ঢাকা মঙ্গলবার, ২২ অক্টোবর ২০১৯, ৭ কার্তিক ১৪২৬,    আপডেট ১২ ঘন্টা আগে
২৯ এপ্রিল, ২০১৯ ১০:৩৪

স্বাস্থ্য-নিরাপত্তায় অবদান রাখায় ২৪ কারখানা পুরস্কৃত

স্বাস্থ্য-নিরাপত্তায় অবদান রাখায় ২৪ কারখানা পুরস্কৃত

মেডিভয়েস রিপোর্ট: পেশাগত স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ‘পেশাগত স্বাস্থ্য ও সেইফটি উত্তম চর্চা পুরস্কার-২০১৯’ পেয়েছে বিভিন্ন খাতের ২৪টি কারখানা।

রোববার রাজধানীর ফার্মাগেটে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় নির্বাচিত প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের হাতে এই পুরস্কার তুলে দেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি।

পোশাক শিল্পের মধ্যে বিজিএমইএর ৭ সদস্য, বিকেএমইএর ৫ সদস্য, ওষুধ শিল্পের ৩ প্রতিষ্ঠান, চামড়া শিল্পের ৩ প্রতিষ্ঠান, চা শিল্পের ৩ প্রতিষ্ঠান এবং পাট শিল্পের ৩ প্রতিষ্ঠান এবার এ পুরস্কার অর্জন করে।

অনুষ্ঠানে শ্রমিকের অধিকার সুরক্ষায় শতাব্দিকাল ধরে অবদান রাখায় আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থাকেও (আইএলও) সম্মাননা দেওয়া হয়েছে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেন, ‘পেশাগত সেইফটি ও স্বাস্থ্য আমাদের সবার সাধারণ ও সহযোগিতামূলক লক্ষ্য হওয়া উচিত।’

‘শ্রমিকদের দেখভাল না করলে শ্রমিকরা কীভাবে কাজ করবে? সরকার মালিক ও শ্রমিককে আলাদা করে চায় না। সাইকেলের দুই চাকার মতো তারা একে অন্যের পরিপূরক।’

সম্প্রতি পোশাক শিল্পের নিরাপত্তা ও মানোন্নয়নে মালিকরা অনেক অর্থ ব্যয় করেছেন উল্লেখ করে এই শিল্পের অন্যতম উদ্যোক্তা টিপু মুনশি বলেন,  ‘যে পরিমাণ ব্যয় হয়েছে, সে তুলনায় ন্যায্য মূল্য পাচ্ছেন না মালিকরা।’

তিনি বলেন, ‘ন্যায্য মূল্যের জন্য কাজ করতে হবে নেদারল্যান্ডসের মতো বন্ধু রাষ্ট্রগুলোর রাষ্ট্রদূতদের। অন্যথায় শ্রমিকের প্রয়োজনীয় মজুরি কিংবা তাদের সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো কঠিন হবে।’

অনুষ্ঠানে শ্রম প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ান বলেন, ‘কর্মক্ষেত্রে সেইফটি নিশ্চিত করার জন্য শ্রম মন্ত্রণালয়ের অধীন দুই অধিদপ্তর–কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর এবং শ্রম অধিদপ্তর নিরলস কাজ করে যাচ্ছে।’

‘মালিকরা রক্তে, মাংসে, হাড়ে শ্রমিকদের উপলব্ধি করতে না পারলে, মন মানসিকতায় তাদের সঙ্গে অঙ্গাঅঙ্গিভাবে না জড়াতে পারলে উভয়ই ক্ষতিগ্রস্ত হবে। মালিক-শ্রমিক ঐক্যবদ্ধ থাকলে দেশের উন্নতি হবে।’

আইএলও  বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর টুমো পউটিয়াইনেন বাংলাদেশে কর্মক্ষেত্রে সেইফটি কালচার গড়ে তোলার অব্যাহত প্রচেষ্টার জন্য বাংলাদেশ সরকার, ডাইফ, মালিক ও শ্রমিক সংস্থাসমূহ, ফায়ার সার্ভিস এবং অ্যাকর্ড ও অ্যালায়েন্সকে সাধুবাদ জানান।

তিনি বলেন, “বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্প ধারাবাহিকভাবে বুঝতে শিখেছে কীভাবে এই শিল্পে নিয়োজিত শ্রমিকদের শিল্প দুর্ঘটনা ও মন্দ কর্মপরিবেশ থেকে রক্ষা করতে হয়।এসব শিক্ষা সব শিল্পখাতে প্রয়োগের সময় এসেছে। আর চারটি সেক্টরকে পেশাগত সেইফটি ও স্বাস্থ্য উত্তম চর্চা পুরস্কার প্রদানের কথা জেনে আমি আনন্দিত।’

উন্নয়ন সহযোগীদের পক্ষ থেকে বাংলাদেশে নেদারল্যান্ডসের রাষ্ট্রদূত হ্যারি ভারভেজ বলেন, ‘পেশাগত সেইফটি ও স্বাস্থ্য উন্নয়নে আমরা বাংলাদেশ সরকারের সাথে কাজ করে যাচ্ছি। একই সাথে আমরা আমাদের দেশের ব্র্যান্ড ও ক্রেতাদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি যাতে তারা পণ্য ক্রয়ে আরও দায়িত্বশীল হন এবং বাংলাদেশের কারখানাসমূহে কর্মপরিবেশ উন্নয়নে সহযোগিতা প্রদান করেন।’

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত