ডা. শামীমা জাহান

ডা. শামীমা জাহান

সহযোগী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান, সার্জারী বিভাগ।
ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ,  ৫৩/১, জনসন রোড, ঢাকা।


১৭ এপ্রিল, ২০১৯ ০৮:২০ পিএম

হাইপোথাইরয়েডিজম

হাইপোথাইরয়েডিজম

চিকিৎসা ক্ষেত্রে পরীক্ষার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে বিশাল বিতর্ক পড়লাম। ডাক্তার ছাড়া অনেকের ভাবনাই নেতিবাচক। দুঃখজনক। একটি উদাহরণ দিচ্ছি, তাতে সামান্য ধারনা পাওয়া সম্ভব।

এক সন্ধ্যায় অতি পর্দানশীন মধ্যবয়সী ভদ্রমহিলা এলেন, Breast Abscess নিয়ে, বরিশালের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে এসেছেন, দশ দিন পার হয়েছে। Abscess এর উপরের চামড়া প্রায় নষ্ট। অতি অসুস্থ। জরুরী অপারেশনের পূর্ণ প্রটোকল মেনেই দ্রুত ভর্তির পর রাত দশটায় অপারেশনে গেলাম। আধাঘন্টায় অপারেশন শেষ হলেও রোগী জ্ঞান ফিরে পেলেন না। তার রুটিন পরীক্ষা সমুহে কোন সমস্যা ছিলো না। সিনিয়র ও জুনিয়র সব অবেদনবিদগন একত্রিত হলেন। নানা সম্ভাবনাই আলোচনা হলো। তার মধ্যে একটি ছিলো হাইপোথাইরয়েডিজম।

তিনঘন্টা পর তিনি জ্ঞান ফিরে পেলেন। রোগীকে আপাতঃ স্হিত অবস্হায় রেখে রাত দুটোয় বাড়ী ফিরলাম। পরদিন সন্ধ্যায় S.TSH পেলাম। অবেদনবিদগন সঠিক। এন্ডোক্রাইনোলজিষ্ট দেখে আরও জটিলতা পেলেন। Auto immune Thyroiditis. কোন উপসর্গ ছিলো না।

এই ঘটনা আট বছর আগের। তিনি বছরে ৩/৪বার আসেন। এরমধ্যে ডায়াবেটিস( IDDM) ও দেখা দিয়েছে। শেষবার আজ সন্ধ্যায় এলেন, দু'পায়ে Varicose Vein নিয়ে। ভাসকুলার সার্জনের কাছে পাঠালাম।

এখন রোগীণী যারা অস্বাভাবিক স্থূলতা, কোষ্ঠকাঠিন্য, স্তনে ব্যাথা, মাসিকের সামান্যতম অনিয়মিতি আছে, বয়স যাই হোক, S.TSH করা হয়। যদিও নির্দেশনা আছে,৩০ বছর বয়সের পর, প্রতি পাঁচ বছরে একবার পরীক্ষা করা যাবে। অথচ, ২০ বয়সের নীচে মেয়েদের হাইপোথাইরয়েডিজম প্রায়ই পাওয়া যাচ্ছে। সবাই নূন্যতম সমস্যা নিয়েই আসেন। পরিপূর্ণ হাইপোথাইরয়েডিজম চিত্র পাওয়া যায় না। রোগিনীরা কেউ সন্দেহজনক চিহ্নিত এলাকার লোক নন। তবে কি রোগ নির্ণয় বন্ধ থাকবে?

যখন ছাত্র -ছাত্রীদের পড়াই, বলি, যার যত বেশী সন্দেহ করার ক্ষমতা আছে, সেই ভালো ডাক্তার হবে। সন্দেহ করার ক্ষমতা অর্জনের জন্য পড়তে হবে অনেক। ভুল বলি?

সমালোচনা অবশ্যই করবেন। কেন নয়? একটু বুঝেশুনে করাই ভালো। একবার ভেবে দেখুন, সাধারন মানুষ যখন পহেলা বৈশাখের আনন্দে ডুবে ছিলো, মে' মাসে অনুষ্ঠিতব্য পরীক্ষার ছেলেমেয়েরা ছিলো টেবিলে। আর আমাদের জীবন! পেশা টানতে গিয়ে জীবন অনেকেই ছিন্নভিন্ন করে ফেলেছেন। কেউ জানেনা, জানতেও চায় না। একই কথা ঘুরে ফিরে আসে, ভিজিট কমাও। পরীক্ষা দিওনা। চোঁখে দেখে রোগ নির্ণয় করো, ঔষধ দাও।

ভিজিট দেবেন না, পরীক্ষাও বন্ধ রাখুন। আমরাও বাসায় শান্তিতে বিশ্রাম নিতে চাই। সারাক্ষণ ফোনের শব্দ শোনা বড় কঠিন। আমাদের মুক্তি দিন, নিজেদের মুক্তি খুঁজে নিন।

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত