ডা. জাহিদুর রহমান

ডা. জাহিদুর রহমান

চিকিৎসক ও লেখক


০৬ এপ্রিল, ২০১৯ ১০:৩৩ এএম

চিকিৎসক নির্যাতন ও আমাদের প্রচলিত আইন

চিকিৎসক নির্যাতন ও আমাদের প্রচলিত আইন
ছবি: সংগৃহীত

কর্মস্থলে চিকিৎসকদের নিরাপত্তা এবং চিকিৎসার পরিবেশ নিশ্চিত করার প্রধান দায়িত্ব প্রশাসনের, অর্থাৎ সরকারের। পৃথিবীতে এমন কোন দেশ নেই যেখানে চিকিৎসক নির্যাতন হয় না। গুগলে 'violence against doctors' লিখে সার্চ দিলেই প্রচুর উদাহরণ পাবেন। তবে কোন দেশেই বাংলাদেশের মত মন চাইলেই ডাক্তার মারা যায় না। বরং জেলে যেতে হয় কিংবা মোটা অংকের জরিমানা গুনতে হয়।

বাংলাদেশে চিকিৎসক নির্যাতন বিষয়ে আলাদা কোন আইনই নেই, শাস্তি হবে কিভাবে? বরং প্রশাসন এমনকি গণমাধ্যমও চিকিৎসক নির্যাতনের বিপক্ষে প্রতিবাদ না করে বরং বিভিন্ন কায়দায় জনগণকে উল্টো ডাক্তারদের বিরুদ্ধে উস্কে দেয়। সবার আগে প্রশাসন এবং গণমাধ্যমের এই নষ্ট মনোভাব বদলাতে হবে। শক্ত আইন করে সেটি বাস্তবায়ন করতে হবে।

আমি যখন দেখব যে ডাক্তার পেটানোর জন্য আমার বিরুদ্ধে অজামিনযোগ্য মামলা হতে পারে, জেল হাজতে পচতে হতে পারে, মোটা অংকের টাকা জরিমানা দেয়া লাগতে পারে, তখন আমি নিজে থেকেই সংযত থাকবো। বিভিন্ন হাসপাতাল, পত্রিকা টিভি চ্যানেলে এসব বিষয় নিয়ে আলাপ আলোচনা করতে হবে, চারদিক ডাক্তার নির্যাতনের বিরুদ্ধে ব্যানার পোস্টারে ভরে ফেলতে হবে।

বাংলাদেশের সরকারি হাসপাতালগুলোতে নিরাপত্তা বলতে কিছু নাই। মানুষ যখন দেখবে ডাক্তার পেটানোর জন্য তাকে কয়েক জায়গায় থামতে হচ্ছে, নিজের নাম পরিচয় জানাতে হচ্ছে, সিসি টিভিতে নিজের ছবি উঠছে, তখন তার ডাক্তার পেটানোর ইচ্ছাটা দমে যেতে বাধ্য।

বাংলাদেশের স্বাস্থ্যমন্ত্রীরা বরাবরই সাধারন চিকিৎসক বিচ্ছিন্ন থাকেন। স্বাস্থ্যমন্ত্রী এবং সাধারন ডাক্তারদের মধ্যে যোগাযোগ রক্ষা করেন হাতে গোনা কয়েকজন বিএমএ বা স্বাচিপ নেতা। যাদের অবস্থান স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কাছে একেকজন দুর্নীতিগ্রস্থ নিম্ন পর্যায়ের চাটুকার ছাড়া আর কিছুই না। আপনি যেমন আপনার নেতার কাছে কেবল ধান্দা করতে যান, তিনিও তেমন স্বাস্থ্য মন্ত্রীর কাছে একমাত্র ধান্দার জন্যই যান। ব্যক্তিস্বার্থ ছাড়া এদের মাথায় আর কিছুই থাকে না।

তরুণ ডাক্তাররা যেহেতু তুলনামূলকভাবে সৎ হয়েও বেশি ভুক্তভোগী, সেহেতু তাদেরই উচিত নেতা নির্বাচনে বিচক্ষণ হওয়া। পুরোনোদের বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠিয়ে নতুন পঁচে না যাওয়া কাউকে উঠিয়ে আনা। কয়েক বছর ধরে এই পঁচে গলে নষ্ট হয়ে যাওয়া গুটিকয়েক ডাক্তার নেতারাই সাধারণ ডাক্তারদের সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করে চলেছে। এরা সাধারন ডাক্তারদের চুষে নিয়ে পেট ভরায় মন্ত্রী-সচিবের। এদের কারনেই প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে কেউই বেশিরভাগ ডাক্তারদের বাস্তব অবস্থান, তাদের চাহিদা, দাবি দাওয়া, এসব সম্পর্কে কোন ধারনা পান না।

এরাই ছলে বলে কৌশলে সাধারন ডাক্তারদের প্রতিটি যুক্তিযুক্ত আন্দোলন স্থমিত করে দেয়। নিজেদের অবস্থানের উন্নতি চাইলে এদের ঝেড়ে ফেলা সবচেয়ে জরুরি।

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
তুমি সবার প্রফেসর আবদুল্লাহ স্যার, আমার চির লোভহীন, চির সাধারণ বাবা
পিতাকে নিয়ে ছেলে সাদি আব্দুল্লাহ’র আবেগঘন লেখা

তুমি সবার প্রফেসর আবদুল্লাহ স্যার, আমার চির লোভহীন, চির সাধারণ বাবা

বেশিদিন ওমিপ্রাজল খেলে হাড় ক্ষয়ের ঝুঁকি বাড়ে 
কিডনি পাথরের ঝুঁকি বাড়ায় নিয়মিত অ্যান্টাসিড সেবন 

বেশিদিন ওমিপ্রাজল খেলে হাড় ক্ষয়ের ঝুঁকি বাড়ে 

ডাক্তার-নার্সদের অক্লান্ত পরিশ্রমের কথা মিডিয়ায় আসে না
জাতীয় হৃদরোগ ইন্সটিটিউটের সিসিউতে ভয়ানক কয়েক ঘন্টা

ডাক্তার-নার্সদের অক্লান্ত পরিশ্রমের কথা মিডিয়ায় আসে না