ঢাকা      মঙ্গলবার ১৭, সেপ্টেম্বর ২০১৯ - ২, আশ্বিন, ১৪২৬ - হিজরী



ডা. ছাবিকুন নাহার

মেডিকেল অফিসার, ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল


গল্প: জীবনে বৈশাখ

ইন্টার্নির শেষের দিকে। একদিন লামিয়ার রুমে বসে আড্ডা দিচ্ছি। ততক্ষনে সন্ধ্যে মিলিয়ে রাত। নিজের এক ব্যাচ জুনিয়র হলেও ওর সাথে ঘন্টার পর ঘন্টা আড্ডা দিতে পারতাম আমি। ও ছিলো দারুণ মায়াময় একটা মেয়ে। একটু ইন্ট্রোভার্ট। হঠাৎ এসএমএসের টুং শব্দে আড্ডায় ছেদ পড়ে। তখন ফেসবুক না, টেক্সট এর যুগ। মুঠোফোনের স্ক্রিনে চোখ রাখি।

"এত্ত কাব্যিক, এত্ত রোমান্টিক তুমি!
নিশ্চয় খুব সুন্দর তুমি, না দেখেও আমি বলতে পারি,
চাঁদের আলো ভালোবাস না?
একবার বাইরে এসে দেখো,
মন ভরে যাবে এক অনন্য আলোয়।"

বন্ধু বান্ধব কারো কাজ। শ্লাঘা বোধ করি একটু। বিরক্ত হই খানিকটা। দস্যুর দল দেখতে চায়, তাদের প্রেম মার্কা কথায় কি রিএ্যাক্ট করি। পরে মজা করে বলতে পারবে, "দেখতে তো মার্গারেট থেচার টাইপ একটা ভাব করে রাখে, অথচ তলে তলে এই?"

সব কিন্তু বুঝি। কাজেই মজা করার সে সুযোগ তোমরা পাবেনা বাছাধন। আমাকে তো চিন না। আমি মিহনী। তোমাদের সবাইকে হাড়ে মাংসে চিনি। ভুল দরজায় কড়া নেড়েছ বালক। হায়, তখন যদি জানতাম, সৃষ্টিকর্তা আড়ালে মিটিমিটি হাসছেন! যাক সেটা আমরা পরে জানব।

এ ধরনের পটানো মার্কা এসএমএস আসলে, কাল-ক্ষেপন না করে মুহূর্তের মধ্যে ডিলিট করে দেই। কিন্তু কী মনে করে যেনো এটা রেখে দিলাম। শুধু তাই না, একফাঁকে পর্দা সড়িয়ে আকাশটাও দেখলাম। সেখানে ইয়া বড় এক হলদে চাঁদ তার সবটুকু আভা নিয়ে আমার দিকে তাকিয়ে আছে! কী ভয়ংকর অবস্থা! সমানে হাত পা কাঁপছে। যে এসএমএস করেছে, সে জানে আমার জোছনা পছন্দ! এও জানে ছাদ ভর্তি চাঁদের আলোয় আমি হতবুদ্ধি হয়ে বসে থাকি! আর এজন্যই এমন টাইমিং! তাড়িত বোধ করি।

ধুরর... কী যে ভাবছি! আমার কি পছন্দ না পছন্দ, তা অন্যের জানার কথা না। কাউকে ভিতরের কথা বলব, সে পাবলিক আমি না। অতনু টুকটাক কিছু জেনে থাকবে হয়তো। কিন্তু প্রেমময় পটানো টাইপ কিছু ওর সাথে যায় না। সো সন্দেহের তালিকা থেকে একটানে তার নাম কেটে দেয়া যায়। আর কে থাকল তাহলে?

ক্যাম্পাসের সবাই মোটামুটি আমাকে ক্যাডার বলে ডাকে। কাউকে কেয়ার করি না। ভয় পাই না। অযথা লজ্জায় লাল টাল হই না। এই টাইপ মেয়েদের ব্যক্তিত্বে মোহাবিষ্ট হওয়া যায়। এদের বন্ধুত্বের সান্নিধ্যে সমৃদ্ধ হওয়া যায়। কিন্তু প্রেম করা যায় না। সাহসে কুলায় না। প্রপোজ করলে, বরং থাপ্পর খাওয়ার ভয় থাক। আসলে প্রেম করতে হয় নিরীহ লাজুক লতা টাইপ কারো সাথে। যে প্রেমিক হাসলে হাসবে, কাঁদলে কাঁদবে। রোজ নিয়ম করে বাবু, ময়না, জান, এবং আরো ডজনখানিক উদ্ভট নামে ডাকবে। এসবের কিছুই আমার সাথে যায় না।

দৈব বলে সুন্দর একটা কথা আছে! চাঁদটা দেখে আমার সেই কথাটাই মনে পড়ল। কেনো পড়ল কে জানে? মানুষ ভাবে এক আর ঈশ্বর করেন আরেক। ভেবেছিলাম, কিছুতেই কখনো জড়াবো না। কিন্তু নিছক একটা এসএমএস ই ভিতরটা নাড়া দিয়ে গেলো! ঘটণা খারাপ। এত সহজে তো আলোড়িত হওয়া যাবে না। তোমার ইমেজের সাথে এটা যায়না, নিজেকে নিজে বলি।

মুখে বলি বটে, না বাবা আমি এর মধ্যে নেই। তাই আমার প্রেমও নেই। তবে সবার অলক্ষ্যে একটা দীর্ঘশ্বাস ঠিকই পড়ে। কোন দুঃখে যে শক্ত পোক্ত একটা ইমেজ তৈরী করতে গিয়েছিলাম!

একদিন তো মেডিকেলের এক সিনিয়র ভাই বলেই বসল-

: তুমি রবীন্দ্র সংগীত শোন? চোখে মুখে অবাক ভাব।

: কেনো বনি ভাই, আমি রবীন্দ্র সঙ্গীত শুনতে পারি না?

: না মানে তোমাকে দেখে মনে হয়, সবকিছু ঠাসঠাস। স্ট্রেইট ফরোয়ার্ড। আর্মিতে গেলে ভালো করবে। সফট কিছু তোমার সাথে যায়...! (বনি ভাই, আমতা আমতা করতে থাকেন। যেনো কথা খুঁজে পাচ্ছেন না)

আসলে এমনটাই হয়। শক্তপোক্ত খোলসের ভিতর আস্ত এক সরোবর নিয়ে ঘুরে বেড়াই। অথচ কেউ তার খোঁজ জানে না। নো ওয়ান। আমি অবশ্য অতন্দ্র প্রহরী হয়ে এই সরোবরের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করি। ভাবটা এমন, 'কে আসবি আয়।'

এমনিতে চাঁদের আলো, ঝিলের জল, ঘাস ফড়িং কিংবা বনোফুল যাই বলি না কেনো, এমন ছোট ছোট ফেলে দেওয়া টাইপ ব্যাপারে আমার দুর্বলতা আছে। একটা অর্কিড কিংবা সাদা ছোট্ট খরগোশের জন্য সারাটা বিকেল আমি বন্ধক রাখতে পারি অবলিলায়। ভালো একটা বইয়ে ঘন্টার পর ঘন্টা ডুবে থাকি। প্রিয় কোন ছবি কিংবা কোন নাটক দেখে হুহু করে কাঁদতে পারি। দেশের গান, জাতীয় সঙ্গীত শুনলে তো কথাই নাই! কিন্তু সবই করি খুব গোপনে। বাইরের খোলস আর ভিতরের সরোবর পারস্পরিক সীমা লঙ্গন করে না। করেনি কখনো। এভাবেই যাচ্ছিল সময়। তির তির করে প্রজাপতির ডানায় ভর করে। ইন্টার্নী শেষ।

অতনুটাও কেমন যেনো, ছন্নছাড়া। একমাত্র ওই পারত এই সরোবরে ঝাঁপ দিতে। সে করিডোর ও খোলা রেখেছিলাম চেতন কিংবা অবচেতনে। কিন্তু না। হয়নি। সব ছবিই একটা সুন্দর ফ্রেম পায় না। সব ক্লিকই ছবি হয় না। কিছু কিছু স্নাপ আসে শুধুই ব্লাংক। নিকষ কালোয় মোড়ানো ধুধু শূন্যতা। অথচ সুন্দর একটা ছবির সব কয়টা উপাদান সেখানে থাকে। দেয়ালে টানানোর সব আয়োজন মিছে হয়ে যায়। হাহাকার নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে শূন্য দেয়াল।

