ঢাকা সোমবার, ১৪ অক্টোবর ২০১৯, ২৮ আশ্বিন ১৪২৬,    আপডেট ১১ ঘন্টা আগে
অধ্যাপক ডা. মুজিবুল হক

অধ্যাপক ডা. মুজিবুল হক

স্কিন অ্যান্ড সেক্সুয়াল মেডিসিন স্পেশালিস্ট

এফসিপিএস, এফআরসিপি (যুক্তরাজ্য), ডিডিভি (অস্ট্রিয়া)

 


০৪ মে, ২০১৯ ০০:৪৮

পৃথিবী ঈর্ষা করতে পারে এমন অপারেশনও হচ্ছে বাংলাদেশে

পৃথিবী ঈর্ষা করতে পারে এমন অপারেশনও হচ্ছে বাংলাদেশে

আমাদের অর্ধেক রোগী শুধু দ্বিতীয় পরামর্শ নিতে বাইরে যান। ভারত পরামাণু শক্তিধর তিন পুরুষের মধ্যবিত্তের অগ্রগামী দেশ।

১০০ কোটি মানুষের জন্যে যে কোনো দামি মেডিকেল ইন্সট্রুমেন্ট কিনলে ক্লিনিকের পুষিয়ে যাওয়ার দেশ। সেখানে যাওয়া স্বাভাবিক।

একইভাবে আমাদের ঢাকা মেডিকেলে বছরে গড়ে ৬০ হাজার সফল অপারেশন হয়। বিএসএমএমইউতে ৫০ হাজারেরও  বেশি অপারেশন অপারেশন হয়। অন্য সব বড় মেডিকেলগুলোতেও নিয়মিত অপারেশন হয়। পুরো বিনামূল্যে। পৃথিবী ঈর্ষা করতে পারে এমন অপারেশনও হচ্ছে এদেশে।

আর কোনো বড় ডাক্তারের চেম্বার খালি থাকে না। রোগী ভালো না হলে বা আস্থা না থাকলে এমনটা হবার তো নয়।

মেডিকেল বিজ্ঞান অনেক জটিল। এক চোখেরই ৫/৭ রকমের ডাক্তার। second consultation করাতেই হয়। মধ্যবিত্তরা ভারতে চিকিৎসা করান। বিত্তবানরা আমেরিকা ও সিঙ্গাপুরে যান।

বড়লোক ভারতীয় নিজ দেশে rarely চিকিৎসা করায়। Singapore বড় হাসপাতালে উচ্চবিত্ত ভারতীয়দের প্রচণ্ড ভীড়। ওখানে গেলে নিজেই দেখবেন। কেউ কোথায়ও সন্তুষ্ট নয়।

আর বাংলাদেশ হলো GDP এর স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দে পৃথিবীর সব চাইতে গরীবদের দেশ। স্বাস্থ্যখাতে খরচে ইথিওপিয়ার, সুদান এমনকি আফগানিস্তানের চাইতে গরিব আমাদের বাংলাদেশ।

স্বাস্থ্যখাতে পৃথিবীর সব চাইতে সবচেয়ে গরিব বাংলাদেশ?

অথচ কথায় কথায় আমরা আমেরিকা ও সিঙ্গাপুরের  চিকিৎসা প্রত্যাশা করি।

তবে ধনী /গরীব যাই হই, জনগণের মনে সন্তুষ্টি, শ্রদ্ধা অর্জনে আমরা হয়তো পিছিয়ে।

তবে এর পেছনে স্বাস্থ্যখাতে এত জনবহুল এই দেশে এই ছোট্ট বাজেট (GDP/revenue), থেকেও উপর মহল(non-doctor) এর ৮০% লুট (পাবনার সিভিল সার্জনের ওপর অপ্রয়োজনীয় কোটি কোটি টাকার যন্ত্রপাতি কেনার চাপ, রাজি না হওয়ায় চাকরিচ্যুতি) বিশাল ভূমিকা রাখে।

২৫০ শয্যা হাসপাতালে ৩০ জন ডাক্তার থাকলেও অনেক জায়গায় ৭জন চিকিৎসক দিয়ে চলছে।  সার্জন ডাক্তার থাকলে anesthetic নাই। অপারেশন বন্ধ।

blood trasfution ব্যাবস্থা নাই। ডাক্তারে এসবে

কোনো হাত নাই। এসব মন্ত্রণালয়ের কাজ। এসবে ধারণা না থাকায় জনগণ ডাক্তারদের খামোখা দায়ী করছেন।

নার্সদের ওপরও ডাক্তারের মত ৩ গুণ রোগীর অমানুষিক চাপ,প্রায় হাসপাতালে পরিচ্ছন্ন কর্মীই নাই। ফলে নোংরা টয়লেট।

এসবে জনগণের খারাপ ধারণা জন্মাচ্ছে। অথচ এর পেছনের কারণ তারা জানবেই না।

এক ভূমি অফিস আর হাসপাতালে চিকিৎসককে ঘুষের তুলনা আপনার অনেক ধারণা বদলে দিবে।

আর হতাশা হেকেই হোক, ধারণা হীন জনমানুষের প্রত্যাশার বিপক্ষে তীব্র কটূক্তি করে লেখা, আরো নোংরামি পুর্ণ লেখা ডেকে আনে।

যেসব অপুন'তার কারণে সুচিৎসা সম্ভব হচ্ছে না তা জনগণের কাছে বিনয়ের সঙ্গে উপস্থাপন করতে হবে।

এজন্য ডা. আবদুন নূর তুষারের লেখা অপূর্ব, বুদ্ধিদীপ্ত।

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত