ঢাকা      শুক্রবার ১৯, জুলাই ২০১৯ - ৪, শ্রাবণ, ১৪২৬ - হিজরী



অধ্যাপক ডা. তাজুল ইসলাম

মনোরোগবিদ্যা বিভাগ,

জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইন্সটিটিউট ও হাসপাতাল,

শেরেবাংলা নগর, ঢাকা। 


আমিও মানুষ, তুমিও মানুষ, তফাত শুধু শিরদাঁড়ায়

দোড়গোড়ায় কড়া নাড়ছে বাংলা নববর্ষ ১৪২৬। রাত পোহালেই শুরু হবে আরেকটি নতুন বছরের পথচলা। জীর্ণতা-গ্লানি মুছে নতুন দিনের শুরুর আয়োজনে ব্যস্ত গোটা জাতি। পয়লা বৈশাখ উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন স্থানে নানা আয়োজন, আর বর্ণিল স্বপ্নে বিভোর প্রতিটি নাগরিক।

এমন আনন্দঘন মুহূর্তে সবাইকে নববর্ষের শুভেচ্ছা জানানোই অধিকতর প্রাসঙ্গিক ও সময়োচিত।

কিন্তু আমি মনে করি, নববর্ষের শুভেচ্ছা প্রতি বছরই জানানো যাবে, এবার জানাতে পারলাম না বলে কেউ ‘মাইন্ড খাইয়েন না প্লিজ।

নুসরাতের মৃত্যু অনেক কারণে অনন্য। এর অন্যতম হচ্ছে মেয়েটির ‘প্রতিবাদী’ চরিত্র।

দগ্ধ সারা শরীরে তীব্র ব্যথা নিয়ে মেয়েটি বলেছিল ‘আমি এই অন্যায়ের প্রতিবাদ করেই যাবো। যে অন্যায় আমার সঙ্গে করা হয়েছে, জীবন থাকতে সে অন্যায়ের সঙ্গে আপোস করবো না’।

৮০ ভাগ পুড়ে যাওয়া শরীর নিয়েই সাহসের সঙ্গে নুসরাত বলেছিল, ‘আমি সারা বাংলাদেশের কাছে বলবো, সারা পৃথিবীর কাছে বলবো -এ অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে’।

পৃথিবীর বেশিরভাগ মানুষ ‘বুদ্ধিমানের কৌশল’  হিসেবে তথাকথিত সমঝোতা, আপোসকামিতা, সুবিধাবাদিতাকে বেছে নেয়।

গর্বের বিষয় হলো, মেরুদণ্ডহীনতায় মোড়ানো সেই আপোসের পথে হাঁটেনি নুসরাত। সে স্রোতের বিপরীতে চলা প্রতিশ্রুতিশীল কান্ডারীর এক মূর্তপ্রতীক।

অন্যদিকে, যেসব ছাত্রছাত্রী তাদের হুজুরকে রক্ষায় মিছিল করেছে, আন্দোলন করেছে তারা, ‘শিরদাঁড়া হীন’ (মেরুদণ্ডহীন) পুতুল। আর ওই পুলিশ কর্মকর্তা, লাঠিয়াল বাহিনীর সন্ত্রাসী মাস্তানগুলো (নুরউদ্দীন) ‘সুবিধাভোগী’ হায়েনা।

নৈতিকতা শিখবেন কোন বিদ্যালয়ে? যেখানে উপরের নির্দেশে গণহারে পাসের হার ও জিপিএ-৫ এর হার শিক্ষকরা বাড়িয়ে দেন, সেখানে? যেখানে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ নিজে প্রশ্নপত্র দেবার লোভ দেখিয়ে নুসরাতকে কুপ্রস্তাব দেয়, সেখানে?

ভাবতে অবাক লাগে, যারা আপোস, সমঝোতা করে না বর্তমান সমাজে তাদেরকে গোয়ার, বেখাপ্পা, নির্বোধ ভাবা হয়। অথচ এই গোয়ার, নির্বোধদের ‘সাহসী প্রতিবাদের’ কারণেই সভ্যতা, মানবিকতা এখনো কোনো রকমে টিকে রয়েছে।

ব্যক্তিগতভাবে আমি সারাজীবন এই ‘আহাম্মকী প্রতিবাদ’ করে হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছি, প্রতিবাদী হওয়ার খেসারত কত বড়। আফসোস লাগে, জীবনের সূচনাতেই নুসরাতকেও অনেক বড় খেসারত দিতে হলো।

স্যালুট নুসরাত! মেরুদণ্ডহীন আপোসকামী এই আমাদের তুমি ‘প্রতিবাদী হতে’ শিক্ষা দিয়ে গেলে। শিরদাঁড়া সম্পন্ন মানুষ হতে, যুদ্ধ চালিয়ে যেতে উদ্বুদ্ধ করে গেলে।

নুসরাতরা হারবে না, আমরা হারবো না, হারবে না বাংলাদেশ।

সংবাদটি শেয়ার করুন:

 


পাঠক কর্নার বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ভয়াবহ বিপর্যয়ের দিকে যাচ্ছে

স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ভয়াবহ বিপর্যয়ের দিকে যাচ্ছে

হাসপাতালের সকলে মিলে সমাজকে অনেক কিছুই দিতে পারে। সাধারণত যে মানুষ যেভাবে…

মেডিকেল সায়েন্স গবেষণায় ইরানের এগিয়ে চলার গল্প 

মেডিকেল সায়েন্স গবেষণায় ইরানের এগিয়ে চলার গল্প 

যতদিন যাচ্ছে ইরানের মেডিকেল সায়েন্স গবেষণায় যুক্ত হচ্ছে অভূতপূর্ব সব অবিষ্কার। বিশ্ব…

বিদেশে চিকিৎসা: শোনা কথায় কান দিবেন না

বিদেশে চিকিৎসা: শোনা কথায় কান দিবেন না

যখন গাইনী আউটডোরে চাকরি করি তখন এক জুনিয়র এসে বলল "আপু তোমরা abnormal…

সাইমন্ড্স ডিজিজ রোগ ও তার প্রতিকার

সাইমন্ড্স ডিজিজ রোগ ও তার প্রতিকার

আমাদের মাথার ভেতরে পিটুইটারি গ্রন্থির অবস্থান। পিটুইটারি গ্রন্থি থেকে নানা রকম হরমোন…



জনপ্রিয় বিষয় সমূহ:

দুর্যোগ অধ্যাপক সায়েন্টিস্ট রিভিউ সাক্ষাৎকার মানসিক স্বাস্থ্য মেধাবী নিউরন বিএসএমএমইউ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঢামেক গবেষণা ফার্মাসিউটিক্যালস স্বাস্থ্য অধিদপ্তর