ঢাকা      মঙ্গলবার ২১, মে ২০১৯ - ৭, জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৬ - হিজরী



ডা. কামরুল হাসান সোহেল

আবাসিক মেডিকেল অফিসার, 
ব্রাক্ষণপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, কুমিল্লা।


চিকিৎসকদের জন্য বেকারত্ব এক অভিশাপ

দেশে যে হারে সরকারি ও বেসরকারি মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে, সেগুলো থেকে প্রতিবছর ২০ হাজার বা তারও বেশি গ্র্যাজুয়েট চিকিৎসক এমবিবিএস পাস করে বের হচ্ছে। কিন্তু এতো বিপুল সংখ্যক চিকিৎসকের জন্য নেই পর্যাপ্ত কর্মসংস্থানের সুযোগ। সরকারি চাকরিতে মেডিকেল অফিসারের পদ সীমিত। প্রতিবছর বিসিএস এ ৩০০/৪০০ জন চিকিৎসক নিয়োগ দেয়া হয়।

প্রতি চার-পাঁচ বছর পর পর বিসিএসে ৫ হাজার প্লাস চিকিৎসক নিয়োগ দেয়া হয়। কিন্ত, বিসিএসের মাধ্যমে নিয়োগ প্রক্রিয়া খুবই ধীর। দুই বছর লেগে যায় নিয়োগ পেতে পেতে। আর সরকারি চাকরিতে মেডিকেল অফিসারের পদ সংখ্যা খুবই অপ্রতুল। তাই প্রতিবছরই বাড়ছে বেকার চিকিৎসকের সংখ্যা।

২০২০ সাল নাগাদ ৫০ হাজারেরও অধিক চিকিৎসক বেকার থাকবেন। ২০২২ সাল নাগাদ লক্ষাধিক চিকিৎসক বেকার থাকবেন। বেসরকারি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান, ক্লিনিক, হসপিটালেও এন্ট্রি লেভেলের চিকিৎসক পদের সংখ্যা অপ্রতুল। ক্লিনিকগুলো এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে দিনমজুরদের চেয়েও কম পারিশ্রমিক দেয় ডিউটি ডাক্তারদের। এত অল্প পারিশ্রমিকে চাকরি করে তাদের মানবেতর জীবনযাপন করতে হয়। সেই বেতনটাও অনেক ক্লিনিক নিয়মিত এবং সময়মতো দেয় না।

বেসরকারি মেডিকেল কলেজগুলোতে স্বল্প বেতনে লেকচারার, মেডিকেল অফিসার, এসিস্ট্যান্ট রেজিস্ট্রার পদে চাকরি করতে হয়। সব প্রতিকূলতা মেনেও সবাই বেসরকারি ক্লিনিক, হসপিটাল ও বেসরকারি মেডিকেল কলেজে চাকরি পাওয়ার জন্য রীতিমতো জোর তদবিরে লিপ্ত হতে হয়। এক অসম ও অসুস্থ প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হতে হয়। কি করবে, কিছু করার নাই। বেঁচে থাকার তাগিদে তাই করতে হয়।

অন্যদিকে, সরকারি হাসপাতালগুলোতে রয়েছে চরম চিকিৎসক সংকট। প্রতিবছর বিসিএস এর মাধ্যমে পর্যাপ্ত চিকিৎসক নেয়া হয় না বলে প্রায়ই উপজেলা হাসপাতালগুলো চিকিৎসক শুন্য থাকে। ৩১ শয্যা বিশিষ্ট উপজেলা হাসপাতালগুলোতে দিন রাত ২৪ ঘন্টা জরুরী চিকিৎসা সেবা দেয়া হলেও নেই ইএমও পোস্ট। যদি এইসব উপজেলা হাসপাতালগুলোতে ইএমও পদ সৃজন করা হয়, তাহলে আরো অধিক সংখ্যক চিকিৎসকের চাকরির সুযোগ হবে।

ক্রমান্বয়ে ৩১ শয্যা বিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলো ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়েছে, কিন্তু জনবল নিয়োগ দেয়া হচ্ছেনা। যদি জনবল নিয়োগ দেয়া হতো তাহলে আরো অধিকসংখ্যক চিকিৎসকের চাকরির সুযোগ হবে। প্রতিবছর বিসিএস এর মাধ্যমে পর্যাপ্ত সংখ্যক চিকিৎসক নিয়োগ দিতে হবে। নিয়োগ প্রক্রিয়া দ্রত শেষ করতে হবে। তাহলে হয়তো বেকারত্বের অভিশাপ থেকে মুক্ত হবে অনেক চিকিৎসক।

সংবাদটি শেয়ার করুন:

 


পাঠক কর্নার বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

৩৯তম বিসিএসের পোস্টমর্টেম

৩৯তম বিসিএসের পোস্টমর্টেম

দেশের সকল খাতের উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় স্বাস্থ্যসেবাকেও যুগোপযোগী করে তুলতে অপ্রতুল জনবলের বিষয়টি…

৩৯তম বিসিএসের নন-ক্যাডারদের দাবি, বিপক্ষ মতের যুক্তিখণ্ডন

৩৯তম বিসিএসের নন-ক্যাডারদের দাবি, বিপক্ষ মতের যুক্তিখণ্ডন

যুক্তি-১ বিপক্ষ মতের কাউকে কাউকে বলতে শোনা যায়, একসঙ্গে এত চিকিৎসক নিয়োগের…

‘প্রধানমন্ত্রীর স্বদিচ্ছা সত্ত্বেও নিয়োগবঞ্চিত নন-ক্যাডার চিকিৎসকরা’

‘প্রধানমন্ত্রীর স্বদিচ্ছা সত্ত্বেও নিয়োগবঞ্চিত নন-ক্যাডার চিকিৎসকরা’

জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে টানা তৃতীয়বার ক্ষমতায় আসার আগের দুই মেয়াদে আওয়ামী…

নিরাপত্তাহীনতায় কর্মস্থল বদল

নিরাপত্তাহীনতায় কর্মস্থল বদল

যায় দিন ভাল, আসে দিন খারাপ! জানি না আর কি কি খারাপ…

শিশুদের উচ্চ রক্তচাপঃ এক অবহেলিত অধ্যায়

শিশুদের উচ্চ রক্তচাপঃ এক অবহেলিত অধ্যায়

শিশুদের রক্তচাপ মাপতে গেলেই রোগীর বাবা-মা সবসময়ই যে প্রশ্নটি করেন সেটি হল…

দেশে ক্যান্সার চিকিৎসার বাস্তবতা ও আমার কিছু অভিজ্ঞতা

দেশে ক্যান্সার চিকিৎসার বাস্তবতা ও আমার কিছু অভিজ্ঞতা

আমার মা ২ সপ্তাহ আগে মারা গেছেন। উনি গত আড়াই বছর ধরে…

আরো সংবাদ














জনপ্রিয় বিষয় সমূহ:

দুর্যোগ অধ্যাপক সায়েন্টিস্ট রিভিউ সাক্ষাৎকার মানসিক স্বাস্থ্য মেধাবী নিউরন বিএসএমএমইউ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঢামেক গবেষণা ফার্মাসিউটিক্যালস স্বাস্থ্য অধিদপ্তর