দুই.
পরদিন ক্যাম্পাসে গিয়ে নতুন কিছু টের পেলাম না। বন্ধুরা যে যার মতো। এরা ফাতরামি করে চুপচাপ বসে থাকার পাত্র না। তাহলে এসএমএসটা পাঠালো কে? মাহির? সে তো আবার বিশ্ব পাত্র। বিশ্ব প্রেমিকের সাথে মিলিয়ে নামটা রাখা। এই নাম করনের একটা শানেনজুল আছে। কোন মেয়ে এই লোকের সাথে কথা বললেই হলো। সে নিজেকে তার পাত্র হিসেবে ধরে নেয়। মনেমনে আরকি। শুধু ধরে নিয়ে বসে থাকলে হতো। মিস্টার পাত্র তখন পাত্র হিসাবে তার গুনগানের একটা লিষ্ট বানিয়ে ফেলে। যেমন-

নাম - মিষ্টার মাহির, আসলে মাহিরুল। পরের দেড় অক্ষর ছেঁটে ফেলেছে। এতে নাকি স্মার্ট লাগে!
লোকজন আদর করে মাল্টা ডাকে। দেখতে মাল্টার মতো গায়ের রঙ তাই।

বাবা- মিস্টার বাদশা আজমত,  সত্যি সত্যি নাকি বাদশা আকবরের বংশধর! চাপাবাজি আর কাকে বলে।

উচ্চতা- পাঁচফুট ছয়। আসলে কথাটা হবে, পাঁচ ফুটের একটু বেশি।

রঙ- ধবধবে ফর্সা। এটাকে মাহির ওরফে মাহিরুল ওরফে মাল্টা বিশেষ ক্রেডিট মনে করে। অবশ্য অনেকেই বলে, ফর্সা না হাতি! রঙ নিয়ে ঢং করে! মাইয়া একটা!

শিক্ষাগত যোগ্যতা- এফসিপিএস ট্রেনিং শেষ পর্যায়। এরচেয়ে বড় ডীগ্রী কয়টা আছে? পাশ করাটা খালি বাকি। তারপর দেখিয়ে দিব। (আগে তো পাশ করে নে বাপ, তারপর ফুটানি করিস)

বিশেষ গুণ- গান গাইতে পারি। সুন্দর করে হাসতে পারি। লিষ্ট বড় হতেই থাকে, হতেই থাকে।

পাঁচতলার ক্যান্টিনে কালাম মামার বিখ্যাত কিমা চপ খেতে যেতাম আমরা। ইভেনিং ডিউটির ফাঁকে ফাঁকে। ইন্টার্নির এই সময়টা খুব মিস করি। কতশত রোগী, কত বিচিত্র তার লক্ষণ! সব কিছু বড় বড় চোখ করে দেখি। রোগ ডায়াগনোসিস করতে পারলে, মনের ভিতর সুখী প্রজাপতির উড়াউড়ি।

সব ভালোলাগার দিনে একটা খারাপ কিছু ঘটবেই। সেই সূত্র মেনে, এক হলদে বিকালে এই ক্যান্টিনে লোকটার সাথে পরিচয় হয়েছিলো। ক্যারমের গুঁটিতে স্ট্রাইকার লাগতেই-

: মিহু তো দেখি দারুন খেলো। একেবারে রেড কভার দিলে!

আরেহ! এ তো দেখি আমার নামও জানে! জেলার নামও জানে! তাদের বাড়ি নাকি একই জেলায়। এরপর জানা গেলো, একই এলাকায়। আরো নানা কথা। একেবারে বিতং যাকে বলে।

সাবধান। নিজেকে নিজে সাবধান করি। সব ধান্ধা। ইন্টার্ণ মেয়েদের দেখলে মনেমনে নিজের বউ হিসাবে কল্পনা করা এদের রুটিন কাজ। এর সাথে, না না ওর সাথে বিবাহ হইলে কেমন হয়? এরা বিবাহের জন্য সকালে একজন, বিকালে আরেকজন ঠিক করে। মনেমনে আরো কত যে গীত গায়, কে বলতে পারে?

পারত পক্ষে, এদের কাছ থেকে একশ হাত দুরে থাকি। অথচ এই লোকটা নাকি আমার নামে আজেবাজে কথা ছড়াচ্ছে! কারে নাকি বলেছে, আমি তাকে পাত্র হিসাবে পছন্দ করেছি! যেই না আমার পাত্র। ধবধবে ফর্সা এক লোক। দেখলে মনেহয় শ্বেতি রোগী। তার আবার এত বড় কথা! একে একটা শিক্ষা দিতেই হবে। মনেমন প্ল্যান করি। প্ল্যানের অংশ হিসেবে ইয়া বড় এক চিঠি লিখি। এই চিঠি যে একদিন কাল হবে, আগে যদি জানতাম!

তিন.
ডাক্তার তো হয়েই গেলি, এখন কি করবি? মায়ের কথায় সম্বিত ফিরে। আসলেই এরপর কি করবো বুঝে ওঠতে পারি না। এসময়টা এমনি যায় সব নতুন ডাক্তারের। কি করবো, কোন লাইনে যাবে বুঝে ওঠতে সময় লাগে। আগে বিসিএসের পড়া পড়বে নাকি পোষ্ট গ্রাজুয়েশন? আবার বিয়ের কথাটাও ভাবতে হয়। সহপাঠী অনেকেরই এই পর্ব শেষ। মা জিজ্ঞেস করেন, কাউকে ঠিক পছন্দ টছন্দ করি কিনা? উত্তর শুনে মা খুশি না হতাশ বুঝতে পারি না। যা ইচ্ছা হোক। বিয়ে একটা করলেই হলো।

মৃত্যুপথ থেকে ফিরে এলে যেমন জীবনবোধ নিয়ে একটা বিহ্বলতা চলে আসে, তেমনি প্রচন্ড ব্যস্ততার পর কাঙ্খীত অবসরও অনেক সময় ভালো লাগে না। কাজের জন্য মন পোড়ে। আজব এই হিউম্যান সাইকোলজী! ইন্টার্নি শেষ হয়েছে প্রায় দুমাস হলো। অখন্ড অবসর। অবসরকে অবসরে পাঠাতে মন চাচ্ছে। ঠিকমতো যাপন করতে পারছি না। এটা করি সেটা করি। আবার কিছুই করি না যেনো।

মোবাইল নিয়ে গুঁতাগুঁতির এক পর্যায়ে এসএমএসটা চোখে পড়ল। আরেহ! এটা এখনো আছে? এক অন্য অনুভুতিতে আক্রান্ত হই। যা আমার কাছে নতুন। আসলেই নতুন। প্রেরক কে জানতে ইচ্ছা করে। জানবো নাকি? আচ্ছা দেখিতো কি রেসপন্স করে।

: আপনি কে বলেন তো? আমাকে টেক্সট করেছেন কেনো?

: সিম্পল এই প্রশ্নটা করতে আপনি সময় নিলেন দুইশত সাতাশ দিন পাঁচঘন্টা বত্রিশ মিনিট সতেরো সেকেন্ড মাত্র!

: আপনি ক্যালকুলেটর নিয়ে বসে ছিলেন? আশ্চর্য!

: না, আমি প্রতিদিন অপেক্ষা করতাম। প্রথম প্রথম একটু পর পর ইনবক্স চেক করতাম। এরপর নিয়মিত বিরতিতে। এমন করতে করতে রোখ চেপে গিয়েছিলো। প্রতিদিন সময় হিসাব করাটা একটা বাতিকে পরিনত হলো। কিন্ত আপনার রিপ্লাই তো আসে না। তারপরও আমি অপেক্ষা করতাম। আমার মন বলত রিপ্লাই আমি পাবোই।

: আমার প্রশ্নের উত্তর কিন্তু পাইনি।

: মিস্টেরিয়াস! এভরিথিং ইজ মিস্টেরিয়াস।

: হেয়ালিপনা আমি একদম পছন্দ করি না।

: আমিও না। আসলে আমি স্পেশাল তেমন কেউ না। মনে করেন আপনার পাশাপাশি হাঁটছি। নাহ্, ভয় পাওয়ার কিছু নেই। আমি আপনার প্রফেশনের একজন।
সেম প্রফেশন শুনে একটু স্বস্তির বাতাস বয় মিহুর বাতায়নে। হাঁপ ছেড়ে বাঁচে।

: আমি কি আপনাকে চিনি?

