ঢাকা      শুক্রবার ১৯, জুলাই ২০১৯ - ৪, শ্রাবণ, ১৪২৬ - হিজরী



অমিত ঘোষ

শিক্ষার্থী, তায়রুন্নেছা মেমোরিয়াল মেডিকেল কলেজ। 


অমেরুদণ্ডী থেকে মেরুদণ্ডী প্রাণীতে রুপান্তরের প্রয়াস!

ডাক্তার বলতেই চিরাচরিত রীতি অনুযায়ী আমাদের চোখের সামনে ভেসে উঠে এমন একটা শ্রেণী, যাদের দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়া তো দূরের কথা দেয়াল ভেঙ্গে পেছনে চলে গেলেও মুখে ‘টু’ শব্দটি করবে না। বিস্তারিত বিবরনে না গিয়ে শুধু এইটুকু বলি, ডাক্তার মানে হবে- সর্বংসহা।

মানবাধিকার থেকে শুরু করে ন্যায় অন্যায়, অনিয়ম-দূর্নীতি কোন কিছু নিয়েই এরা কথা বলতে পারবেনা। মানে বলতে দেয়া হবেনা। রোগীর লোকজন মেরে হাত ভেঙে দিলেও ভাঙা হাত নিয়েই সেই রোগীর চিকিৎসা দিতে হবে, বিচারের তো প্রশ্নই উঠে না।

হ্যাঁ, এমন চিকিৎসক প্রজাতি দেখেই আমরা অভ্যস্ত। এসব কারনে পেশাগত বিভিন্ন ফোরামেও আমরা নিজেরা নিজেদেরকে অমেরুদণ্ডী বলে থাকি। কিন্তু, বাঙালী তো বীরের জাতি। সেই বীরের জাতি হয়ে একটি নির্দিষ্ট পেশার লোকজন অমেরুদণ্ডী প্রাণীর মতো আচরণ করবে, এটা তো হতে দেয়া যায়না। এতোদিনেও যেহেতু এরা পাল্টায়নি, তাই এবার এদেরকে রুপান্তরের চেষ্টা করা হচ্ছে একটু ভিন্ন কৌশলে!আর সেই চেষ্টাটা বেশ জোরেশোরেই শুরু হয়েছে, মোটামুটি আমাদের ব্যাচ/জেনারেশন থেকে।

বুঝলেন না তো..! ওকে, উদাহরনসহ বুঝিয়ে দিচ্ছি:

১. আমাদের সময়ই হঠাৎ করে শুনলাম, মেডিকেলে ভর্তি পরীক্ষা সেকেন্ড টাইম দেয়া যাবেনা। তারচেয়েও তাড়াতাড়ি জানলাম, এই সিদ্ধান্ত নাকি কার্যকরও হয়ে গেছে। -অতঃপর আন্দোলন এবং আগের নিয়ম পুনর্বহাল।

২. একদিন হুট করে শুনলাম, "ক্যারিওন সিষ্টেম" আর থাকবেনা। থাকবেনা মানে অলরেডী বাতিল করে দেয়া হয়েছে। -অতঃপর আন্দোলন এবং আগের নিয়ম পুনর্বহাল।

৩. মেডিকেল ভর্তিপরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস। এটা অবশ্য হঠাৎ নয়, মোটামুটি নিয়মিতই ছিলো এবং আরও নিয়মিত ছিলো কর্তৃপক্ষের অস্বীকার করাটা। -অতঃপর আন্দোলন এবং এখন ঠিকঠাক।

৪. আগেই বলেছি, ডাক্তার মার খাবে এটাই নিয়ম। কিন্তু, হঠাৎ করেই সেই নিয়ম ভেঙ্গে ফেলেন বগুড়া মেডিকেল কলেজের তৎকালীন ইন্টার্ন চিকিৎসকগন। একজন মহিলা ইন্টার্ন চিকিৎসককে অত্যন্ত নোংরা ভাষায় কথা বলার পরও তৎকালীন স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কাছের লোক পরিচয়ে হুমকি দিয়ে চিকিৎসকদের আক্রমণ করতে গেলে এবার চিকিৎসকেরাই উল্টো ধোলাই দেন।

তারপরের ঘটনা আমরা সবাই জানি, সেই ইন্টার্ন চিকিৎসকদেরকে ৬ মাসের জন্য ইন্টার্নশিপ স্থগিতসহ পরবর্তীসময়ে বিভিন্ন জায়গায় বদলী করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। -অতঃপর আন্দোলন এবং যথারীতি এবারও সব ঠিকঠাক।

তাহলে এখন বুঝতে পারছেন তো, গাছের গোড়া কেটে আগায় কেন পানি ঢালা হচ্ছে, মানে কোন ধরনের পরিকল্পনা ছাড়া কোন ধরনের সম্পূরক ব্যবস্থা না নিয়ে হঠাৎ করেই ইন্টার্নিশিপ ২ বছর করার কথা চলছে কেন...!

এরপরও না বুঝলে আমি আর কিছুই বলতে পারবোনা, ওস্তাদের নিষেধ আছে। তার ওপর আছে মূর্খ মানুষের গালির ভয়। মূর্খ মানুষের গালি এমন তিতার তিতা, যে খাইছে সে-ই জানে। তারপরও বলা রইলো, কারো খুব বেশী খারাপ লাগলে আমাকে আপনাদের লোক মনে করে মাফ করে দিবেন। কারণ-

দেশের মেডিকেল সেক্টরটা নিয়ে আপনারা সবাই তো আসলে মজাই করতেছেন, আমিও না হয় একটু করলাম!

সংবাদটি শেয়ার করুন:

 


পাঠক কর্নার বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ভয়াবহ বিপর্যয়ের দিকে যাচ্ছে

স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ভয়াবহ বিপর্যয়ের দিকে যাচ্ছে

হাসপাতালের সকলে মিলে সমাজকে অনেক কিছুই দিতে পারে। সাধারণত যে মানুষ যেভাবে…

মেডিকেল সায়েন্স গবেষণায় ইরানের এগিয়ে চলার গল্প 

মেডিকেল সায়েন্স গবেষণায় ইরানের এগিয়ে চলার গল্প 

যতদিন যাচ্ছে ইরানের মেডিকেল সায়েন্স গবেষণায় যুক্ত হচ্ছে অভূতপূর্ব সব অবিষ্কার। বিশ্ব…

বিদেশে চিকিৎসা: শোনা কথায় কান দিবেন না

বিদেশে চিকিৎসা: শোনা কথায় কান দিবেন না

যখন গাইনী আউটডোরে চাকরি করি তখন এক জুনিয়র এসে বলল "আপু তোমরা abnormal…

সাইমন্ড্স ডিজিজ রোগ ও তার প্রতিকার

সাইমন্ড্স ডিজিজ রোগ ও তার প্রতিকার

আমাদের মাথার ভেতরে পিটুইটারি গ্রন্থির অবস্থান। পিটুইটারি গ্রন্থি থেকে নানা রকম হরমোন…



জনপ্রিয় বিষয় সমূহ:

দুর্যোগ অধ্যাপক সায়েন্টিস্ট রিভিউ সাক্ষাৎকার মানসিক স্বাস্থ্য মেধাবী নিউরন বিএসএমএমইউ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঢামেক গবেষণা ফার্মাসিউটিক্যালস স্বাস্থ্য অধিদপ্তর