ঢাকা      রবিবার ১৮, অগাস্ট ২০১৯ - ৩, ভাদ্র, ১৪২৬ - হিজরী

পারকিনসন্স ডিজিজের চিকিৎসা

মেডিভয়েস রিপোর্ট: মানুষের মস্তিষ্কের প্রাণঘাতী রোগের মধ্যে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে পারকিনসন্স ডিজিজ। বাংলাদেশে এ রোগে আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ৬০ হাজার। আর প্রতিবছর ১ হাজার ৬০০ জনেরও বেশি এ রোগীর মৃত্যু হয়।

এ রোগ সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও ১১ এপ্রিল পালিত হয় বিশ্ব পারকিনসন্স ডিজিজ দিবস।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, বর্তমানে এ রোগের আক্রান্তদের মেডিসিনের পাশাপাশি সার্জারি চিকিৎসাও শুরু হয়েছে। তবে পারকিনসন্সসহ মস্তিষ্কের সব রোগের চিকিৎসা দিতে দেশে আছেন মাত্র ২০০ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক। এর মধ্যে বিশেষজ্ঞ সার্জন মাত্র দুজন।

রোগের লক্ষণ
পারকিনসন্স রোগের বেশ কিছু লক্ষণ রয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞরা কিছু সুনির্দষ্টি লক্ষণ বর্ণনা করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে: সামনে ঝুঁকে হাঁটা, ভাবলেশহীন মুখ, হাত শক্ত হয়ে যাওয়া, হাঁটার সময় হাত কম দোলায়মান, হাত কাঁপুনি, ধীরগতি ও পা কাঁপুনি। এক কথায় এটিকে নিয়ন্ত্রণহীন হাত-পা কাঁপা বা খিঁচুনি হিসেবেও উল্লেখ করেছেন।

এছাড়া সিগনেসার বা স্বাক্ষর করতে হাত কাঁপে অথবা বড় বড় অক্ষরে লেখা শুরু করলে শেষে এসে লেখাগুলো ছোট হতে শুরু করে, তাহলে বুঝতে হবে তিনি পারকিনসন্স ডিজিজে আক্রান্ত।

শিকাগোর রাশ ইউনিভার্সিটি মেডিকেল সেন্টারের নিউরোলজিস্ট ড. দেবোরাহ হল বলেন, শিক্ষকের ব্লাকবোর্ডে লেখা যদি ছাত্রদের বুঝতে কষ্ট হয় এবং বাক্য যদি জড়িয়ে লেখা হয়, এমন অবস্থা পারকিনসন্স ডিজিজের প্রাথমিক লক্ষণ।

নাশিকারন্ধে যদি ঘ্রাণ শক্তি হ্রাস পায় অর্থাৎ আপনি যদি খাবার বা ফুলের ঘ্রাণ কম অনুভব করেন তাহলে বুঝতে হবে এটা একটি পারকিনসন্স লক্ষণ।

এ রোগে প্রথম থেকে চিকিৎসা না নিলে এক সময় চলাফেরার শক্তি থাকে না। এমনকি ঢোক গিলার ও খাবার খাওয়ার ক্ষমতা পর্যন্ত হারিয়ে ফেলে রোগী। আর তীব্র অসুস্থতার সময় ডিপ ব্রেইন স্টিমুলেশন করার প্রয়োজন পড়ে।

চিকিৎসা পদ্ধতি

বিশ্বে পারকিনসন্স ডিজিজের মেডিসিন ও সার্জিক্যাল- দুই ধরনের চিকিৎসা চালু আছে। কিন্তু বাংলাদেশে কেবল মেডিসিন চিকিৎসা ব্যবস্থাই চালু, সার্জিক্যাল চিকিৎসার তেমন প্রসার ঘটেনি।

সোসাইটি অব নিউরোলজিস্ট অব বাংলাদেশ ও মুভমেন্ট ডিজঅর্ডার সোসাইটি অব বাংলাদেশের তথ্যানুযায়ী, প্রাণঘাতী এ রোগ শরীরের স্বাভাবিক নড়াচড়ার ক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত করে। চলাফেরার ওপরও নিয়ন্ত্রণ কমে যায় ধীরে ধীরে। হাত-পা প্রচণ্ড রকম কাঁপতে থাকায় এসব রোগী হাঁটা-চলা করতে পারে না। এর কোনো নিরাময় নেই, কেবল লক্ষণভিত্তিক নিয়ন্ত্রণের চিকিৎসা রয়েছে। এ চিকিৎসা পদ্ধতিকে ‘ডিপ ব্রেইন স্টিম্যুলেশন’।

