ঢাকা      শুক্রবার ১৯, জুলাই ২০১৯ - ৪, শ্রাবণ, ১৪২৬ - হিজরী



ডা. মোঃ মাকসুদ উল্যাহ্‌

চিকিৎসক, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল


কী বুঝে এতো গালাগাল আর হাসিঠাট্টা?

গত ১২-১৪ ঘণ্টা সময়ে আমার বন্ধু তালিকার ২জন আমাকে নিচের এই ছবিটার একাধিক পোস্টে ট্যাগ করে। ক্যাপশনে লেখা ছিল, "ফেনী আধুনিক সদর হাসপাতালের হার্টের ডা. হুমায়ুন কবিরের কান্ড দেখুন, রোগীকে সামনে বসিয়ে রেখে চলে ঘন্টার পর ঘন্টা ফোন আলাপ! এছাড়াও রোগীদের সাথে বাজে ব্যবহার তো আছেই। আরো অনেক অনিয়ম নিয়ে বিস্তারিত আসছে।"

পোস্টের মন্তব্যে বিভিন্নজন বিভিন্ন গালাগাল, টিটকারি করেছে। সেগুলো নিম্নরুপঃ 

১. ওর বাপের টাকায় বেতন দেয় সরকার?

২. এরা হলো লাইসেন্স করা সন্ত্রাসী।

৩. ডাক্তারের লাইসেন্স বাতিল করা দরকার।

৪. মাশরাফিকে পাঠাতে হবে।

৫. বর্তামানে পুলিশ থেকেও এগিয়ে গেছে ডাক্তার।

৬. A shala ki asolayee doctor na ki?

৭. দোলাই দেওয়া উচিত।

এক মুহুর্তের একটা ছবি! অথচ এখানে ট্যাগ করার কী হলো? সামনে রোগী থাকলে কি কোনো কল আসলে সেটা ধরা হারাম? তার মা-বাবা বা কারো জরুরী কল হতে পারে? আমিও বহির্বিভাগে রোগী দেখার সময় অন্তবিভাগে কল দেই,  রোগী ভর্তির জন্য নতুন কোনো সিট খালি হয়েছে কি না, জানার জন্য! 

অন্ধভাবে ডাক্তারের বিরোধিতা করতে করতে আপনাদের চিন্তাশক্তি দেউলিয়া হয়ে গেছে! আফসোস! 

দুনিয়ার আদালতে বা আল্লাহর আদালতে এক মুহূর্তের একটা ফটো দিয়ে কিভাবে প্রমাণ করবেন, ঘন্টার পর ঘন্টা কথা বলতেছে? ঘণ্টার পর ঘণ্টা কথা বলা প্রমাণ করতে হলেতো আপনাকে ঘণ্টার পর ঘণ্টার ভিডিও করতে হবে! হতে পারে যে, ডাক্তার বিরক্ত হয়ে ওপর প্রান্তের কাউকে বলতেছেন, "বার বার বিরক্ত করতেছেন কেন, বললামইতো আমি রোগী দেখতেছি, রোগীর অনেক ভিড়!" 

এমনকি হতে পারে না যে, টার বাড়ি থেকে জরুরী কল এসেছে, কেউ হঠাত গুরুতর অসুস্থ হয়েছে, তাকে জরুরী পরামর্শ দিতে হচ্ছে! এমনকি হতে পারে না যে, তিনি অধস্তন কোনও ডাক্তারকে ফোন করে ধমক দিচ্ছেন, কেন এখনো অমুক রোগীর অমুক চিকিৎসা নিশ্চিত করা হলো না?

এমনকি হতে পারে না যে, যেই লোক ওনার এই ছবি তুলে ফেসবুকে ছেড়ে দিয়েছে, সেই লোক ১. এই ডাক্তারের কাছে একটি মিথ্যা সার্টিফিকেট চেয়ে না পেয়ে এখন এমন অসভ্যতা করলো! ২. একজন ফার্মেসিব্যবসায়ি, এবং এই ডাক্তার ওই ফার্মেসি ব্যবসায়ীর বিভিন্ন অনৈতিক কাজের বিরোধিতা করেছিলেন? ৩. লোকটি ডাক্তারের কাছে মেয়ে বিয়ে দিতে চেয়েছিল, কিন্তু না পেরে দেশের ডাক্তার সমাজের বিরুদ্ধে আক্রোশে এমন করতেছে? 

