০৯ মে, ২০১৯ ০১:৪৬ পিএম

নার্সকে গণধর্ষণের পর হত্যার প্রতিবাদে রাজধানীতে বিক্ষোভ

নার্সকে গণধর্ষণের পর হত্যার প্রতিবাদে রাজধানীতে বিক্ষোভ

মেডিভয়েস রিপোর্ট: কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে চলন্ত বাসে ইবনে সিনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স শাহিনুর আক্তার তানিয়াকে (২৪) গণধর্ষণের পর হত্যার বিচার দাবিতে রাজধানীতে ফের বিক্ষোভ সমাবেশ ও মানববন্ধন করেছেন ডাক্তার, নার্স ও শিক্ষার্থীরা৷

বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টায় কল্যানপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় সমবেত হয়ে তারা বিক্ষোভ ও মানববন্ধন পালন করেন৷ এসময় তারা কালো ব্যাজ ধারণ করেন৷

মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন ইবনে সিনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অধ্যক্ষ ও ভারপ্রাপ্ত পরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. নজরুল ইসলাম, অধ্যাপক ডা. মাহফুজুর রহমান খান চৌধুরী, অধ্যাপক ডা. মো. রফিকুল ইসলাম, অধ্যাপক ডা. ফারহানা দোওয়ান, অধ্যাপক ডা. নাজলিমা নারগিস, অধ্যাপক মেজর (অব.) ডা. মো. আনোয়ার হোসেন, সহকারী অধ্যাপক ডা. আব্দুল্লাহিল কাফী, সহকারী অধ্যাপক ডা. আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ, নার্সিং ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ আসিয়া বেগম ও নার্সিং সুপার আফরোজা বেগমসহ আরও অনেকে।

অধ্যাপক নজরুল ইসলাম বলেন, দেশে নারীদের নিরাপদ চলাচলের পরিবেশ নেই৷ নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং নিহত তানিয়ার দ্রুত বিচার দাবী করেন তিনি৷

প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে অধ্যাপক ডা. রফিকুল ইসলাম বলেন, যে দেশে প্রধানমন্ত্রী নারী, স্পিকার নারী সে দেশে এহেন নারী নিপীড়ন ও হত্যাকাণ্ড লজ্জাজনক ঘটনা৷ তিনি দ্রুত বিচার দাবী করেন৷

অধ্যাপক ডা. ফারহানা দেওয়ান বলেন, তানিয়া আমাদের সহকর্মী ছিলো৷ প্রতিদিন তার সাথে দেখা হলে হাসিমুখে খোজখবর নিতাম৷ তার মৃত্যুর সংবাদ মেনে নিতে পারছিনা৷ তিনি দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবী করেন৷ সহযোগী অধ্যাপক আব্দুল্লাহিল কাফি প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে বলেন, আপনি আপনার পরিবারের সদস্যদের হারিয়েছেন৷ আপনি স্বজন হারানোর ব্যথা বুঝেন৷ তানিয়ার পরিবারের পাশে দাড়ান৷ বঙ্গবন্ধুর স্ব-পরিবারে হত্যাকাণ্ডের বিচারের মত তানিয়া সহ সকল হত্যার বিচার করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করুন৷

নার্সিং ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ আসিয়া বেগম ও নার্সিং সুপার আফরোজা খাতুন দোষীদের দ্রুত ফাঁসি দাবী করেন৷ বিচার না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলনের ঘোষণা দেন তারা৷

প্রসঙ্গত, গত সোমবার (৬ এপ্রিল) রাতে ইবনে সিনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স শাহিনুর আক্তার তানিয়া ছুটি নিয়ে স্বর্ণলতা পরিবহনের একটি বাসে গ্রামের বাড়ি কিশোরগঞ্জ জেলার কটিয়াদীর উদ্দেশে রওয়ানা দেন। যাওয়ার পথে ওই বাসের ড্রাইভার ও হেলপারসহ পাঁচ-ছয় বখাটে তাকে ধর্ষণের পর গলায় ওড়না পেঁচিয়ে হত্যা করে। নিহত শাহিনুর আক্তার তানিয়া ইবনে সিনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স পদে কর্মরত ছিলেন৷

এ ঘটনার চারজনকে বিবাদী করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়৷ পুলিশ ৫ জনকে গ্রেফতার করে আদলতে সোপর্দ করলে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৮ দিনের পুলিশি রিমান্ড দেয় আদালত৷ ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টে ধর্ষন ও শারীরিক নির্যাতনের আলামত পাওয়া গেছে বলে জানান ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসকরা৷

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি
জাতীয় ওষুধনীতি-২০১৬’ এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন

নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি