে।

রক্তে ইউরিক এসিডের পরিমাণ স্বাভাবিক মাত্রার চেয়ে বেড়ে গেলে, তা জয়েন্টে জমা হয়ে গেঁটে বাত হয়। খাসির মাংস বা লাল জাতীয় মাংস কম খেতে হবে। এছাড়া শিম, মটরশুটি, মাশরুম, মাছের ডিম, কলিজা, অ্যালকোহলের বেশি খেলে রক্তে ইউরিক এসিডের পরিমান বাড়তে পারে। তাই এসব খাবার কম খেতে হবে। ইউরিক এসিড কমানোর বিভিন্ন ওষুধ পাওয়া যায়। চিকিৎসক প্রয়োজন মনে করলে সেসব দিয়ে থাকেন।

গাউট খুব পরিচিত অসুখ। তাই এই অসুখের ব্যাপারে সবারই সচেতনতা দরকার।

সংবাদটি শেয়ার করুন:

 


স্বাস্থ্য বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

জন্ডিস প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় সতর্কতা

জন্ডিস প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় সতর্কতা

জন্ডিস নিজে কোন রোগ নয়। এটি রোগের উপসর্গ। লিভারে প্রদাহ বা হেপাটাইটিস…

যেভাবে বিপদজনক হয়ে উঠছে ডেঙ্গু!

যেভাবে বিপদজনক হয়ে উঠছে ডেঙ্গু!

ডেঙ্গু (Dengue) যে ভাইরাস (virus) দিয়ে হয় তার নাম Dengue virus. এই…

ডেঙ্গুজ্বর আতঙ্ক: কারণ ও করনীয়

ডেঙ্গুজ্বর আতঙ্ক: কারণ ও করনীয়

ইদানিং দেশের ভয়াবহ মৃত্যুর আতঙ্কের অপর নাম ডেঙ্গু জ্বর। এ জ্বরে মানুষ…

রক্তে কোলেস্টেরল: প্রতিরোধের উপায় কি?

রক্তে কোলেস্টেরল: প্রতিরোধের উপায় কি?

শরীরের চর্বি বা কোলেস্টেরল নিয়ে নানা ধরণের ভুল ধারণা আমাদের মধ্যে আছে।…

ক্যান্সার আক্রান্তের যতসব কারণ

ক্যান্সার আক্রান্তের যতসব কারণ

ক্যান্সার হলে আর রক্ষা নেই এ কথা বহুল প্রচলিত। যদিও বর্তমানে অনেক…



জনপ্রিয় বিষয় সমূহ:

দুর্যোগ অধ্যাপক সায়েন্টিস্ট রিভিউ সাক্ষাৎকার মানসিক স্বাস্থ্য মেধাবী নিউরন বিএসএমএমইউ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঢামেক গবেষণা ফার্মাসিউটিক্যালস স্বাস্থ্য অধিদপ্তর