০৯ মে, ২০১৯ ০১:২৯ এএম

হামের টিকা না দিলে অভিভাবকদের ২ লক্ষাধিক টাকা জরিমানা!

হামের টিকা না দিলে অভিভাবকদের ২ লক্ষাধিক টাকা জরিমানা!

মেডিভয়েস ডেস্ক: জার্মানিতে সন্তানকে হামের টিকা না দিলে পিতামাতাকে ২ লক্ষাধিক টাকা জরিমানা করা হবে। হাম রোগ সমূলে ধ্বংস করার জন্য এমন আইনের প্রস্তাব দিয়েছেন জার্মান স্বাস্থ্যমন্ত্রী ইয়েনস স্পান।

রক্ষণশীল এই আইন প্রণেতা জার্মানির ‘বিল্ড আম জোনটাগ’পত্রিকায় বলেন, হামকে সমূলে উৎপাটন করতে হবে। পিতামাতাকে অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে যে, তাদের সন্তানরা হাম আক্রান্ত নয়।

প্রস্তাবিত ওই আইনে বলা হয়, বাবা-মা তাদের সন্তানদের হামের টিকা দিতে বিরোধিতা করলে ২ লাখ ৩৬ হাজারেরও বেশি টাকা জরিমানা দিতে হবে। একই সঙ্গে কিন্ডারগার্ডেন থেকে তাদের সন্তানদের বের করে দেওয়া হবে।
জার্মানির রবার্ট কোখ ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুযায়ী, দেশটির ৯৩ শতাংশ শিশু এই টিকার আওতায় রয়েছে। কিন্তু এটা প্রত্যাশার চেয়ে ২ শতাংশ কম।

স্বাস্থমন্ত্রী স্পান বলেন, জার্মানিতে প্রাথমিক শিক্ষা বাধ্যতামূলক। তাই টিকাবিহীন শিশুদের স্কুলের বাইরে রাখার কোনো সুযোগ নেই।

লিউকেমিয়া এবং বিভিন্ন কারণে নবজাতকসহ কিছু শিশুকে টিকা দেওয়া সম্ভব নয়। এইসব শিশুদের টিকাবিহীন রাখতে পিতামাতার ডাক্তারি পরীক্ষার প্রমাণ দিতে হবে।

জার্মানিতে হামের টিকা নিশ্চিত করতে নাগরিকদের ২০২০ সালের জুলাই পর্যন্ত সময় দেয়া হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে সন্তানদের স্কুলে অথবা কিন্ডারগার্ডেনে পাঠাতে টিকার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে।

একইভাবে হাসপাতাল ও প্রাইভেট মেডিকেলের কর্মীদেরও তাদের সন্তানদের টিকা দেওয়ার জন্য বাধ্যবাধকতা দেওয়া হচ্ছে।

এখন পর্যন্ত মন্ত্রীসভার আলোচনা পর্যায়ে রয়েছে আইনটি। জানা যায়, এই বছরই পাস হতে পারে আইনটি এবং ২০২০ সাল থেকে কার্যকর হতে পারে।

নিউইয়র্ক সিটিতে হামের টিকা নিতে ৮৪ জনের অস্বীকার

নিউইয়র্ক সিটিতে ৮৪ জন ব্যক্তি নিজের বা নিজের সন্তানদের হামের টিকা দিতে অস্বীকার করেন। মঙ্গলবার নিউইয়র্ক সিটির স্বাস্থ্য বিভাগ এ তথ্য জানায়। প্রতিবেশী দেশগুলো থেকে হামের সংক্রামক ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে দেশটির স্বাস্থ্য বিভাগ ইতিমধ্যে জরুরি অবস্থাও জারি করেছে। 

স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়, কেউ যদি টিকা নিতে অস্বীকার করে তবে তাকে ১ হাজার ডলার জরিমান দিতে হবে। 

উল্লেখ্য, সারাবিশ্বে হাম রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। এ নিয়ে বিশ্বজুড়ে আতংক দেখা দিয়েছে। এ বছরের প্রথম তিনমাসে গত বছরের প্রথম তিনমাসের তুলনায় ভারত-পাকিস্তানসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রায় তিনগুণ বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়েছে হাম।

এর সংখ্যা আরো বাড়তে পারে।  হামে আক্রান্ত হলে ফুসফুস ও ব্রেইনসহ বিভিন্ন ধরণের জটিল রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশংকা থাকে। বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা (Who)-এর বরাত দিয়ে এসব তথ্য জানিয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রাথমিক তথ্য উপাত্তে দেখা গেছে, পৃথিবীর সবদেশেই এ হাম রোগ ছড়িয়ে পড়েছে। সবচেয়ে বেশি বেড়েছে আফ্রিকায়। এছাড়াও ভারত, ইউক্রেন ও মাদাগাস্কারে এ রোগ উল্লেখযোগ্য হারে ছড়িয়ে গেছে।

এছাড়াও হাম ছড়িয়ে পড়েছে, পাকিস্তান,ব্রাজিল ও যুদ্ধবিধ্বস্ত ইয়েমেনে। ফলে বহু লোক মারা গেছে হামে। তাদের মধ্যে বেশিরভাগই মারা গেছেন শিশু-কিশোররা। প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রতি ১০ লাখে সহস্রাধিক মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে।  শুধু মাদাগাস্কারেই গত সেপ্টেম্বরেই এ রোগে মারা গেছে ৮০০ মানুষ। আমেরিকা ও থাইল্যান্ডসহ আক্রান্ত দেশগুলোতে উচ্চমাত্রার ভ্যাকসিন দেয়া হয়েছে। জাতিসংঘের স্বাস্থ্য বিষয়ক এ সংস্থাটি জানিয়েছে, হাম সঠিক ভ্যাকসিনের  মাধ্যমে সম্পূর্ণ প্রতিরোধ করা সম্ভব।

বিশ্বব্যাপী প্রথম ধাপে হামের টিকা দেয়ার ফল ৮৫ ভাগ হাম ছড়িয়ে পড়া বন্ধ হয়। কিন্তু ৯৫ ভাগ হাম ছড়িয়ে পড়া বন্ধ করতে হলে আরো টিকা দরকার। যা বর্তমান সংকট রয়েছে।

সূত্র: বিবিসি, সিএনবিসি

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত