ঢাকা      রবিবার ২২, সেপ্টেম্বর ২০১৯ - ৭, আশ্বিন, ১৪২৬ - হিজরী

প্রেসক্রিপশন ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রি বন্ধে হাইকোর্টে রিট

মেডিভয়েস রিপোর্ট: প্রেসক্রিপশন ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রি বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে একটি রিট করা হয়েছে।  বুধবার রিটটি দায়ের করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন।

রিটে বিবাদী করা হয়েছে, স্বাস্থ্য সচিব, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, জনপ্রশাসন সচিবসহ সংশ্লিষ্টদের। বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ও বিচারপতি রাজিক আল জলিলের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রিটের শুনানি হবে বলে জানান এই আইনজীবী।

আবেদনে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এক গবেষণার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।  তাতে বলা হয়েছে, অ্যান্টিবায়োটিকের প্রতি শরীর প্রতিরোধ গড়ে তুললে সে অবস্থাকে বলা হয় অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স। এই প্রবণতার কারণে প্রতিবছর বিশ্বে সাত লাখ মানুষের মৃত্যু হয়। ২০৫০ সাল নাগাদ এ সংখ্যা গিয়ে দাঁড়াবে ১ কোটিতে।

এ ব্যাপারে সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন বলেন, অ্যান্টিবায়োটিক শুধু যে আমরা নিজেরা নিচ্ছি তা নয়, কৃষিজাত পণ্য, গরু, ছাগল ও মুরগিতেও অ্যান্টিবায়োটিক ব্যাবহার হচ্ছে। ফলে পরোক্ষভাবে আমাদের শরীরে অ্যান্টিবায়োটিক প্রবেশ করছে। যার কারণে একটা বয়সে আর অ্যান্টিবায়োটিক কাজ করে না।  অ্যান্টিবায়োটিক একটা সময়ে আমাদের জন্য ছিলো বড় আবিষ্কার, কিন্তু বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এই সময়ে এটা আমাদের জন্য অভিশাপ হয়ে দাড়িয়েছে। এর একমাত্র কারণ হলো অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রির ক্ষেত্রে বাংলাদেশে কোন নিয়ম-কানুন মানা হয় না।

তিনি বলেন, আমরা চেয়েছি যে অ্যান্টিবায়োটিকটা যেন অন্তত স্পেশালাইজড ডাক্তারের প্রেসক্রিপশান ছাড়া এটা বিক্রি না হয়।  কারণ, বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষই অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যপারটা বুঝছেন না। আমি মনে করি এ ব্যাপারটা নিয়ে আমাদের এখনি সচেতন হওয়া প্রয়োজন, নয়তো আমাদের পরবর্তী ১/২টা জেনারেশনে আর কোন ওষুধে কাজ করবেনা।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. ছাবিকুন নাহার মেডিভয়েসকে বলেন, পৃথিবীর কোন দেশেই ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন ছাড়া ঔষধ বিক্রি হয় না, এন্টিবায়োটিক তো নয়ই। আবার যদি হয়ও, এন্টিবায়োটিক অবশ্যই ফুল ডোজ ছাড়া বিক্রি হবে না। এন্টিবায়োটিক ঠিকঠাক ডোজে না খেলে, কোর্স কমপ্লিট না করলে জীবাণুগুলো সব মরে না। কিছু মরে, কিছু বেঁচে থাকে। আর এই বেঁচে থাকা জীবাণুগুলো একসময়ে প্রতিরোধ জ্যাকেট তৈরী করে, এরপর যতই এন্টিবায়োটিক মিসাইল নিক্ষেপ করেন না কেনো কোন কাজ হবেনা। তারা বহাল তবিয়তে বেঁচে থাকবে।

তিনি আরও বলেন, রোগ হবে কিন্তু ঔষধে কাজ হবে না, কী ভয়ংকর অবস্থা! ফলে সামান্য সর্দিকাশিতে রোগীদের ভয়াবহ অবস্থা তৈরি হবে। গাদা গাদা ঔষধ গিলেও কোন ফায়দা হবে না। এর প্রভাব এভাবেই এক প্রজন্ম থেকে আরেক প্রজন্ম পর্যন্ত ভোগ করতে হবে।

গত ২০১৭ সালের এপ্রিলে প্রেসক্রিপশন ছাড়া এন্টিবায়োটিক বিক্রি বন্ধের নির্দেশনা জারি করে বাংলাদেশ ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর। নির্দেশনায় বলা হয়, কেবলমাত্র রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র মোতাবেক এন্টিবায়োটিক বিক্রয় সেবন বা গ্রহণ করতে হবে। বিশেষ ক্ষেত্রে কেবল সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী, প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্যকর্মী কর্তৃক সরবরাহকৃত এন্টিবায়োটিক গ্রহণ করা যাবে।

এরপর গত বছরের (২০১৮ সাল) ২৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ ওষুধ প্রশাসন প্রেসক্রিপশন ছাড়া বিক্রি করা যাবে এমন ৩৯টি ওষুধ বিক্রির অনুমোদন দেয়।

ওষুধগুলো হলো— কৃমির ট্যাবলেট (এলবেনডাজল চিউয়্যাবল ট্যাবলেট), গ্যাস্ট্রিকের ট্যাবলেট বা সিরাপ বা সাসপেনশন (এন্টাসিড চিউয়্যাবল ট্যাবলেট বা সাসপেনশন), ক্যালসিয়াম ট্যাবলেট, বেনজিল বেনজোয়েট লোশন, চর্মরোগসহ বিভিন্ন ধরনের লোশন, চোখ ও কানের ড্রপ, ব্যথার জন্য জেল, কনডম ও জন্মনিয়ন্ত্রণ পিল, গ্লিসারিন সাপোজিটরি, মেট্রোনিডাজল ট্যাবলেট (এন্টিবায়োটিক) বা সাসপেনশন, গ্যাস্ট্রিকের সিরাপ (মিল্ক অব ম্যাগনেশিয়া), মাউথ ওয়াশ, মাল্টিভিটামিন ট্যাবলেট বা ক্যাপসুল বা ড্রপ, ওমিপ্রাজল ক্যাপসুল, ওরস্যালাইন, প্যারাসিটামল ট্যাবলেট/সিরাপ/সাসপেনশন/ সাপোজিটরি, পারমেথ্রিন ক্রিম, রেনিটিডিন ট্যাবলেট, পোভিডন আয়োডিন, ভিটামিন এ ক্যাপসুল, ভিটামিন বি কমপ্লেক্স (একক বা যৌথ) ট্যাবলেট/সিরাপ/ড্রপ, জাইলোমেটাজোলিন জিরো পয়েন্ট ওয়ান নাসাল ড্রপ)। 

উল্লেখ্য, জাতীয় ওষুধ নীতি ২০১৬-এর ধারা ৩ (১৫)- তে প্রেসক্রিপশন ছাড়া বিক্রিযোগ্য ওষুধের তালিকা প্রণয়নের বিষয়ে বলা হয়েছে—  ‘উন্নত দেশগুলোর আদলে সাধারণভাবে ব্যবহারের ক্ষেত্রে’ এই তালিকা প্রণয়ন করা হবে। ধারা ৪ (১৮) -এ ওভার দ্য কাউন্টার (ওটিসি) বা প্রেসক্রিপশন ছাড়া বিক্রিযোগ্য ওষুধ সম্পর্কে বলা হয়েছে— নিবন্ধিত অ্যালোপেথিক, আয়ুর্বেদিক ও ইউনানি চিকিৎসা পদ্ধতির ওষুধের মধ্য থেকে সাধারণভাবে ব্যবহৃত এবং কম পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ওষুধ তালিকাভুক্ত করা হলো। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সুপারিশ ও সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী, ওষুধ প্রশাসন অধিদফতর সময় সময় এ তালিকা হালনাগাদ করবে বলে ওই নীতিমালায় বলা হয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন:

 


জাতীয় বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষায় রেকর্ড সংখ্যক আবেদন

এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষায় রেকর্ড সংখ্যক আবেদন

মেডিভয়েস রিপোর্ট: দেশের সরকারি ও বেসরকারি মেডিকেল কলেজে এমবিবিএস প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষায…

চিকিৎসক হিসেবে স্বীকৃতি চান পল্লী চিকিৎসকরা

চিকিৎসক হিসেবে স্বীকৃতি চান পল্লী চিকিৎসকরা

মেডিভয়েস রিপোর্ট: নির্ধারিত কিছু কোর্স সম্পন্ন করেই নিবন্ধিত চিকিৎসকের মর্যাদা চাচ্ছেন পল্লী…

‘ভ্যাকসিন হিরো’ সম্মাননায় ভূষিত হচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

‘ভ্যাকসিন হিরো’ সম্মাননায় ভূষিত হচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

মেডিভয়েস রিপোর্ট: বাংলাদেশে টিকাদান কর্মসূচির সাফল্যের জন্য ‘ভ্যাকসিন হিরো’ সম্মাননায় ভূষিত হচ্ছেন…

উপ-পরিচালক পদে পদোন্নতি পেলেন ৪৯ চিকিৎসক

উপ-পরিচালক পদে পদোন্নতি পেলেন ৪৯ চিকিৎসক

মেডিভয়েস রিপোর্ট: স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রনালয়ের বিভাগীয় পদোন্নতি পদোন্নতি কমিটির (ডিপিসি) সুপারিশক্রমে…

কুমিল্লার সেরা মেডিকেল অফিসার ডা. আবুল ফরহাজ খান

কুমিল্লার সেরা মেডিকেল অফিসার ডা. আবুল ফরহাজ খান

মো. মনির উদ্দিন: কুমিল্লা জেলার সেরা মেডিকেল অফিসার হিসেবে পুরস্কৃত হয়েছেন চান্দিনা…

রোগী দেখা রেখে ফিটনেস সার্টিফিকেট না দেয়ায় চিকিৎসক লাঞ্ছিত

রোগী দেখা রেখে ফিটনেস সার্টিফিকেট না দেয়ায় চিকিৎসক লাঞ্ছিত

মেডিভয়েস রিপোর্ট: নাটোরে রোগী দেখা রেখে ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য ফিটনেস সার্টিফিকেট না…

আরো সংবাদ














জনপ্রিয় বিষয় সমূহ:

স্বাস্থ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সায়েন্টিস্ট রিভিউ সাক্ষাৎকার মানসিক স্বাস্থ্য মেধাবী নিউরন বিএসএমএমইউ ঢামেক গবেষণা ফার্মাসিউটিক্যালস