১৭ এপ্রিল, ২০১৯ ১২:১৯ পিএম

বিশ্ব হিমোফিলিয়া দিবস আজ

বিশ্ব হিমোফিলিয়া দিবস আজ

মেডিভয়েস রিপোর্ট: বিশ্ব হিমোফিলিয়া দিবস আজ। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও নানা আয়োজনে পালিত হচ্ছে দিবসটি।

চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, বংশাণুক্রমিক রক্তক্ষরণজনিত একটি রোগের নাম হিমোফিলিয়া। প্রাচীনতম দুরারোগ্য মরণব্যাধিগুলোর অন্যতম এটি। মূলত রক্তে জমাট বাঁধার উপাদান বা ফ্যাক্টর জন্মগতভাবে কম থাকার কারণে এ রোগটি হয়ে থাকে।

রক্ত জমাট বাঁধার জন্য মানব দেহে কিছু গুরুত্বপূর্ণ উপাদান রয়েছে, যাদেরকে বলা হয় 'ক্লটিং ফ্যাক্টর'। আর এই ক্লটিং ফ্যাক্টরের অভাবেই রোগী আক্রান্ত হয় হিমোফিলিয়ায়। 

চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায়, সাধারণত ক্লটিং ফ্যাক্টর-৮ এবং ক্লটিং ফ্যাক্টর-৯ এর অভাবে হিমোফিলিয়া দেখা দেয়। যেহেতু এটি একটি বংশগত রোগ তাই এক্স ক্রোমোজোমের (Chromosome X) ত্রুটির কারণে এই উপাদান দুটি শরীরে তৈরি হয় না। জন্মগতভাবে প্রাপ্ত এই রোগটি এক্স ক্রোমোজোম দ্বারা বংশ পরম্পরায় বাহিত হয় বলে শুধুমাত্র পুরুষেরাই এই রোগে আক্রান্ত হয়। মহিলারা এই রোগের ক্রোমোজোমের ত্রুটি বহন করলেও এতে আক্রান্ত হয় না। তারা শুধুমাত্র বাহক হিসেবে কাজ করে।

হিমোফেলিয়ায় আক্রান্ত রোগীর প্রচুর রক্তপাত হয়। নিম্নে এর কারণগুলো তুলে ধরা হলো:  
১. মহিলাদের মাসিকের সময় অনেক দিন ধরে রক্ত ঝরা, 
২. সময়ে সময়ে নাক বা দাঁত দিয়ে রক্ত বের হওয়া, 
৩. দাঁতের অপারেশনের পর প্রচুর রক্তপাত হওয়া এবং 
৪. প্রস্রাবের সঙ্গে রক্ত যাওয়া।

বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, হিমোফিলিয়া ২ ধরনের হয়ে থাকে। হিমোফিলিয়া ‘এ’ এবং হিমোফিলিয়া ‘বি’। তাদের মতে, ৮৫ শতাংশ রোগীর হিমোফেলিয়া ‘এ’ এবং ১৫ শতাংশ রোগীর হিমোফেলিয়া ‘বি’তে আক্রান্ত হয়।

তারা আরও বলেন, রক্ত জমাট বাঁধা জনিত বিশৃঙ্খলায় সবচেয়ে পরিচিত হলো হিমোফেলিয়া 'এ'। দশ হাজার শিশুর মাঝে অন্তত একটি শিশু জন্মের সময় এ রোগে আক্রান্ত হয়। অন্যদিকে হিমোফেলিয়া 'বি'তে জন্মের সময় আক্রান্ত হতে পারে ৩৪ হাজার শিশুর মাঝে একজন।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আমেরিকায় প্রতি ১০ হাজার মানুষের মধ্যে গড়ে অন্তত একজন হিমোফেলিয়া 'এ' রোগে আক্রান্ত।

বাংলাদেশে এ রোগের কোনো গবেষণা ও সঠিক পরিসংখ্যান না থাকলেও চিকিৎসকদের ধারণা, দেশে বর্তমানে প্রায় ১০ হাজার মানুষ হিমোফেলিয়াতে আক্রান্ত।

নোভার্টিজ ফাউন্ডেশনের কনসালট্যান্ট ড. জেফরি কোহেন বলেছেন, বিশ্বব্যাপী প্রায় চার লাখ মানুষ এ রোগে আক্রান্ত।

হিমোফেলিয়া রোগ এখন পর্যন্ত অনিরাময়যোগ্য একটি রোগ। তবে চিকিৎসকরাও বলেন, এ রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির প্রথম দায়িত্বই হচ্ছে যেকোনো আঘাতে যেন রক্তক্ষরণ না ঘটে, সেদিকে লক্ষ্য রেখে সচেতনভাবে চলা। 

আর রক্তক্ষরণ বন্ধে প্রধান ব্যবস্থা হচ্ছে রক্তসঞ্চালন। রক্ত থেকে তৈরি 'ফ্রেশ ফ্রোজেন প্লাজমা' নামক উপাদানই কেবল এ রক্তক্ষরণ বন্ধ করতে সক্ষম। কিন্তু এ ফ্রেশ ফ্রোজেন প্লাজমা তৈরিতে অনেক রক্তের ও অনেক সময়ের প্রয়োজন হয়, যা ব্যয়বহুল। দরিদ্র অসহায় রোগীদের ক্ষেত্রে প্লাজমা তৈরি ও সংগ্রহ একপ্রকার দুঃসাধ্য।

১৯৮৯ সাল থেকে প্রতিবছর বিশ্বজুড়ে দিবসটি পালিত হয়ে আসছে। 'বাংলাদেশ ফেডারেশন অব হিমোফেলিয়া' প্রতি বছর দিবসটি পালনে জাতীয় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে আলোচনা সভার আয়োজন করে থাকে। 

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি
জাতীয় ওষুধনীতি-২০১৬’ এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন

নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি