০৬ মে, ২০১৯ ০১:৫৫ পিএম

দুই নারী চিকিৎসকের ৬৪ জেলা ভ্রমণের গল্প

দুই নারী চিকিৎসকের ৬৪ জেলা ভ্রমণের গল্প

মেডিভয়েস রিপোর্ট: দেশের ৬৪ জেলার প্রত্যন্ত এলাকা ঘুরে দেখার অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন দুই চিকিৎসক তরুণী। 'নারীর চোখে বাংলাদেশ' শিরোনামের দুই ভ্রমণ গতকাল রোববার শেষ করেছেন তারা। ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাস করা সাকিয়া হক এবং মানসী সাহা—মোটর বাইকে করে এই ভ্রমণ করেন। ভ্রমণে নিজ দেশের বিভিন্ন জেলার মানুষে সহযোগিতা-আতিথেয়তায় মুগ্ধ তারা।  খুলনা গভর্নমেন্ট করনেশন গার্লস স্কুল থেকে এসএসসি এবং খুলনা গার্লস কলেজ এইচএসসি পাস করেন তারা।   
 
২০১৭ সালের ৬ এপ্রিল তাদের এই যাত্রা শুরু হয়। দুই বছর পরে গতকাল এপ্রিল তারা দেশের ৬৪ জেলা সফর সম্পন্ন করেন। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের নানা দর্শনীয় স্থান ঘুরে দেখার পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতামূলক কাজেও অংশ নিয়েছেন তারা।

দুঃসাহসিক এ ভ্রমণ বাংলাদেশের নারীদের মধ্যে কেমন প্রভাব ফেলবে—এমন প্রশ্নের জবাবে ডা. সাকিয়া হক মেডিভয়েসকে বলেন, ‘প্রতিটি জেলায় একটি করে স্কুলে আমরা মেয়েদের সচেতনতা বাড়ানোর চেষ্টা করেছি। ব্যাপক সাড়া পেয়েছি। শুধু স্কুলে নয়, বেশিরভাগ জেলায় কলেজের ছাত্র-ছাত্রী আমাদের সঙ্গে দেখা করতে এসেছে। মেয়েদের ব্যাপক সাড়া পেয়েছি। এমনও হয়েছে, অনেক ছাত্রী তাদের অনেক সমস্যা আমাদের শেয়ার করেছে। তারা অনেক সমস্যা যেগুলো বাবা-মাকে বলে না, তা এখন আমাদের সঙ্গে শেয়ার করেছে। ’ 

নারীদের প্রতি সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি কেমন বলে মনে হয়েছে—কোনো অপ্রীতির পরিস্থিতে পড়েছেন কিনা, জানতে চাইলে ডা. সাকিয়া বলেন, ‘আমরা যখনই যেই জেলায় গিয়েছি, সবাই খুব উৎসাহ-উদ্দীপনা দিয়েছে। পুরো ভ্রমণে কোনো ইভটিজিং হয়নি। ঢাকার বাইরে মনে হলো, ইভটিজিং নাই। কিন্তু ঢাকা এক্ষেত্রে ভিন্ন। ঢাকায় অনেক জেলার মানুষ আছে বলে হয়তো এমন হয়। ’

তাদের ভ্রমণ ঘিরে অনলাইনে কোনো কোনো মন্তব্যে আহত হওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘যারা সামনা-সামনি জীবনে কোনো বিরূপ মন্তব্য করতে পারতো না। তারা অনলাইনে বাজে বাজে মন্তব্য করেছে। তারা যদি মনে করে নারী হিসেবে আমাদের ঘরের বাইরে যাওয়া ঠিক না, তাহলে তা দুঃখজনক। তবে এ সংখ্যাটা একেবারেই কম। ভার্চুয়াল জগতে এটা বেশি। ’ 

তবে সফরে তারা কিছু কিছু জায়গায় প্রতিকূলতার মুখোমুখি হয়েছিলেন জানিয়ে তিনি আরও বলেন, অন্যান্য মোটরবাইক যখন তাদের পাশ দিয়ে যেতো এবং তখন মেয়ে বাইক চালক হওয়ার কারণে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে ইচ্ছে করে তাদের সামনে দিয়ে একে-বেঁকে চালানো হতো। এজন্য একবার তাদের দুর্ঘটনার মুখেও পড়তে হয়। 

এভাবে দু'জন মেয়ের মোটর বাইকে দেশ ঘোরার ক্ষেত্রে কতটা নিরাপদ বলে মনে হয়েছে জানতে চাইলে তারা বলেন, আগে থেকেই তারা রুট প্ল্যান করেছিলেন। সন্ধ্যার আগে গন্তব্যে যাওয়ার চেষ্টা করেছেন। এক্ষেত্রে সব জেলাতেই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বা পুলিশকে জানিয়ে গিয়েছেন তারা।

মোটরসাইকেলে চড়ে মেয়েদের দেশ ভ্রমণের সক্ষমতা প্রমাণ করতেই তারা এ অভিযানে নেমেছিলেন জানিয়ে তিনি আরও বলেন, মেয়েরাও যে মোটরসাইকেলে চড়ে দেশ ঘুরতে পারে সেটা দেশের মানুষ কখনই ভাবেনি। তারা নিজেরাও ভাবেননি যে তারা আসলে পারবেন। 

মেডিকেল শিক্ষার্থী হওয়া সত্ত্বেও পুরো দেশ ভ্রমণের মতো এ রকম চ্যালেঞ্জিং কাজটি সম্পন্ন করার বর্ণনায় ডা. সাকিয়া বলেন, ‘আমরা আসলে পড়াশোনাকেই সব সময় গুরুত্ব দিয়েছি। এ কারণে দুই বছর এক মাস সময় লেগেছে। ২০১৭-১৮ মিলিয়ে মাত্র ১৭টি জেলা এবং ২০১৯ সালে বাকি জেলাগুলো ভ্রমণ করেছি। কারণ ইন্টার্নশিপ শেষ হওয়াতে অবসর থাকায় এটা সম্ভব হয়েছে।  এর আগে প্রফ এবং ইন্টার্নশিপ ডিউটির কারণে অনেকটা ধীর গতির ছিলাম। ’

দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে প্রান্তিক মানুষের চিকিৎসাসেবা দেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এই ভ্রমণ অভিযানের চিন্তা চারবছর আগে মেডিকেল কলেজে তৃতীয় বর্ষে পড়ার সময় আমাদের মাথায় আসে। এর মধ্যে ইন্টার্নশিপ করেছি। যেকারণে এত সময় লাগলো। আমরা যেভাবে মেয়েদের সঙ্গে আলোচনা করতে পারি, অন্যরা তো পারবে না। দেশের দুর্গম এরিয়াতে গিয়ে কাজ করতে চাই। যেখানে কোনো ডাক্তার নাই। এ ভ্রমণের মাধ্যমে আমার স্বপ্নের একটি ধাপ এগিয়ে গিয়েছি। ’

Add
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি
জাতীয় ওষুধনীতি-২০১৬’ এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন

নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি