ঢাকা      মঙ্গলবার ২১, মে ২০১৯ - ৭, জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৬ - হিজরী

‘জনগণকে দেয়া প্রতিশ্রুতিই আমাকে হাসপাতালে টেনে নিয়ে যায়’

মেডিভয়েস ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী হয়েও নিজের মূল পেশাকে ছাড়তে পারেননি লোটে শেরিং। প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর থেকেই ছুটির দিনে রোগীদের চিকিৎসা সেবা করতে পছন্দ করেন তিনি। অতি সম্প্রতি দেশটির ‘জিগমে দরজি ওয়াংচুক হাসপাতালে’ এক রোগীর সফল সার্জারি সম্পন্ন করলেন তিনি। এ ব্যাপারে তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে সাধারণ জনগণকে স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে যেসব প্রতিশ্রুতি তিনি দিয়েছিলেন, সেগুলো পূরণ করার তাগিদই তাঁকে প্রতি সপ্তাহে হাসপাতালে টেনে নিয়ে যায়।

সম্প্রতি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম এএফপির খবরে জিগমে দর্জি ওয়াংচুক ন্যাশনাল রেফারেল হাসপাতালের শনিবারের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।

খবরে দেখা যাচ্ছে, লোটে এক রোগীর মূত্রনালির অপারেশন করে সবে ফিরলেন। হাসপাতালের সবাই যে যার মতো ব্যস্ত। আলাদা করে লোটের দিকে কারও নজর নেই। তিনি যে দেশটির প্রধানমন্ত্রী তা বোঝার কোনো উপায় নেই। অ্যাপ্রোন পরিহিত লোটে হাসপাতালের করিডরে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন।

এ ব্যাপারে লোটে বলেন, ছুটির দিনে কেউ গলফ খেলেন, কেউ আরচারি খেলেন। কিন্তু আমি এই দিনটিকে চিকিৎসাসেবার জন্য বেছে নিয়েছি। হাসপাতালে কর্মব্যস্ততার মধ্য দিয়ে আমার মানসিক চাপ কমে।

পরিবারকে সময় দেন প্রতি রোববার। শনিবার রোগীদের চিকিৎসা তো করেনই, বৃহস্পতিবার সকালে প্রশিক্ষণার্থী চিকিৎসকদের পরামর্শও দেন দেশটির অন্যতম সেরা শল্যবিদ হিসেবে পরিচিত শেরিং। এমনকি প্রধানমন্ত্রীর জন্য বরাদ্দকৃত তাঁর অফিসের চেয়ারের পেছনেও তাঁর ল্যাব কোট ঝুলে থাকে সপ্তাহজুড়ে।

তিনি বলেন, এই অ্যাপ্রোন সবার স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির কথা আমাকে মনে করিয়ে দেয়। হাসপাতালে আমি রোগীদের স্ক্যান করি, সেবা দিই। সরকারে আমি রাজনীতির স্বাস্থ্য স্ক্যান করি ও সেটিকে আরও ভালো করার চেষ্টা করি।

সাম্প্রতিক সময়ে স্বাস্থ্য খাতে ব্যাপক উন্নতি হয়েছে ভুটানের। মানুষের গড় আয়ু বেড়েছে, শিশুমৃত্যুর হার কমে এসেছে অনেকটাই। অনেক ছোঁয়াচে রোগও দূর হয়েছে। কিন্তু তার পরও শেরিং বলছেন, স্বাস্থ্য খাতে এখনো অনেক কিছু করার আছে তাঁর সরকারের। বিশেষ করে মদ্যপান ও ডায়াবেটিসের হার কমিয়ে আনাকে প্রাধান্য দিতে চান শেরিং।

লোটে শেরিংয়ের অস্ত্রোপচার করার দৃশ্য এখন হাসপাতালের বাকিদের কাছেও বেশ পরিচিত। তিনি চিকিৎসাশাস্ত্রে বাংলাদেশ, জাপান, অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। 

৪০ বছর বয়সী এক রোগী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী নিজে আমার অস্ত্রোপচার করেছেন। দেশের অন্যতম সেরা চিকিৎসক বলে তাঁর সুনাম আছে। তিনি আমার অস্ত্রোপচার করেছেন, এখন আমি নিশ্চিন্ত।’

৫০ বছর বয়সী লোটে শেরিং ২০১৩ সালে তাঁর রাজনৈতিক ক্যারিয়ার শুরু করেন। কিন্তু সেই বছর নির্বাচনে জিততে পারেননি তিনি। পরে গত তিনি বছর দেশটির প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। প্রায় সাড়ে সাত লাখ মানুষের দেশ ভুটানে ২০০৮ সালে রাজতন্ত্রের অবসান হয়। এরপর অনুষ্ঠিত তৃতীয় নির্বাচনে জিতে ভুটানের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নিয়েছেন লোটে শেরিং।

সংবাদটি শেয়ার করুন:

 


আন্তর্জাতিক বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

পাকিস্তানে প্র্যাকটিস করেন না ৮৫ হাজার নারী চিকিৎসক 

পাকিস্তানে প্র্যাকটিস করেন না ৮৫ হাজার নারী চিকিৎসক 

মেডিভয়েস ডেস্ক: পাকিস্তানে ৮৫ হাজার নারী চিকিৎসাবিদ্যায় ডিগ্রি অর্জন করেও প্র্যাকটিস (চিকিৎসাসেবা দেয়া)…

আরো সংবাদ














জনপ্রিয় বিষয় সমূহ:

দুর্যোগ অধ্যাপক সায়েন্টিস্ট রিভিউ সাক্ষাৎকার মানসিক স্বাস্থ্য মেধাবী নিউরন বিএসএমএমইউ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঢামেক গবেষণা ফার্মাসিউটিক্যালস স্বাস্থ্য অধিদপ্তর