অধ্যাপক ডা. সালমা আফরোজ

অধ্যাপক ডা. সালমা আফরোজ

সাবেক বিভাগীয় প্রধান, হেমাটোলজি, ঢাকা মেডিকেল কলেজ। 


১৭ এপ্রিল, ২০১৯ ০৪:৪০ পিএম

হিমোফিলিয়ার চিকিৎসায় সরকারি উদ্যোগ জরুরি

হিমোফিলিয়ার চিকিৎসায় সরকারি উদ্যোগ জরুরি

রাত ১১টা। মোবাইলে অপরিচিত নম্বর থেকে কল আসে। ভয়-সংশয়ে ফোন ধরতেই ওপাশ থেকে কান্নাজড়িত কণ্ঠ, ‘ম্যাডাম আমার বাচ্চাটাকে বাঁচান। পড়ে গিয়ে ওর ঠোট কেটে গেছে, খুব রক্ত পরছে!’

রোগী না দেখে কি বলবো, কিছুই বুঝতে পারছিলাম না। তিনি বললেন, বাচ্চার হিমোফিলিয়া। ৩ বছর আগে আমার কাছে ভর্তি ছিল। হেল্থ কমপ্লেক্সে বা কাছাকাছি মেডিকেল কলেজে নিতে বলি। কোন কিছুই কাছাকাছি নেই। প্রয়োজনীয় কিছুই কাছে নেই। আবার অনেক হাসপাতালে এ রোগী রাখতে চায় না।

মুঠোফোনে যতটুকু উপদেশ সম্ভব দিলাম। কিন্তু এ রকম একজন রোগীর চিকিৎসা দিতে না পেরে সারারাত অস্থিরতার মধ্য কাটলো। ওর পরিবারের অসহায়ত্বের কথা বারবার মনে হলো। 

পাবনা থেকে ১৮/১৯ বছরের রোগী আসলো। বাম পাটা হাঁটুর উপড় থেকে অসম্ভব ফুলে আছে। চামড়া টানটান হয়ে আছে। যন্ত্রনায় কাতরাচ্ছে। খুব গরিব।তাই ডাক্তারের নিষেধ সত্ত্বেও শ্রমিকের কাজ করতো। পাটা দিনদিন ফুলছিলো। টাকার অভাবে কিছুই করতে পারেনি।

চিকিৎসার কোনো কিছুই পাওয়া যায়নি পাবনাতে। ঢাকায় আসার টাকা জোগাড় করতে অনেক দেরি হয়েছিল। আবার টাকার অভাবে ফিরে যেতে হয়েছিল। কয়দিন পর ওর মৃত্যুর খবর পেলাম।

যাদের কথা লিখলাম, ওরা অস্বাভাবিক রক্তপাতের রোগী। আমরা আঘাত পেলে বা কোন জায়গা কেটে গেলে স্বাভাবিক নিয়মে একটু পর জমাট বেধে রক্ত বন্ধ হয়। 

রক্তের কতগুলো উপাদান প্রয়োজন। এর মধ্য ৮ ও ৯ উপাদান হিমোফিলিয়া রোগীদের কম বা একবারেই থাকে না। তাই ওদের অনেক বেশি রক্ত পরে। এই ফ্যাক্টর বা উপাদান x ক্রোমজম তেরি করে। এই রোগীর অসুস্থ x ফ্যাক্টর তেরি করতে পারে না।

ছেলেদের xy একটা x থাকায় ফাক্টর অভাব হয়। তাই রক্ত বন্ধ হতে চায় না। কিন্তু মেয়েদের xx থাকায় অসুস্থ একটা x থাকলেও অন্য x ফ্যাক্টর তৈরি করায় এই রোগে ভোগে না, শুধুমাত্র বহন করে। ছেলেরা মায়ের কাছ থেকে এই রোগ পেতে পারে। আবার কিছু রোগীর পরিবারে এই রোগ নাও থাকতে পারে।

হিমোফিলিয়ার প্রধান উপসর্গ অস্বাভাবিক রক্তপাত, তা শরীরের বাইরে বা ভিতরে হতে পারে। কতখানি ফ্যাকটর তার উপর উপসর্গ নির্ভর করে। নিজ থেকে বা আঘাতে রক্তক্ষরণ হয়। ভার বহন করে এমন জয়েন্টই বেশি ক্ষতি হয়। পরে জয়েন্ট কাজ করে না, এক পর্যায়ে রোগী পঙ্গু হয়ে যায়। রক্ত পড়তে পড়তে কেউ কেউ মারাও যায়।

আমাদের দেশে এই রোগীদের রোগ নির্ধারণ ব্যবস্থা সীমিত ও ব্যয়বহুল। চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় ফ্যক্টর অপ্রতুল ও দামি হওয়ায় বেশিরভাগ রোগীই পযাপ্ত চিকিৎসা নিতে না পারায় পঙ্গু হয়ে থাকে। 

এ অবস্থায় অন্ততপক্ষে সব সরকারি হাসপাতালে কমমূল্যে পরীক্ষা করা গেলে অনেক রোগীর ডায়াগনোসিস হতো। আবার ইমার্জেন্সির জন্য ফ্যাক্টর সাপ্লাই থাকলে অনেক দুর্ভোগ কমানো যেতো। অন্ততপক্ষে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালগুলোতে প্লাজমা রক্ত থেকে আলাদা করে রাখার ব্যবস্থা করলে খুব সহজেই রোগী কিছু সেবা পেতো। আর এজন্য শুধু সদিচ্ছারই প্রয়োজন।

অনেক রোগী আমাদের চোখের আড়ালে, ওদের কাছে আনি। সেবা পাবার অধিকার দেই। বিশ্ব হিমোফিলিয়া দিবসে রোগী ও ওদের পরিবারের জন্যসহমর্মিতা ও শুভকামনা।
 

করোনা ও বার্ধক্যজনিত অসুস্থতা

এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক

এক বছর প্রয়োগ হবে সেনা সদস্যদের দেহে

চীনে করোনার প্রথম ভ্যাকসিন অনুমোদন

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
তুমি সবার প্রফেসর আবদুল্লাহ স্যার, আমার চির লোভহীন, চির সাধারণ বাবা
পিতাকে নিয়ে ছেলে সাদি আব্দুল্লাহ’র আবেগঘন লেখা

তুমি সবার প্রফেসর আবদুল্লাহ স্যার, আমার চির লোভহীন, চির সাধারণ বাবা

বেশিদিন ওমিপ্রাজল খেলে হাড় ক্ষয়ের ঝুঁকি বাড়ে 
কিডনি পাথরের ঝুঁকি বাড়ায় নিয়মিত অ্যান্টাসিড সেবন 

বেশিদিন ওমিপ্রাজল খেলে হাড় ক্ষয়ের ঝুঁকি বাড়ে 

ডাক্তার-নার্সদের অক্লান্ত পরিশ্রমের কথা মিডিয়ায় আসে না
জাতীয় হৃদরোগ ইন্সটিটিউটের সিসিউতে ভয়ানক কয়েক ঘন্টা

ডাক্তার-নার্সদের অক্লান্ত পরিশ্রমের কথা মিডিয়ায় আসে না