ঢাকা      মঙ্গলবার ২১, মে ২০১৯ - ৭, জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৬ - হিজরী



ডা. আশরাফুল হক

মেডিকেল অফিসার,

এমআইএস, ডিজিএইচএস


রমজানে রক্তদান

রক্তের কোনও বিকল্প এখনও বের হয়নি। রক্তের যখন প্রয়োজন হয় তখন সাময়িকভাবে অন্য কিছু দিয়ে হয়ত রক্তের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হয়, কিন্তু রক্ত গ্রহন করা অপরিহার্য হয়ে থাকে। কার কখন রক্তের প্রয়োজন হয় তা আমরা কেউ বলতে পারি না। হঠাৎ কোনও দুর্ঘটনায় পতিত হলে বা এরকম নানা কারণেই যে কোন সময়ে রক্তের প্রয়োজন হতে পারে। সাধারণ অবস্থায়, একজন প্রাপ্ত বয়স্ক সুস্থ মানুষ বছরে তিনবার রক্ত দান করতে পারেন (মহিলাদের ক্ষেত্রে বছরে দুই বারের বেশী দান করা উচিত নয়)।

রোজার মাসে যদি কারও রক্তের প্রয়োজন হয়, তবে রক্তদাতার থেকে রক্ত কখন গ্রহন করা উচিত? রক্ত দিলে কি রোজা ভাঙ্গে? এমন অনেক প্রশ্ন আমাদের মনে থাকে। প্রথম কথা হলো, রোজারত অবস্থায় রক্তদান করলে রোজা ভাঙ্গে না। এই ব্যাপারে পরিষ্কার নির্দেশনা রয়েছে। একজন মুমূর্ষু রোগীর জন্য রক্ত দান করে তার জীবন রক্ষায় অবদান রাখলে এর থেকে সওয়াব আর কী হতে পারে?

এখন কথা হলো, রক্ত কখন দেওয়া যাবে? সাধারন নিয়ম হলো রক্ত দান করার জন্য কমপক্ষে চার ঘন্টার মাঝে ভারি কিছু খাওয়া উচিত। খাওয়ার হজম হওয়ার সময় না পেলে শরীরে গ্লুকোজের তারতম্য দেখা যায়। যার ফলে রক্ত দানের পরে মাথা ঝিমঝিম লাগা, অবসাদ ইত্যাদি দেখা দিতে পারে। আবার রক্ত দান করার কিচ্ছুক্ষণ আগে খাবার খেলে বা রক্তদানরত অবস্থায় খাবার গ্রহন করলে, পাকস্থলীতে রক্ত প্রবাহ কমে যায়, ফলে বমি বমি ভাব হওয়া বা কারও ক্ষেত্রে বমিও হতে পারে।

এসব বিষয় খেয়াল করলে রক্ত দানের উপযুক্ত সময় আসলে সেহরি খাওয়ার নিকটবর্তী সময় অথবা ইফতারের ২-৩ ঘণ্টা পর হলে ভালো হয়।

রক্তের কোন উপাদান জরুরি সেটাও একটা হিসাবের বিষয়। কারণ Platelet এর প্রয়োজন হলে খাদ্য গ্রহনের চার ঘণ্টার মাঝে রক্তে Chylomicron এর পরিমান বেশী থাকে, যা Platelet এর স্বাভাবিক কাজের ব্যাঘাত ঘটায়। তাই Apheresis Platelet নেওয়ার প্রয়োজন হলে তা অবশ্যই ইফতারের চার ঘণ্টার পর দেওয়া উচিত। তাহলে মনে হতে পারে, এক লিটার পানি খেয়ে এফেরেসিস রক্ত দিয়ে দিলাম।

মনে রাখা দরকার, Apheretic Platelet গ্রহন করার জন্য এফেরেসিস মেশিন ডোনারের শরীরের বলতে গেলে সমগ্র রক্তই ছেঁকে ফেলে, তাই সারাদিন রোজা পালন করে শুধু পানি খেয়ে রক্ত দিতে গেলে রক্ত মেশিনের মাঝেই ভেঙ্গে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

আমাদের দেশে নিরাপদ রক্ত পরিসঞ্চালনের আইন রয়েছে। সেই আইনের মাঝে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে ডোনার বা রক্ত দাতাকে। রক্তের যেহেতু বিকল্প নেই, তাই ডোনার ঠিক মত রক্ত দান করলেই কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য পুরণ সম্ভব।

সংবাদটি শেয়ার করুন:

 


স্বাস্থ্য বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

নাকের এলার্জিতে করণীয়

নাকের এলার্জিতে করণীয়

এলার্জিক রাইনাইটিস অথবা নাকের এলার্জি নাকের একটি এলার্জি জনিত সমস্যা যাতে নাকের…

পরিবারের কারও রক্ত নিলে যে রোগের শংকা!

পরিবারের কারও রক্ত নিলে যে রোগের শংকা!

রক্ত জীবন বাচায়,রক্তেই জীবন যায়।  হ্যাঁ, নিজ পরিবারের (বাবা, মা, সন্তান, ভাইবোন)…

গাউট বা গেঁটেবাত

গাউট বা গেঁটেবাত

আমাদের শরীরে রক্তের মধ্যে ইউরিক এসিড নামে এক প্রকার উপাদান থাকে। এই…

মাথাব্যাথা হলেই মাইগ্রেন নয়

মাথাব্যাথা হলেই মাইগ্রেন নয়

মাথাব্যথা হলেই অনেকে মাইগ্রেন ভেবে নেন। এমন ধারণা আমাদের মধ্যে অনেকেরই আছে।…

গর্ভকালীন ডায়াবেটিস, সম্ভাব্য জটিলতা ও প্রতিকার

গর্ভকালীন ডায়াবেটিস, সম্ভাব্য জটিলতা ও প্রতিকার

গর্ভাবস্থায় যে কোনো সময়ে ডায়াবেটিস শুরু হলে বা প্রথমবারের মত ধরা পড়লে…



জনপ্রিয় বিষয় সমূহ:

দুর্যোগ অধ্যাপক সায়েন্টিস্ট রিভিউ সাক্ষাৎকার মানসিক স্বাস্থ্য মেধাবী নিউরন বিএসএমএমইউ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঢামেক গবেষণা ফার্মাসিউটিক্যালস স্বাস্থ্য অধিদপ্তর