ঢাকা      শুক্রবার ১৯, জুলাই ২০১৯ - ৪, শ্রাবণ, ১৪২৬ - হিজরী



ডা. মুহসিন আব্দুল্লাহ

হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ, কলামিস্ট


কেন যে ডাক্তার হয়েছিলাম!

সিনিয়র ডাক্তাররাও আজ অনেকেই অনুতপ্ত!

ঘটনাটা গতবছরের। ঢাকা মেডিকেল হৃদরোগ বিভাগের করোনারি কেয়ার ইউনিটে (অনেকের মধ্যে) একজন বয়স্ক রোগী ভর্তি ছিলেন। হার্ট এটাকের সাথে হার্ট ফেইলিউর এবং সিওপিডি (শ্বাসনালী সংকোচন) রোগ ছিলো। ভর্তির পর প্রোপার ট্রিটমেন্ট পাওয়ায় রোগী ইতোমধ্যে কিছুটা উন্নতিও করেছিলো। ঐদিন সকালের রাউন্ডে বিভাগীয় প্রধান, আমাদের শিক্ষক, বাংলাদেশের হৃদরোগ চিকিৎসার অন্যতম কিংবদন্তি, অধ্যাপক ডা. ওয়াদুদ চৌধুরী স্যার রোগীকে দেখেন এবং সাথে থাকা এটেন্ডেন্টকে কাউন্সেলিং করেন। 

দুপুরের দিকে আকস্মিকভাবে রোগীর কার্ডিয়াক এরেস্ট (হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ) হয়। সকল চেষ্টার পরেও রোগীকে আর বাঁচানো যায়নি। কিছুক্ষণের মধ্যে কয়েকজন যুবক রোগীর আত্মীয় পরিচয়ে সিসিইউতে ঢুকে দায়িত্বরত ডাক্তারকে মারধোর করে।

ভেবেছেন ঘটনা শেষ? নাহ। পাশেই ক্লাসরুমে পোস্টগ্রাজুয়েট ডক্টরদের ক্লাস নিচ্ছিলেন অধ্যাপক ডা. ওয়াদুদ চৌধুরী। ঐ সন্ত্রাসীরা সেখানে ঢুকে ওয়াদুদ স্যারকে হামলা করতে যায়। তারা স্যারের ওপর চেয়ার ছুড়ে মারে। স্যারকে রক্ষা করতে গিয়ে একজন ডাক্তারের হাত ভেঙ্গে যায়। তারা রুমের চেয়ার-আলমারি ভাঙচুর করে। ক্লাসরুমে অনেক ডাক্তার একসাথে থাকায় তারা বেশি সুবিধা করতে না পেরে পালিয়ে যায়।

গতবছরের আরেকটি ঘটনার কথা সবাই জানেন। মেডিসিনের কিংবদন্তি অধ্যাপক ডা. আব্দুল্লাহ স্যারের ওপর হামলা করতে গিয়েছিলো ঢাকা ভার্সিটির ছাত্র নামধারী একদল সন্ত্রাসী। ভাগ্যক্রমে স্যার সে সময় সেন্ট্রাল হাসপাতালে ছিলেন না।

দুটি ঘটনার কোনটাতেই সেই সন্ত্রাসীদের কোন বিচার হয়নি। বিচার হয়নি গোপালগঞ্জে পবিত্র কুমার কুন্ডুর ওপর হামলাকারীদের। বিচার হয়নি অন্য কোথায়ও।

অধ্যাপক আব্দুল্লাহ স্যার দেশের বাইরেই ছিলেন। পরে তিনি দেশে ফিরে আসেন। অধ্যাপক ওয়াদুদ স্যার বিদেশের চাকরি নিজ হাতে ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। আজ যখন তাদের ওপর হামলা হয়, তখন দেশে থেকে যাওয়ার জন্যে হয়তো তাদের মনেও পরিতাপ আসে। আফসোস হয়!

কিংবদন্তি অধ্যাপকদের ওপর যখন হাত তুলতে আমার দেশের মানুষ দ্বিধা করেনা, তখন জুনিয়র ডাক্তারদের নিরাপত্তার কথা বলাই বাহুল্য। কক্সবাজারের ঘটনায়ও হয়তো কারো বিচার-শাস্তি হবেনা।

সিনিয়র ডাক্তাররাও আজ তাই অনেকেই অনুতপ্ত! এতবছর পরে এসে আজ ডাক্তার হওয়াটাকে তাদেরও জীবনের ভুল মনে হয়।

চট্টগ্রামের মেডিসিন ও কিডনিরোগ চিকিৎসার অন্যতম দিকপাল, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের প্রাক্তন অধ্যক্ষ, আমাদের শ্রদ্ধেয় শিক্ষক, অধ্যাপক ডা. ইমরান বিন ইউনুসও আজ তাঁর অনুতাপ প্রকাশ করেছেন।

শ্রদ্ধেয় স্যার মনের দুঃখে লিখেছেনঃ "একজন আমলার জন্য সারা সরকার আর প্রশাসনে তোলপাড় হতে আমরা দেখেছি। কিন্তু ডাক্তারের ব্যাপারে নীরব নিশ্চুপ। মার খাক, ধর্ষিত হোক, মরে যাক, কোন বিকার নেই। কারণ, এরা তো দাস, উপাসক। এরা তো কুত্তার বাচ্চা, সার্বজনীন আইনও তাদের জন্য নয়। মাননীয় মন্ত্রী, সচিব, মহাপরিচালক আপনারা কই?

ধিক! কেন যে ডাক্তার হয়েছিলাম!!

সংবাদটি শেয়ার করুন:

 


পাঠক কর্নার বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ভয়াবহ বিপর্যয়ের দিকে যাচ্ছে

স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ভয়াবহ বিপর্যয়ের দিকে যাচ্ছে

হাসপাতালের সকলে মিলে সমাজকে অনেক কিছুই দিতে পারে। সাধারণত যে মানুষ যেভাবে…

মেডিকেল সায়েন্স গবেষণায় ইরানের এগিয়ে চলার গল্প 

মেডিকেল সায়েন্স গবেষণায় ইরানের এগিয়ে চলার গল্প 

যতদিন যাচ্ছে ইরানের মেডিকেল সায়েন্স গবেষণায় যুক্ত হচ্ছে অভূতপূর্ব সব অবিষ্কার। বিশ্ব…

বিদেশে চিকিৎসা: শোনা কথায় কান দিবেন না

বিদেশে চিকিৎসা: শোনা কথায় কান দিবেন না

যখন গাইনী আউটডোরে চাকরি করি তখন এক জুনিয়র এসে বলল "আপু তোমরা abnormal…

সাইমন্ড্স ডিজিজ রোগ ও তার প্রতিকার

সাইমন্ড্স ডিজিজ রোগ ও তার প্রতিকার

আমাদের মাথার ভেতরে পিটুইটারি গ্রন্থির অবস্থান। পিটুইটারি গ্রন্থি থেকে নানা রকম হরমোন…



জনপ্রিয় বিষয় সমূহ:

দুর্যোগ অধ্যাপক সায়েন্টিস্ট রিভিউ সাক্ষাৎকার মানসিক স্বাস্থ্য মেধাবী নিউরন বিএসএমএমইউ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঢামেক গবেষণা ফার্মাসিউটিক্যালস স্বাস্থ্য অধিদপ্তর