ঢাকা      মঙ্গলবার ২১, মে ২০১৯ - ৭, জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৬ - হিজরী



ডা. মাহবুবর রহমান

সিনিয়র কনসালট্যান্ট ইন্টারভেনশনাল কার্ডিওলজিস্ট এবং সিসিইউ ইনচার্জ

ল্যাবএইড কার্ডিয়াক হাসপাতাল


রোজায় হৃদরোগীদের করণীয়

রোজার সময়ে মানুষের দৈনন্দিন কার্যকলাপের পরিবর্তন ঘটে। স্বাভাবিক খাদ্যাভ্যাস, ব্যায়াম, ওষুধ গ্রহণের সময়সূচি, ঘুমের সময় ও পরিমাণ পরিবর্তিত হয়। একজন সুস্থ স্বাভাবিক পূর্ণবয়স্ক মানুষ যেভাবে এই পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে পারেন তা একজন অসুস্থ মানুষের পক্ষে সম্ভব হয়ে ওঠে না। তাই এ বিষয়ে কিছু বিশেষ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা দরকার।

প্রায়শই দেখা যায় যে, হৃদরোগে আক্রান্তদের অনেকের ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, অ্যাজমা, কিডনির অক্ষমতা ইত্যাদি পাশাপাশি অবস্থান করে। ফলে রোজার সময়ে খাদ্যাভ্যাস ও ওষুধপত্র নতুন করে সময়োপযোগী করে নিতে হবে।

১. যাঁদের হার্টের পাম্পিং ক্ষমতা কম ( LVEF ২৫ শতাংশের নিচে) তাঁদের রোজা না রাখাই ভালো।
২. যাঁদের বয়স ৭০ এর উপরে, হার্ট দুর্বল, ডায়াবেটিস আছে, কিডনির সমস্যা আছে তাঁদেরও রোজা না রাখাই ভালো।
৩. যে সব হৃদরোগীর হার্টের পাম্পিং ক্ষমতা স্বাভাবিক, তাঁরা অন্য সবার মতো রোজা রাখতে পারবেন।
৪. হৃদরোগীদের সাধারণত কয়েকটি ওষুধ নিয়মিত খেয়ে যেতে হয়। বেশিরভাগ ওষুধ দিনে একবার বা দু’বার খেলেই হয়। যেসব ওষুধ দিনে একবার খেলে চলে রোজার সময় সেগুলো রাতের খাবারের সময় নিলেই চলবে।

যেসব ওষুধ দিনে দু’বার খেতে হবে সেগুলো ইফতার ও সেহরির সময় খেলে চলবে। খেয়াল রাখতে হবে যেন দুই ডোজের মধ্যবর্তী সময়টি সংক্ষিপ্ত না হয়। বিশেষ করে প্রেসারের ওষুধ পর্যাপ্ত ফারাক (space) দিয়ে সেবন করতে হবে। রোজার সময়ে খাদ্য ও পানির পরিমাণ কমে যাওয়ায় প্রেসার কমে যেতে পারে। সে ক্ষেত্রে ডাক্তারের সঙ্গে পরামর্শক্রমে মাত্রা কমানো যেতে পারে।

হৃদরোগের কিছু কিছু ওষুধ (যেমন: Nitrate) সকালে ও বিকেলে খেতে হয়, রোজায় সেগুলো সেহরি ও ইফতারির সময়ে সমন্বয় করা যায়।
কিছু ওষুধ দিনে তিনবার নিতে হয় (যেমন: Diltiazem) সেগুলো স্লো রিলিজ ফর্মে দিনে একবার বা দু’বারে খাওয়া যায়।

৫. হৃদরোগীদের মধ্যে যাঁদের ডায়াবেটিস আছে তাঁদেরকে বিশেষ সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে। দিনের দীর্ঘ সময় খাদ্য ও পানীয় গ্রহণ না করায় রক্তে সুগারের পরিমাণ মারাত্মকভাবে কমে যেতে পারে। হঠাৎ জ্ঞান হারিয়ে ফেললে বা মাথা ঝিমঝিম করলে, বুক ধড়ফড় করে প্রচুর ঘাম দিলে সুগারের মাত্রা কমে যেতে পারে বলে সন্দেহ করতে হবে। এবং তৎক্ষণাৎ সুগার পরীক্ষা করা সম্ভব হলে করতে হবে। পরীক্ষা করা সম্ভব না হলে হাতের কাছে চিনি জাতীয় যা কিছু পাওয়া যায় দ্রুত খেয়ে রোজা ভেঙে ফেলতে হবে। পরবর্তীতে ডায়াবেটিস বিশেষজ্ঞের সাথে পরামর্শ করে ওষুধের মাত্রা ঠিক করতে হবে। তবে রোজার সময় যেসব ওষুধ দ্রুত রক্তের সুগার কমায় তা এড়িয়ে চলা উত্তম। ইনসুলিনের ব্যাপারে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। ইনসুলিনের মেজর অংশটি ইফতারের সময় নিলে ভালো, আর স্বল্প মাত্রাটি সেহরির সময় নিতে হবে যাতে দিনের দীর্ঘ সময়ে সুগার কমে না যায়।

৬. হৃদরোগীদের মধ্যে যাঁদের অ্যাজমা আছে তাদের মুখের ওষুধ গ্রহণে তেমন সমস্যা হয় না। সেহরি ইফতারির সময় নিলেই হবে। তবে যাঁদের ঘন ঘন ইনহ্যালার (যেমন: Azmasol Inhaler বা Nebulizer) নিতে হয় তাঁরা সেটি যে কোন সময় নিতে পারবেন। কারণ ইনহ্যালার ফুসফুসে বাতাসের সাথে টেনে নিতে হয়। পেটে যাবার দরকার পড়ে না। আর যেসব ইনহ্যালার (যেমন: Bexitrol Inhaler) দিনে দু’বার নিয়মিত নিতে হয় সেগুলো সেহরি এবং ইফতারির সময় নিলেই চলবে।

খাদ্য বৈশিষ্ট্য:
৭. তৈলাক্ত খাদ্য, ভাজাপোড়া খাদ্য (যেমন পিয়াজু, বেগুনি, কাবাব, পরাটা, হালিম ইত্যাদি) এড়িয়ে চলা ভালো।
৮. নরম খাবার যেমন চিড়া ভেজানো, কাঁচা ছোলা বা তেলমুক্ত সেদ্ধ ছোলা, দু’টি খেজুর, কলা, দই এসব দিয়ে ইফতারী করা যেতে পারে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি, লেবুর শরবত, রসালো ফল, ডাবের পানি, কমলার রস ইত্যাদি শরীরের জন্য ভালো। 

ইফতারি পরিমিত পরিমাণে হতে হবে। হঠাৎ অতিরিক্ত ইফতারি করলে হিতে বিপরীত হতে পারে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি বা পানীয় গ্রহণ করতে হবে, যাতে দিনের পানিশূন্যতা পুষিয়ে দেয়া যায়।

সকলের সুস্বাস্থ্য কামনা করি।

সংবাদটি শেয়ার করুন:

 


পাঠক কর্নার বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

৩৯তম বিসিএসের পোস্টমর্টেম

৩৯তম বিসিএসের পোস্টমর্টেম

দেশের সকল খাতের উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় স্বাস্থ্যসেবাকেও যুগোপযোগী করে তুলতে অপ্রতুল জনবলের বিষয়টি…

৩৯তম বিসিএসের নন-ক্যাডারদের দাবি, বিপক্ষ মতের যুক্তিখণ্ডন

৩৯তম বিসিএসের নন-ক্যাডারদের দাবি, বিপক্ষ মতের যুক্তিখণ্ডন

যুক্তি-১ বিপক্ষ মতের কাউকে কাউকে বলতে শোনা যায়, একসঙ্গে এত চিকিৎসক নিয়োগের…

‘প্রধানমন্ত্রীর স্বদিচ্ছা সত্ত্বেও নিয়োগবঞ্চিত নন-ক্যাডার চিকিৎসকরা’

‘প্রধানমন্ত্রীর স্বদিচ্ছা সত্ত্বেও নিয়োগবঞ্চিত নন-ক্যাডার চিকিৎসকরা’

জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে টানা তৃতীয়বার ক্ষমতায় আসার আগের দুই মেয়াদে আওয়ামী…

নিরাপত্তাহীনতায় কর্মস্থল বদল

নিরাপত্তাহীনতায় কর্মস্থল বদল

যায় দিন ভাল, আসে দিন খারাপ! জানি না আর কি কি খারাপ…

শিশুদের উচ্চ রক্তচাপঃ এক অবহেলিত অধ্যায়

শিশুদের উচ্চ রক্তচাপঃ এক অবহেলিত অধ্যায়

শিশুদের রক্তচাপ মাপতে গেলেই রোগীর বাবা-মা সবসময়ই যে প্রশ্নটি করেন সেটি হল…

দেশে ক্যান্সার চিকিৎসার বাস্তবতা ও আমার কিছু অভিজ্ঞতা

দেশে ক্যান্সার চিকিৎসার বাস্তবতা ও আমার কিছু অভিজ্ঞতা

আমার মা ২ সপ্তাহ আগে মারা গেছেন। উনি গত আড়াই বছর ধরে…

আরো সংবাদ














জনপ্রিয় বিষয় সমূহ:

দুর্যোগ অধ্যাপক সায়েন্টিস্ট রিভিউ সাক্ষাৎকার মানসিক স্বাস্থ্য মেধাবী নিউরন বিএসএমএমইউ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঢামেক গবেষণা ফার্মাসিউটিক্যালস স্বাস্থ্য অধিদপ্তর