ঢাকা      শুক্রবার ১৯, জুলাই ২০১৯ - ৪, শ্রাবণ, ১৪২৬ - হিজরী



ডা. মো. ফজলুল কবির পাভেল

সহকারী সার্জন, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল


আলসারের প্রধান কারণ ব্যথার ওষুধ!

পেপটিক আলসারের অন্যতম প্রধান কারণ ব্যথার ওষুধ। কিভাবে ব্যথার ওষুধ পেপটিক আলসার করে তার সব কারণ জানা না গেলেও বেশ কিছু কারণ জানা গেছে। ব্যথার ওষুধ পাকস্থলী বা ডিত্তডেনামের মিউকোসাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। ফলে আলসার হয়। ব্যথার ওষুধ গ্রহণ করলে প্রস্টাগ্লান্ডিন কমে যায়। প্রস্টাগ্লান্ডিন মিউকাস ও বাইকার্বনেট নি:সরণ করতে সাহায্য করে। ফলে মিউকোসা অক্ষত থাকে। কিন্তু ব্যথার ওষুধ যেহেতু প্রস্টাগ্লান্ডিন কমায় তার ফলে দেখা দেয় পেপটিক আলসার।

গবেষণায় দেখা গেছে ১০০ জন রোগীকে উচ্চমাত্রার ব্যথার বডি দেয়া হয়েছিল। বিভিন্ন অসুখ যেমন রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস এবং অস্টিও আর্থ্রাইটিসের জন্য এ ব্যথার ওষুধ দেয়া হয়েছিল। এদের মধ্যে মাত্র ১০ থেকে ২০ জনের পরবর্তীতে এন্ডোস্কোপি করে ক্ষত ধরা পড়েছিল। সুতরাং ব্যথার ওষুধ খেলেই সবার আলসার হবে এ ধারণা সঠিক নয়।

ব্যথার ওষুধ গ্রহণ করলে যাদের মধ্যে আলসার হবার সম্ভাবনা বেশী তাদের মধ্যে আছে-

১. যাদের বয়স ৬৫ বছরের বেশী।

২. উচ্চ মাত্রায় যারা ব্যথার ওষুধ খান।

৩. ব্যথার ওষুধ ও স্টেরয়েড একত্রে খান।

৪. হেলিকোব্যাকটর পাইলোরি ব্যকটেরিয়া দিয়ে যিনি আক্রান্ত।

৫. প্রতিদিন যদি ব্যথার ওষুধ খান।

৬. প্রতিদিন যদি স্বল্প মাত্রায় এসপিরিন গ্রহণ করেন। এমনকি ‘লো ডোজে' অর্থাৎ ৭৫ মিলিগ্রাম করেও যারা গ্রহণ করেন তাদেরও আলসার হবার সম্ভাবনা বেশী।

৭. ব্যথার ওষুধের সাথে যদি ক্লপিডগ্রেল এবং ওয়ারফেরিন জাতীয় ওষুধ খান।

ব্যথার ওষুধ থেকে যেন আলসার না হয় তার জন্য স্বল্পমাত্রার ব্যথার ওষুধ গ্রহণ করতে হবে। একটানা খাওয়া যাবেনা। মাঝেমাঝে খেতে হবে। চিকিত্সকরা বেশীর ভাগ সময় ব্যথার ওষুধের সাথে এমন কিছু ওষুধ দেন যা ব্যথার ওষুধের ক্ষতি থেকে শরীরকে রক্ষা করে। যেমন-

১. প্রোটন পাম্প ইনহিবিটর (ওমিপ্রাজল, রেবিপ্রাজল, ইসোমিপ্রাজল, প্যান্টোপ্রাজল, ল্যানসোপ্রাজল)।

২. প্রস্টাগ্লান্ডিন এনালগ (মিসোপ্রস্টোল)।

৩.এইচ-২ রিসেপ্টর ব্লকার (র্যানিটিডিন, ফ্যামোটিডিন)।

যার পাকস্থলীতে হেলিকোব্যাকটর পাইলোরি ব্যাকটেরিয়া আছে তার ব্যথার ওষুধ বেশী ক্ষতি করে। দীর্ঘমেয়াদে ব্যথার ওষুধ দিতে হলে অবশ্যই দেখতে হবে। ব্যথার ওষুধ হুটহাট করে খাওয়া ঠিক নয়। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ব্যথার ওষুধ গ্রহণ করলে ভয়াবহ বিপদ হতে পারে।

সংবাদটি শেয়ার করুন:

 


স্বাস্থ্য বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

জন্ডিস প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় সতর্কতা

জন্ডিস প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় সতর্কতা

জন্ডিস নিজে কোন রোগ নয়। এটি রোগের উপসর্গ। লিভারে প্রদাহ বা হেপাটাইটিস…

যেভাবে বিপদজনক হয়ে উঠছে ডেঙ্গু!

যেভাবে বিপদজনক হয়ে উঠছে ডেঙ্গু!

ডেঙ্গু (Dengue) যে ভাইরাস (virus) দিয়ে হয় তার নাম Dengue virus. এই…

ডেঙ্গুজ্বর আতঙ্ক: কারণ ও করনীয়

ডেঙ্গুজ্বর আতঙ্ক: কারণ ও করনীয়

ইদানিং দেশের ভয়াবহ মৃত্যুর আতঙ্কের অপর নাম ডেঙ্গু জ্বর। এ জ্বরে মানুষ…

রক্তে কোলেস্টেরল: প্রতিরোধের উপায় কি?

রক্তে কোলেস্টেরল: প্রতিরোধের উপায় কি?

শরীরের চর্বি বা কোলেস্টেরল নিয়ে নানা ধরণের ভুল ধারণা আমাদের মধ্যে আছে।…

ক্যান্সার আক্রান্তের যতসব কারণ

ক্যান্সার আক্রান্তের যতসব কারণ

ক্যান্সার হলে আর রক্ষা নেই এ কথা বহুল প্রচলিত। যদিও বর্তমানে অনেক…



জনপ্রিয় বিষয় সমূহ:

দুর্যোগ অধ্যাপক সায়েন্টিস্ট রিভিউ সাক্ষাৎকার মানসিক স্বাস্থ্য মেধাবী নিউরন বিএসএমএমইউ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঢামেক গবেষণা ফার্মাসিউটিক্যালস স্বাস্থ্য অধিদপ্তর