যারা এই ছবি দেখে টিটকারি হাঁসি ঠাট্টা, গালাগাল করলো, তারা এভাবে দেশ ও সমাজকে কী উপহার দিল? এতে দেশ ও সমাজের কয় টাকার উপকার হয়েছে? বরং নিশ্চিত না হয়ে সমাজে ফ্যাসাদ ছড়াল! গালাগালতো মুনাফিকের চতুর্থ লক্ষণ! টিটকারিও মুসলিমের জন্য শোভনীয় নয়! তাহলে? 

অতি উৎসাহ ভালো না। কাপুরুষ নয়, বরং সুপুরুষের পরিচয় দিন! একজন ডাক্তারের দ্বারা নির্দিষ্ট সময়ে কতজন রোগীকে চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব, আর আপনার দেশের ডাক্তারেরা সেই সময়ে অল্প লোকবল এবং অল্প এবং দুর্বল সরঞ্জাম ও উপায়-উপকরন ব্যবহার করে কিভাবে এত বিশাল সংখ্যক রোগীকে চিকিৎসা দিতেছে, সেগুলো চিন্তা করে শুকরিয়া আদায় করতে শিখুন! 

এত টাকা ব্যাংক লুট হয়, এত টাকা বিদেশে পাচার হয়, অথচ শয্যার অভাবে সরকারি হাসপাতালে রোগীরা মেঝেতে শুয়ে থাকে আর ৬০ বছর বয়সি অধ্যাপক হাটু  গেঁড়ে রোগীকে চিকিৎসা দেয়! এগুলোর প্রতিবাদ করতে শিখুন! 

সরকারি হাসপাতালে ডাক্তারের পদ খালি কেন? সেগুলোর প্রত সূরা আল হুজুরাত এর ৬ নং আয়াতে আল্লাহ বলেন, মুমিনগণ! যদি কোন পাপাচারী ব্যক্তি তোমাদের কাছে কোন সংবাদ আনয়ন করে, তবে তোমরা পরীক্ষা করে দেখবে, যাতে অজ্ঞতাবশতঃ তোমরা কোন সম্প্রদায়ের ক্ষতিসাধনে প্রবৃত্ত না হও এবং পরে নিজেদের কৃতকর্মের জন্যে অনুতপ্ত না হও।

তাই মন্তব্য করার আগে একটু সময় নিন। একটু জ্ঞান খরচ করুন! 

সংবাদটি শেয়ার করুন:

 


পাঠক কর্নার বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ভয়াবহ বিপর্যয়ের দিকে যাচ্ছে

স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ভয়াবহ বিপর্যয়ের দিকে যাচ্ছে

হাসপাতালের সকলে মিলে সমাজকে অনেক কিছুই দিতে পারে। সাধারণত যে মানুষ যেভাবে…

মেডিকেল সায়েন্স গবেষণায় ইরানের এগিয়ে চলার গল্প 

মেডিকেল সায়েন্স গবেষণায় ইরানের এগিয়ে চলার গল্প 

যতদিন যাচ্ছে ইরানের মেডিকেল সায়েন্স গবেষণায় যুক্ত হচ্ছে অভূতপূর্ব সব অবিষ্কার। বিশ্ব…

বিদেশে চিকিৎসা: শোনা কথায় কান দিবেন না

বিদেশে চিকিৎসা: শোনা কথায় কান দিবেন না

যখন গাইনী আউটডোরে চাকরি করি তখন এক জুনিয়র এসে বলল "আপু তোমরা abnormal…

সাইমন্ড্স ডিজিজ রোগ ও তার প্রতিকার

সাইমন্ড্স ডিজিজ রোগ ও তার প্রতিকার

আমাদের মাথার ভেতরে পিটুইটারি গ্রন্থির অবস্থান। পিটুইটারি গ্রন্থি থেকে নানা রকম হরমোন…



জনপ্রিয় বিষয় সমূহ:

দুর্যোগ অধ্যাপক সায়েন্টিস্ট রিভিউ সাক্ষাৎকার মানসিক স্বাস্থ্য মেধাবী নিউরন বিএসএমএমইউ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঢামেক গবেষণা ফার্মাসিউটিক্যালস স্বাস্থ্য অধিদপ্তর