ঢাকা      মঙ্গলবার ২৫, জুন ২০১৯ - ১১, আষাঢ়, ১৪২৬ - হিজরী

১৬ বছরের কমবয়সীদের মোবাইল দেয়া উচিত নয়: ডা. প্রাণ গোপাল

মেডিভয়েস রিপোর্ট: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি ও বিশিষ্ট নাক, কান গলা বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত বলেছেন, ১৬ বছরের কমবয়সী কারো হাতে মোবাইল ফোন দেয়া উচিত নয়। অনেক্ষণ মোবাইল ফোনে কথা বললে মাথা ব্যথা, ঘুম না আসা, সহজ বিষয়ও ভুলে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে। একটানা বেশি সময় ধরে মোবাইল ব্যবহার করার কারণে তিনটা জয়েন্ট অকেজো হচ্ছে- শোল্ডার, এলবো, রিস্ট জয়েন্ট।

বৃহস্পতিবার সকালে চট্রগ্রামের ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স এন্ড টেকনোলজি (ইউএসটিসি) আয়োজনে মাওলানা ভাসানী অডিটোরিয়ামে ‘মোবাইল ফোন : স্বাস্থ্য ঝুঁকি’ শীর্ষক এক সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে তিনি এসব কথা বলেন।

উপস্থাপনায় মোবাইল ফোন ব্যবহার ও এর ঝুঁকি থেকে বাঁচতে কিছু সুপারিশ তুলে ধরেন অধ্যাপক ডা. প্রান গোপাল দত্ত। সুপারিশমালায় তিনি বলেন- দীর্ঘ সময় ধরে মোবাইল ফোনে কথা বলা উচিত নয়। তিন মিনিটের বেশি কথা না বলাই ভালো। কথার মাঝখানে ১৫ মিনিট বিরতি নেয়া, প্রয়োজনে স্পিকার বা হেডফোন ব্যবহার করা। এছাড়াও মোবাইলের বেইজ স্টেশন থেকে দূরে থাকতে হবে। রাস্তা পারাপারের সময় ফোনে কথা নয়।

আইসিইউতে মোবাইল ব্যবহারের ব্যাপারে প্রাণ গোপাল বলেন, সার্জনরা যখন অপারেশন করেন তখন ওটির ভেতর মোবাইল ব্যবহার করা ঝুঁকিপূর্ণ। কারণ, ওই মোবাইলের রেডিয়েশনটা রোগীকে দিচ্ছেন। আর অপারেশনকালীন যেসব মেশিন আমরা ইউজ করি তার ম্যালফাংশনিং হতে পারে। অনেকেই অপারেশন করছেন, ওই সময় অনেকের মোবাইল আসছে। ওই সময় যদি এমন কোনো সংবাদ আসে যে, আপনার ছেলে এক্সিডেন্ট করছে, তখন তিনি কীভাবে অপারেশন কন্টিনিউ করবেন? অথবা আপনার বাবা মারা গেছেন। তখন এ সংবাদ শোনার পর আপনি কীভাবে অপারেশন কন্টিনিউ করবেন?

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এক গবেষণার বরাত দিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন এ উপাচার্য বলেন, মোবাইল ফোন ও এর বেইজ স্টেশন থেকে আনলাইকলি ক্যান্সার, ব্রেইন টিউমার ও স্লেভারি গ্লান্ড টিউমারের ঝুঁকির শঙ্কা রয়েছে। মোবাইল ফোন আসার পর আমেরিকায় সড়ক দুর্ঘটনা বেড়েছে ৪ গুণ। মৃত্যুর হার বেড়েছে ১০ গুণ। তাছাড়া মোবাইলে ট্র্যাপ এখন ভয়াবহ পর্যায়ে পৌঁছেছে। আর ফেসবুক তো আছেই। এক গবেষণায় তথ্য- ফেসবুক মানুষের মস্তিস্কে কোকেনের মতোই আসক্তি সৃষ্টি করে।

ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত আরও বলেন, বিল গেটস ১৪ বছরের আগ পর্যন্ত নিজের কোন ছেলেকে মোবাইল দেননি। মোবাইল ফোনের ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে বিল গেটস জানেন বলেই দেননি।

প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সংবাদপত্র ‘দৈনিক আজাদী’র সম্পাদক এম এ মালেক। প্রফেসর ড. এ এম এম এহেতশামুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য প্রফেসর ড. নুরুল আবসার, ভারপ্রাপ্ত ট্রেজারার প্রফেসর ড. শফিউল হাসান ও বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল হাসপাতালের সিইও আহমদ শিফার উদ্দিন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে এম এ মালেক বলেন, মোবাইল ফোনের ব্যবহার নিয়ে আজকের যে সেমিনার, বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সেমিনারের মূল বক্তা মোবাইল ফোন ব্যবহারের ভালো-মন্দ দিক সম্পর্কে বিস্তারিত বলেছেন। এখানে যারা আছেন, সবাই বিবেকবান মানুষ। আশা করছি, আপনারা নিজেরাই বিষয়ের গভীরতা অনুধাবন করবেন। প্রযুক্তির ভালো-মন্দ উভয় দিকই রয়েছে। তবে ব্যবহারের বিষয়ে গণসচেতনতা প্রয়োজন। আজকের এ আয়োজনের মূল উদ্দেশ্যও কিন্তু এ বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টি।

ট্রাফিক সিস্টেমের খুব খারাপ অবস্থা উল্লেখ করে আজাদী সম্পাদক বলেন, কোথাও যেতে হলে এখন কয়েক ঘন্টা লেগে যায়। তবে এক্ষেত্রে মোবাইল ফোনের একটি সুবিধা রয়েছে। মোবাইল ফোনের মাধ্যমে অফিসের সব কাজ করে ফেলা যায়।

অনুষ্ঠানের সভাপতি প্রফেসর ডা. এএমএম এহেতশামুল হক বলেন, প্রযুক্তি আমাদের জন্য প্রয়োজনীয়। কিন্তু এর অপব্যবহার মানবজাতিকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যায়। তাই প্রযুক্তির পরিমিত ব্যবহারে আমাদের সচেতন হতে হবে। যাতে অপব্যবহার না হয়। বিশেষ করে ১৬ বছরের কম বয়সীদের কোন ভাবেই মোবাইল ফোন দেয়া উচিত নয়। এ বিষয়ে জোরালো সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন:

 


আরো সংবাদ















জনপ্রিয় বিষয় সমূহ:

দুর্যোগ অধ্যাপক সায়েন্টিস্ট রিভিউ সাক্ষাৎকার মানসিক স্বাস্থ্য মেধাবী নিউরন বিএসএমএমইউ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঢামেক গবেষণা ফার্মাসিউটিক্যালস স্বাস্থ্য অধিদপ্তর