ঢাকা শুক্রবার, ১৮ অক্টোবর ২০১৯, ২ কার্তিক ১৪২৬,    আপডেট ৪৯ মিনিট আগে
০৪ মে, ২০১৯ ১০:১৩

৯০ জনের শরীরে এইডস ছড়ানোর অভিযোগে গ্রেপ্তার

৯০ জনের শরীরে এইডস ছড়ানোর অভিযোগে গ্রেপ্তার

মেডিভয়েস ডেস্ক: এইচআইভি দূষিত সিরিঞ্জ ব্যবহার করে ৬৫ শিশুসহ ৯০ জন রোগীর শরীরে এইডসের জীবাণু ছড়ানোর অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন পাকিস্তানের এক চিকিৎসক৷ কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা এএফপি শুক্রবার এমন খবর দিয়েছে। 

পাকিস্তানের সিন্ধু প্রদেশের লারকানা জেলার পুলিশ প্রধান কামরান নওয়াজ বলেছেন, ‘‘স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে অভিযোগ পাওয়ার পর আমরা ওই চিকিৎসককে গ্রেপ্তার করেছি৷ আমাদেরকে বলা হয়েছে তাঁরও এইচআইভি রয়েছে৷”

পুলিশ আরও নিয়েছে, গ্রেপ্তার হওয়া মুজাফফর ঘাংরো সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসক৷

গত সপ্তাহে লারকানার উপকণ্ঠে ১৮ শিশুর শরীরে এইচআইভি পাওয়ার পর টনক নড়ে কর্তৃপক্ষের৷ এরপর স্বাস্থ্য বিভাগ বড় পরিসরে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালালে সংখ্যাটি কয়েক ডজন বেড়ে যায়৷

লারকানার স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. আবদুল রেহমান বলেছেন, “পরীক্ষায় ৯০ জন এইচআইভি পজিটিভ হয়েছে৷ তার মধ্যে ৬৫জন শিশু৷”

এরপর একজন ডাক্তারের কারণেই অন্তত ৯০ জনের দেহে এইচআইভি ছড়ানোর বিষয় জানার কথা বলছে কর্তৃপক্ষ৷ ওই ডাক্তার জীবাণুযুক্ত সিরিঞ্জ ব্যবহার করেছেন বলে তাদের ধারণা৷

এদিকে এইডস ছড়ানোর অভিযোগকে সিন্ধু স্বাস্থ্য কমিশনের ‘ষড়যন্ত্র’  হিসেবে অভিহিত করেছেন গ্রেপ্তার হওয়া চিকিৎসক মুজাফফর ঘাংরো৷ 

নিজের এইচআইভি সম্পর্কেও জানতেন না দাবি করে তিনি থানা হাজতে সাংবাদিকদের বলেন, “সিন্ধু স্বাস্থ্য কমিশন আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে৷ আমি যদি জানতাম আমার এইচআইভি/এইডস আছে, তাহলে নিশ্চয় চিকিৎসা নিতাম। ’’ 

পাকিস্তানের জিও নিউজ জানিয়েছে, ২০০৬ সালে লাইসেন্সের মেয়াদ শেষ হলেও ১৩ বছর ধরে সরকারি হাসপাতালেই চিকিৎসা চালিয়ে যাচ্ছেন ডা. মুজাফফর ঘাংরো৷

পাকিস্তানের দক্ষিণাঞ্চলের সিন্ধু প্রদেশের এইডস নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির কর্মকর্তা সিকান্দার মেমন জানিয়েছেন, সেখানে এক লাখের বেশি এইচআইভি পজিটিভ লোক আছে। তবে সরকারিভাবে নিবন্ধিত রোগীর সংখ্যা মাত্র ১০ হাজার ৩৫০ জন৷

নিবন্ধিত ২ হাজার ৪০০ জন রোগী নিয়ে এইডস আক্রান্তের দিক থেকে সিন্ধু প্রদেশে শীর্ষে রয়েছে লারকানা জেলা৷

১৯৮০-র দশকে প্রথম এইচআইভি ভাইরাস শনাক্ত হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত সারা পৃথিবীতে ৭ কোটি ৬০ লক্ষ এইডস সংক্রমিত ব্যক্তিকে পাওয়া গেছে৷ চিকিৎসা আবিষ্কার না হওয়া এই রোগে এ পর্যন্ত মারা গেছেন প্রায় সাড়ে তিন কোটি মানুষ৷

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত