০৩ মে, ২০১৯ ০৯:২১ পিএম

ডেঙ্গু ভ্যাক্সিনে এফডিএর অনুমোদন

  • ডেঙ্গু ভ্যাক্সিনে এফডিএর অনুমোদন
  • ডেঙ্গু ভ্যাক্সিনে এফডিএর অনুমোদন
  • ডেঙ্গু ভ্যাক্সিনে এফডিএর অনুমোদন
  • ডেঙ্গু ভ্যাক্সিনে এফডিএর অনুমোদন

মেডিভয়েস ডেস্ক: ডেঙ্গু ভাইরাসের সকল সেরোটাইপের (১, ২, ৩ এবং ৪) মাধ্যমে হওয়া জ্বরের জন্য আবিষ্কৃত ভ্যাক্সিন অনুমোদন করেছে মার্কিন ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফডিএ)। নয় থেকে ১৬ বছর বয়সী সকল তরুণ-তরুণী এই ভ্যাক্সিন নিতে পারবে, ল্যাব পরীক্ষায় যাদের ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে।

ভ্যাক্সিন ডেনভ্যাক্সিয়া (Sanofi Pasteur) সংশ্লিষ্ট রোগীকে তিনবার প্রয়োগ করতে হবে। এক্ষেত্রে প্রথমবার দেওয়ার ৬ মাস পর একটি এবং তার এক বছর পর তৃতীয় ইঞ্জেকশনটি দিতে হবে। 

মার্কিন ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের নীতি, আইন ও আন্তর্জাতিক বিষয়ক ডেপুটি কমিশনার আন্না আব্রাম এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলেছেন, “বিশ্বের সবচেয়ে সাধারণ মশা-ভাইরাসযুক্ত জ্বর ডেঙ্গু এবং সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্বব্যাপী এর প্রকোপ বেড়েই চলেছে। যেখানে কার্যত এর কোনো প্রতিকার নেই। এ প্রেক্ষাপটে এই অনুমোদন যুক্তরাষ্ট্রের উপদ্রুত অঞ্চলে এই ভাইরাসের প্রভাব কমাতে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।”

চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, সংক্রমণের শুরুর দিকে ডেঙ্গু জ্বরের তেমন কোনো উপসর্গ দেখা যায় না। প্রথমে এর লক্ষণ হালকা অসুস্থতা, বা অন্য ভাইরাল জ্বরের মতোই মনে হয়। তবে পরবর্তী সংক্রমণে গুরুতর ডেঙ্গু হতে পারে এবং এর ফলে রোগীর ডেঙ্গু হেমোরেজিক জ্বর (ডিএইচএফ) হতে পারে, যা খুবই মারাত্মক। এটি রোগীর মৃত্যুও ডেকে আনে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দ্বিতীয়বার ডেঙ্গু ভাইরাস সংক্রমণের ফলে গুরুতর জ্বরে আক্রান্ত হয় রোগী। ডেঙ্গু রোগের চিকিৎসায় উল্লেখযোগ্য কোনো ওষুধ আবিষ্কৃত হয়নি, এছাড়া ডেঙ্গুতে আক্রান্তদের পরিচর্যার ব্যবস্থাপনা যথেষ্ট সীমিত।

বিজ্ঞানীরা আরও বলেন, ডেঙ্গুর একটি সেরোটাইপ দিয়ে আক্রান্ত ব্যক্তি এভাবে আর আক্রান্ত হয় না। তবে অন্য সেরোটাইপ দিয়ে ওই রোগী আবারও ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হতে পারে। ভিন্ন সেরোটাইপের ডেঙ্গু বেশি মারাত্মক হয়। আর এ কারণেই এফডিএ ভ্যাক্সিনটি অনুমোদন দিয়েছে।

ডেঙ্গুর প্রকোপ আছে, এমন অঞ্চলে ৩৫ হাজার মানুষের উপর ডেনভ্যাক্সিয়া ভ্যাক্সিন পরীক্ষা করা হয়। এতে রোগীদের মাথা ও শরীর ব্যথা, দুর্বলতা, হালকা জ্বর লক্ষ্য করা যায়। তবে ছয় মাস অন্তর পরবর্তী ডোজের পর পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া কমতে থাকে।

সামোয়া, গুয়াম, পুয়ের্তো রিকো অঞ্চলসহ যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিন দ্বীপপুঞ্জের ডেঙ্গুর মারাত্মক প্রকোপ রয়েছে। এর প্রকোপ রয়েছে পৃথিবীর সর্বত্র। বাংলাদেশে ঢাকা মহানগরীতে ডেঙ্গুর প্রকোপ সবচেয়ে বেশি। রাজধানীর ১৯টি এলাকাকে ডেঙ্গু বিস্তারে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এর মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) বনানী, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা, গাবতলী, মগবাজার, মালিবাগের একাংশ, মিরপুর-১, মহাখালী ডিওএইচএস, নাখালপাড়া, পূর্ব শেওড়াপাড়া, টোলারবাগ ও উত্তরার ৯ নম্বর সেক্টর উল্লেখযোগ্য।

দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোর মধ্যে ধানমণ্ডি ১, অ্যালিফ্যান্ট রোড, গুলবাগ, কলাবাগান, মেরাদিয়া, মিন্টো রোড, বেইলি রোড ও শান্তিনগর রয়েছে। 

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এপ্রিল থেকে অক্টোবরে বাংলাদেশে ডেঙ্গুর বিস্তার ঘটে। আর রাজধানীতে জুন থেকে অক্টোবর পর্যন্ত ডেঙ্গু জীবানু বাহক এডিস মশার উপদ্রব বেড়ে যায়।

Add
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত