ঢাকা      মঙ্গলবার ২১, মে ২০১৯ - ৭, জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৬ - হিজরী



ডা. সুরেশ তুলসান

সহকারী অধ্যাপক (সার্জারি), কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ।


বিজিএমইএ ভবন না ভেঙে সরকারি শিশু হাসপাতাল করে দিন

ভবনের সামনে একটা দৃশ্যমান বড় বিলবোর্ডে ভবনের ইতিহাস লেখা থাকবে। লেখা থাকবে ভবন তৈরিতে হওয়া অনিয়ম এর বর্ণনা, ভবন বাজেয়াপ্ত করার কারণ এবং রায়ের একটা সংক্ষিপ্ত বিবরন। আইন না মানার এই দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির প্রতীক হয়ে থাকবে চোখের সামনে আজীবন, যেন একটা ঐতিহাসিক রায়ের স্মৃতিস্তম্ভ।

ভেঙে ফেললে মানুষ ভুলে যাবে অল্প দিনেই এবং আবার একই অন্যায় করবে, এভাবেই সরকারি জমি, নদী নালা, খাল, বিল, হাওর-বাওর, পাহাড়-টিলা, বনভুমি ইত্যাদি দখল করবে। ওটাকে শাস্তি স্বরূপ বাজেয়াপ্ত করে ন্যায় বিচারের স্মারক হিসাবে টিকিয়ে রাখতে হবে। মানুষ অনন্তকাল ধরে দেখবে এবং জানবে কেন ওটাকে বাজেয়াপ্ত করা হয়েছিল।

আর শিশু হাসপাতাল কেন এত কিছু বাদ দিয়ে? কারণ শিশুরা আমাদের আগামী প্রজন্ম, তারা শিশুকাল থেকেই জানবে বিজিএমইএ’র মতো একটি শক্তিশালী প্রতিষ্ঠানও অন্যায় করে পার পায়নি। শিক্ষাটা প্রজন্মের পর প্রজন্ম চলতেই থাকবে। প্রতি বছর যে পরিমাণ শিশু অর্থাৎ আগামী প্রজন্ম এখানে যাতায়াত করবে এবং নিয়ম যে মানতে হয়, সেটা জানবে সেটা অন্য কোন প্রতিষ্ঠান করলে ততটা বেশি হবে না।

বিল্ডিংটার দাম ৩০০ কোটি টাকারও বেশি, বেআইনিকে আইনসিদ্ধ করতে বলছি না। ওটাকে বাজেয়াপ্ত করে একটা ভালো কাজে লাগাতে বলছি এবং ভবনটা অনন্ত কাল দাঁড়িয়ে থাকবে সাক্ষীর মত ন্যায় বিচারের ইতিহাস হয়ে এবং ভাঙার খরচটাও বাঁচবে। ভাঁঙার পর কংক্রিটের আবর্জনা যেখানে ফেলবে সেখানকার পরিবেশ নষ্ট হবে।

আমাদের এই গরীব মানুষের দেশে বাচ্চাদের তেমন ভালো কোন হাসপাতাল নেই, যা আছে অপর্যাপ্ত। একটা নতুন কিছু এখন থেকে ভাবলেও তা চালু করতে যত দিন লাগবে ততদিনে চাহিদাও বাড়বে। মনে রাখতে হবে ভবনটা অনেক মুল্যবান। এর আকার এতটাই বড় যে, এখানে সকল সাবস্পেশালিটি সহ অতি আধুনিক আন্তর্জাতিক মানের শিশু হাসপাতাল এখনই চালু করা সম্ভব।

টাকাগুলো আমাদের দরিদ্র মেয়েদের ঘাম ঝরানো পরিশ্রম এর ফসল। এর বদলে হাতিরঝিলের যে সৌন্দর্য হারাবে তা অতি তুছ্য ব্যপার, অনেকটা গরীব মানুষের নতুন কাপড়ে ছোট্ট একটা রিপুর মত।

র‌্যাংগস ভবনের কথা মনে আছে, ভবনটা বাজেয়াপ্ত করে ভালো কাজে ব্যবহার করা যেত, কিন্তু না ভেঙে উপায় ছিল না, জনস্বাথেই ভাঙতে হয়েছে রাস্তার প্রয়োজনে। কিন্ত, এই ভবনটি দাঁড়িয়ে থাকলে তেমন কোন জনস্বার্থ ব্যহত হবে না। র‌্যাংগস ভবন ভাঙার সময় দুর্ঘটনাবশত শ্রমিক মৃত্যুর কথা মনে পড়ে, সংখ্যাটা দেশের জনসংখ্যার তুলনায় কিছুই না, কিন্তু যে পরিবারের মানুষ মারা গেছে তাদের জন্য বিরাট অপূরণীয় ক্ষতি।

সংবাদটি শেয়ার করুন:

 


পাঠক কর্নার বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

৩৯তম বিসিএসের পোস্টমর্টেম

৩৯তম বিসিএসের পোস্টমর্টেম

দেশের সকল খাতের উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় স্বাস্থ্যসেবাকেও যুগোপযোগী করে তুলতে অপ্রতুল জনবলের বিষয়টি…

৩৯তম বিসিএসের নন-ক্যাডারদের দাবি, বিপক্ষ মতের যুক্তিখণ্ডন

৩৯তম বিসিএসের নন-ক্যাডারদের দাবি, বিপক্ষ মতের যুক্তিখণ্ডন

যুক্তি-১ বিপক্ষ মতের কাউকে কাউকে বলতে শোনা যায়, একসঙ্গে এত চিকিৎসক নিয়োগের…

‘প্রধানমন্ত্রীর স্বদিচ্ছা সত্ত্বেও নিয়োগবঞ্চিত নন-ক্যাডার চিকিৎসকরা’

‘প্রধানমন্ত্রীর স্বদিচ্ছা সত্ত্বেও নিয়োগবঞ্চিত নন-ক্যাডার চিকিৎসকরা’

জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে টানা তৃতীয়বার ক্ষমতায় আসার আগের দুই মেয়াদে আওয়ামী…

নিরাপত্তাহীনতায় কর্মস্থল বদল

নিরাপত্তাহীনতায় কর্মস্থল বদল

যায় দিন ভাল, আসে দিন খারাপ! জানি না আর কি কি খারাপ…

শিশুদের উচ্চ রক্তচাপঃ এক অবহেলিত অধ্যায়

শিশুদের উচ্চ রক্তচাপঃ এক অবহেলিত অধ্যায়

শিশুদের রক্তচাপ মাপতে গেলেই রোগীর বাবা-মা সবসময়ই যে প্রশ্নটি করেন সেটি হল…

দেশে ক্যান্সার চিকিৎসার বাস্তবতা ও আমার কিছু অভিজ্ঞতা

দেশে ক্যান্সার চিকিৎসার বাস্তবতা ও আমার কিছু অভিজ্ঞতা

আমার মা ২ সপ্তাহ আগে মারা গেছেন। উনি গত আড়াই বছর ধরে…

আরো সংবাদ














জনপ্রিয় বিষয় সমূহ:

দুর্যোগ অধ্যাপক সায়েন্টিস্ট রিভিউ সাক্ষাৎকার মানসিক স্বাস্থ্য মেধাবী নিউরন বিএসএমএমইউ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঢামেক গবেষণা ফার্মাসিউটিক্যালস স্বাস্থ্য অধিদপ্তর