ডা. কামরুল হাসান সোহেল

ডা. কামরুল হাসান সোহেল

আবাসিক মেডিকেল অফিসার, 
ব্রাক্ষণপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, কুমিল্লা।


০১ মে, ২০১৯ ০২:৩৯ পিএম

সবকিছু জেনেই তো সরকারি চিকিৎসক হয়েছেন!

সবকিছু জেনেই তো সরকারি চিকিৎসক হয়েছেন!

যারা ৩৯ তম বিসিএসে ক্যাডার পদে সুপারিশ প্রাপ্ত হয়েছেন, আপনাদের উচিত সবার আগে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানানো। তার আন্তরিক প্রচেষ্টার জন্যই এত অধিক সংখ্যক চিকিৎসক আজ সরকারি চাকরি পেয়েছে। দ্রুততম সময়ে ৩৯ তম বিসিএস পরীক্ষার ফলাফল দেয়া হয়েছে, আশা করি খুব দ্রুতই গেজেট হয়ে যাবে এবং পদায়নও হয়ে যাবে খুব দ্রুত।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পদায়নের পর অনেকেরই হয়তো বিসিএসের প্রতি মোহভঙ্গ ঘটবে। তবে হতাশ হলে চলবেনা। অধিকাংশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে থাকার ভালো আবাসন নেই, হয়তো পান করার জন্য সুপেয় পানির ব্যবস্থা নেই, হয়তো টয়লেটের দরজা নেই, সিটকিনি নেই, হয়তো ছাদ থেকে পলেস্তারা খসে পরার উপক্রম। এছাড়া, রান্নাবান্না করার জন্য গ্যাস নেই, নিরাপত্তা নেই, বসার জন্য চেয়ার নেই। তাতে কি? কোন অবস্থাতেই এক মূহুর্তের জন্য কর্মস্থল ত্যাগ করা যাবেনা, সেবা দেয়া থেকে বিরত থাকা যাবেনা। সবকিছু জেনেই তো বিসিএস দিয়ে সরকারি চিকিৎসক হয়েছেন?

এত অধিক সংখ্যক চিকিৎসক এক সাথে পদায়িত হওয়ায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলো আবার সরব হয়ে উঠবে। উপজেলাবাসী ভাল স্বাস্থ্য সেবা পাবে, এই ব্যাপারে নিয়োগ প্রাপ্ত চিকিৎসকদের আন্তরিক হতে হবে।

সরকার যেহেতু চিকিৎসক নিয়োগ দিয়েছেন নিশ্চয়ই তাদের বসবাস উপযোগী আবাসন নিশ্চিত করবেন, কর্মস্থলে নিরাপত্তা নিশ্চিত করবেন, সুষ্ঠু কর্ম পরিবেশ নিশ্চিত করবেন। এইগুলো চিকিৎসকদের মৌলিক দাবী এবং তা পূরণ করা সরকারের দায়িত্ব।

চিকিৎসা একটি সমন্বিত কর্ম, টিমওয়ার্ক। শুধুমাত্র চিকিৎসক ভাল সেবা নিশ্চিত করতে পারেনা। আদর্শ স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করতে হলে চিকিৎসকের পাশাপাশি অন্যান্য পেশা যেমনঃ সিনিয়র স্টাফ নার্স, ব্রাদার, ওয়ার্ডবয়, স্যাকমো, ল্যাব টেকনিশিয়ান, ক্লিনার, এমএলএসএস, আয়া, ফার্মাসিস্ট, নাইট গার্ড সব পদেই পর্যাপ্ত জনবল নিয়োগ দিতে হবে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যেন প্রায় সব ধরণের প্যাথলজিক্যাল টেস্ট করা যায় সেই যন্ত্রপাতি ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক রিয়েজেন্ট থাকা নিশ্চিত করতে হবে। এছাড়াও সবধরনের ঔষধ প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে হবে। তা নাহলে উপজেলা পর্যায়ে সর্বোচ্চ চিকিৎসা নিশ্চিত করা যাবেনা।

চিকিৎসকরা রোগী দেখে ঔষধ লিখে দিবেন, সেই ঔষধ সময়মতো রোগীকে খাওয়ানো বা খাওয়ার কথা মনে করিয়ে দেয়া সিস্টারের দায়িত্ব। হাসপাতাল পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখা ক্লিনারের দায়িত্ব। নির্ভুল প্যাথলজিক্যাল টেস্ট নিশ্চিত করা এমটি ল্যাব এর দায়িত্ব। ঔষধ প্রাপ্তি নিশ্চিত করা স্টোর কিপারের দায়িত্ব।

একজন চিকিৎসক রোগী দেখে দেয়ার পর ফলো আপ ছাড়া মোটামুটি তার দায়িত্ব শেষ। কিন্তু, বর্তমানে হাসপাতালে যা কিছুর সংকটই থাকুক তার জন্য চিকিৎসককে দায়ী করা হয়, তাকে হেনস্তা করা হয়। এই ট্র্যাডিশন থেকে বের হয়ে আসতে হবে আর তার জন্য সরকার তথা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকেই যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে। স্বাস্থ্য খাতের অব্যবস্থাপনার কারণে যেন আর কোন চিকিৎসককে নিগৃহীত হতে না হয়।

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
তুমি সবার প্রফেসর আবদুল্লাহ স্যার, আমার চির লোভহীন, চির সাধারণ বাবা
পিতাকে নিয়ে ছেলে সাদি আব্দুল্লাহ’র আবেগঘন লেখা

তুমি সবার প্রফেসর আবদুল্লাহ স্যার, আমার চির লোভহীন, চির সাধারণ বাবা

বেশিদিন ওমিপ্রাজল খেলে হাড় ক্ষয়ের ঝুঁকি বাড়ে 
কিডনি পাথরের ঝুঁকি বাড়ায় নিয়মিত অ্যান্টাসিড সেবন 

বেশিদিন ওমিপ্রাজল খেলে হাড় ক্ষয়ের ঝুঁকি বাড়ে 

ডাক্তার-নার্সদের অক্লান্ত পরিশ্রমের কথা মিডিয়ায় আসে না
জাতীয় হৃদরোগ ইন্সটিটিউটের সিসিউতে ভয়ানক কয়েক ঘন্টা

ডাক্তার-নার্সদের অক্লান্ত পরিশ্রমের কথা মিডিয়ায় আসে না