: চান্স কম। দশমিকেরও নীচে। আমিও আপনাকে চিনি না। তবে আপনার মনের সৌন্দর্যে আমি মুগ্ধ একেবারে যাকে বলে!

চাপাবাজির একটা লিমিট থাকে! আজব! চিনি না, জানিনা অথচ মনের সৌন্দর্য জেনে বসে আছে! রাগে গজগজ করে রিপ্লাই লিখি। ফিরতি টেক্সটে একটি চিঠি আসে। আমার লেখা চিঠি! ও মাই গড!

" হ্যালো,
হ্যাঁ, আপনাকে বলছি। আপনাকেই। কী মনে করেন নিজেকে? মেয়েলি গায়ের রং আর মিনমিনে কথা বললেই সব মেয়েরা হুমড়ি খেয়ে পড়বে আপনাকে বিয়ে করার জন্য? এই আজগুবি চিন্তা থেকে নিজ দায়িত্বে বাহির হন মিয়া। না হলে দুর্গতি অপেক্ষা করছে আপনার জন্য। এমনি ইন্টার্ন হোস্টেলে আপনাকে নিয়ে প্রচুর হাসাহাসি হয়। এরপর তো বিয়ের পাত্রী নিয়ে হাহাকার করবেন।

নিজ এলাকার বলে পরিচয় দিয়েছিলেন, তাই একটু কথা বলেছিলাম। এলাকার লোকের সাথে কথা বলা ভদ্রতা। আর সেটাকেই আপনি আপনার প্রতি দুর্বলতা ভাবলেন! লাল্টু গুল্টু চেহারা হলেই মেয়েরা ঝাঁপিয়ে পড়বে এই কনসেপ্ট থেকে বের হোন। আখেরে কাজে লাগবে।

যাহোক আপনি জেনে থাকবেন যে, অতনু নামে একজনের সাথে আমি ভবিষ্যত ভাগাভাগি করব বলে ঠিক করেছি। ক্যাম্পাসে অতনুকে চেনে না এমন লোক পাবেন না। দয়া করে ওর সাথে নিজেকে মিলিয়ে নিবেন। সহজেই বুঝতে পারবেন আপনার সীমাবদ্ধতা। লাইফে সীমানাজ্ঞান খুব জরুরি। আশা করি বুঝবেন। ইতি, দেশি।"

: আপনি এই চিঠি কোথায় পেলেন? এটাতো মিষ্টার মিষ্টি কুমড়াকে লেখা আমার চিঠি। আপনার কাছে এলো কি করে?

লাবডাব...লাবডাব... হৃৎপিন্ডের ধুকপুকানি সামাল দেই! ভাগ্যিস ইনবক্সে মানুষের অবয়ব দেখা যায় না। নাহলে কেলেংকারি হয়ে যেতো। আমার মনেহলো, চোখ দুটো কোটর থেকে লাফিয়ে বাইরে চলে আসবে! বিস্ময়ে! সেসব সামলিয়ে লিখলাম,

: দেখেছেন তো, আমি অতনু নামে একজনের প্রেমে হাবডুবু খাচ্ছি। সো... আর যদি আমাকে ভড়কে দিতে চান। তাহলে বলব, আমি সত্যি ভড়কে গেছি। আমি এখনো বুঝছি না, মাহিরের চিঠি আপনার কাছে কেনো?

: মাহির আমার সম্পর্কে বড় ভাই হয়। বন্ধুর রুমমেট। তার কাছেই প্রথম আপনার কথা শুনি। সে অনেকের কথাই বলত। পাত্র হিসাবে তার ডিমান্ড নাকি সেই লেভেলের? কিন্তু আপনার ব্যাপারে বলতে গিয়ে বলেছিলো, "বোল্ড এন্ড স্টানিং"। কৌতুহল বোধ করলাম। তারপর অতনুর খোঁজে নামলাম। জানলাম, অতনু আর আপনার ব্রেকআপের কথা। বিশ্বাস করেন, কথাটা শুনে এত্ত খুশি হয়েছি! কী বলব!

বড় ভাইকে বল্লাম, মিহুকে নিয়ে চিন্তা বাদ দেন। ও আর অতনু পারফেক্ট জুটি। আর মনেমনে নিজেকে অতনুর জায়গায় বসালাম।

: এস্কিউজ মি! আপনার সাহস তো কম না!

আর কোন রিপ্লাই আসেনি। অনেক দিন ফোনটাও বন্ধ। আজব লোক তো! ভেবে পাইনা এমন চিড়িয়া হয়! যেখানে কোন মেয়ের প্রেমের কথা শুনলে ছেলেরা একশ হাত দূরে থাকুন নীতি অবলম্বন করেন। আর এই লোক সব জেনে শুনে...। না আর ভাবতে পারি না। সব ভেবে কাজও নেই। তবে এটা ঠিক আমার অখন্ড অবসরে এখন কেউ ভাগ বসালেও বসাতে পারে।

চার.
এরপর সবকিছু খুব তাড়াতাড়ি হয়ে যায়। কোন এক বৈশাখের প্রথম দিনে দুজনে একজন হই। কবুল। নতুন জীবন শুরু করতে এরচেয়ে ভালোদিন আর কী হতে পারে!

: মিহু, অতনুর কি কি তোমার পছন্দ অপছন্দ নোট করো তো। চটপট।

আমার চোখ বিস্ফোরিত। বাসরঘরের প্রথম কথা এটা কেমন করে হয়!?

: আরেহ! অবাক হওয়ার কী আছে? সবে তো অতনুর নাম নিয়েছি। আস্তে আস্তে দেখো ওর পুরো জীবনটা তোমার হাতে তুলে দেব। তারপরও তুমি আমায় ভালোবাসবে না?

ঝরঝর করে কেঁদে ফেলি। আল্লাহ আমার জন্য এমন অদ্ভুত একজনকে রেখেছেন! ফিসফিস করে বলি, আমার আর কাউকেই দরকার নেই, তুমি ছাড়া। তুমি যেমন আছো তেমনি থাকো। আমার হয়ে, মাইম্যান। সেই থেকে কারো নাম মাইম্যান। মিহুর মাইম্যান।

বিঃদ্রঃ- গল্পটা পুরনো। কী আর করা, পুরনো জীবনই যে ফিরে ফিরে আসে! কাকতালীয় ব্যাপার হচ্ছে, গল্পের নায়ক নায়িকার মতো আমাদেরও আজকে বিবাহ বার্ষিকী। তেরো বছর পার করে ফেলসি! আলহামদুলিল্লাহ! পৃথিবীতে কত আচানক ঘটনাই না ঘটে!

সংবাদটি শেয়ার করুন:

 


পাঠক কর্নার বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

ডাক্তাররা রোগের চিকিৎসা করে, মৃত্যুর নয়

ডাক্তাররা রোগের চিকিৎসা করে, মৃত্যুর নয়

: ব্যাটসম্যানদের ভুলে আজ খেলাটা চলে গেল! : ভুল বলছেন কেন? বল…

এক্সাম ফোবিয়া ও ডিপ্রেশন: মুক্তির সহজ সমাধান

এক্সাম ফোবিয়া ও ডিপ্রেশন: মুক্তির সহজ সমাধান

প্রশ্ন: স্যার আমি মেডিকেলের ৩য় বর্ষের ছাত্রী। মেডিকেলে ইতিমধ্যেই ১ বছর লস…

সন্তানের থ্যালাসেমিয়ার জন্য পিতা-মাতার অজ্ঞতাই দায়ী!

সন্তানের থ্যালাসেমিয়ার জন্য পিতা-মাতার অজ্ঞতাই দায়ী!

সিএমসি, ভেলোরে আমি যে রুমে বসে রোগী দেখছি সেখানে ইন্ডিয়ার অন্যান্য রাজ্যের…













জনপ্রিয় বিষয় সমূহ:

দুর্যোগ অধ্যাপক সায়েন্টিস্ট রিভিউ সাক্ষাৎকার মানসিক স্বাস্থ্য মেধাবী নিউরন বিএসএমএমইউ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঢামেক গবেষণা ফার্মাসিউটিক্যালস স্বাস্থ্য অধিদপ্তর