কোনো কোনো ক্ষেত্রে আক্রান্ত ব্যক্তির মস্তিষ্কের কিছু অংশ নিয়ন্ত্রণ করে লক্ষণগুলো প্রশমিত করার জন্য সার্জারির প্রয়োজন হয়।

অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে রোগীর মস্তিষ্কের প্রায় ৮ সেন্টিমিটার গভীরে ওই নির্দিষ্ট কোষে একটি বৈদ্যুতিক তার স্থাপন করে দেওয়া হয়। রোগীর বুকের চামড়ার নিচে বসানো পেসমেকারের (এক প্রকার ব্যাটারি, যা হৃদ্‌রোগেও ব্যবহৃত হয়) সঙ্গে ওই তারের সংযোগ থাকে। মস্তিষ্কে স্থাপিত ধাতব তার কোষগুলোতে প্রতি সেকেন্ডে ১৫০ পালস বিদ্যুৎ পৌঁছে দেয়। এতে ওই কোষের স্নায়ু অবশ হয়ে যায়। ফলে কাঁপুনি বন্ধ হয়ে যায়।

এই চিকিৎসা পারকিনসন রোগ ভালো করে না। কিন্তু রোগের উপসর্গগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করে স্বাভাবিক জীবনযাপনে সাহায্য করে।

তবে মস্তিষ্কের চিকিৎসা দিতে বাংলাদেশে কেবল ২০০ বিশেষজ্ঞ নিউরোলজিস্ট আছেন। তাদের মধ্যে পারকিনসন্স রোগের সার্জারি বিশেষজ্ঞ মাত্র দুজন।

দেশে প্রতিবছর এ রোগে আক্রান্ত হয়ে হাজারও লোক প্রাণ হারাচ্ছে। প্রতিনিয়তই দীর্ঘ হচ্ছে সেই মৃত্যুর তালিকা। কিন্তু পারকিনসন্স রোগের মেডিসিন পদ্ধতির চিকিৎসাব্যবস্থা বেশ অগ্রসর হলেও সার্জিক্যাল চিকিৎসায় পিছিয়ে আছে দেশ।

বর্তমানে রাজধানীর ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরো সায়েন্স অ্যান্ড হসপিটালে সার্জারি কার্যক্রম শুরু হয়েছে। পারকিনসন্সের সার্জিক্যাল ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়েও (বিএসএমএমইউ)।

বিশেষজ্ঞরা বলেন, বাংলাদেশে পারকিনসন্স রোগে আক্রান্তের সঠিক পরিসংখ্যান নেই। তবে আন্তর্জাতিক ও পার্শ্ববর্তী দেশে এ রোগে আক্রান্তের হার শূন্য দশমিক ৩৫ শতাংশ। বাংলাদেশেও একই হার হবে বলে ধারণা। সেই হিসাবে, বাংলাদেশের ৫৫ থেকে ৬০ হাজার লোক এ রোগে আক্রান্ত। ২০০ বিশেষজ্ঞ নিউরোলজিস্টের পাশাপাশি মেডিসিন বিশেষজ্ঞরাও আক্রান্তদের চিকিৎসা দিয়ে থাকেন।

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, পারকিনসন্স রোগ চিকিৎসার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণে রাখতে হয়। তবে অ্যাডভান্সড স্টেজে গেলে ওষুধ আর কাজ করে না। তখন সার্জারির প্রয়োজন হয়। বাংলাদেশেও পারকিনসন্স রোগের সার্জারি শুরু হয়েছে। এ পর্যন্ত সার্জারি সম্পন্ন হয়েছে চার রোগীর।

সংবাদটি শেয়ার করুন:

 


স্বাস্থ্য বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

ঈদে ভোজন-পূর্ব যে বিষয়গুলোতে দৃষ্টি রাখবেন

ঈদে ভোজন-পূর্ব যে বিষয়গুলোতে দৃষ্টি রাখবেন

শুরুতেই ঈদ মোবারক। কোরবানী ঈদের সবচেয়ে আনন্দদায়ক, আকর্ষনীয় শেষ পর্ব- মাংস কাটা,…



জনপ্রিয় বিষয় সমূহ:

দুর্যোগ অধ্যাপক সায়েন্টিস্ট রিভিউ সাক্ষাৎকার মানসিক স্বাস্থ্য মেধাবী নিউরন বিএসএমএমইউ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঢামেক গবেষণা ফার্মাসিউটিক্যালস স্বাস্থ্য অধিদপ্তর