৩১ মার্চ, ২০১৯ ১২:০৩ পিএম

প্রয়োজন ছাড়াই ক্লিনিকগুলোতে সিজারিয়ান করানো হয়: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

প্রয়োজন ছাড়াই ক্লিনিকগুলোতে সিজারিয়ান করানো হয়: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

মেডিভয়েস রিপোর্ট: ডাক্তার নার্সরা অনেক সময় হাসপাতালে থাকেন না। যে কারণে প্রসূতিরা হাসপাতালে আসেন না। ফলে প্রাইভেট ক্লিনিকে চলে যান প্রসূতিরা। প্রাইভেট ক্লিনিকে নরমাল ডেলিভারি থেকে সিজারিয়ান বেশি হয়। বাণিজ্যিক কারণে অনেক ক্ষেত্রে প্রয়োজন ছাড়াই ক্লিনিকগুলোতে সিজারিয়ান করানো হয় বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রী জাহিদ মালেক স্বপন।

শনিবার বিকেলে মানিকগঞ্জের কৈট্টা প্রশিকা মানবিক উন্নয়ন কেন্দ্রের মিলনায়তনে ইউএসআইডির ‘মামনি মাতৃ ও নবজাতক স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়ন প্রকল্প’ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, বিনা চিকিৎসায় মানুষ মারা যায় এটা আমাদের কাম্য নয়। এর জন্য ডাক্তার নার্স যারা দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না তাদের চিকিৎসা পেশায় প্রয়োজন নেই। তারা স্বেচ্ছায় এই পেশা ছেড়ে দিতে পারেন।

মন্ত্রী বলেন, সারা দেশে স্বাস্থ্য সেবা উন্নতি করার জন্য বর্তমান সরকার নানামুখী পদক্ষেপ নিয়েছে। আটটি বিভাগীয় শহরে ক্যান্সার হাসপাতাল নির্মাণ করা হবে। প্রতিটি কমিউনিটি ক্লিনিককে আধুনিকায়ন করার পাশাপাশি এ বছরই ১০ হাজার ডাক্তার-নার্সসহ কর্মচারী নিয়োগ দেওয়া হবে। সেই সঙ্গে মানিকগঞ্জ জেলাকে স্বাস্থ্য সেবার একটি আধুনিক জেলা করা হবে। এর জন্য তিনি সবার সহযোগিতা চান।

মানিকগঞ্জের জেলা প্রশাসক এসএম ফেরদৌসের সভাপতিত্বে উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন পরিবার কল্যাণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত সচিব ও পরিচালক মো. আবদুল মালেক, স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইউনিটের মহাপরিচালক অতিরিক্ত সচিব ডা. মুহাম্মদ শাহাদৎ হোসেন মাহমুদ, পুলিশ সুপার রিফাত রহমান শামীম,  বাংলাদেশে ইউএসএআইডি মিশন ডিরেক্টর ডেরিক ব্রাউন, সেভ দ্য চিলড্রেন বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর মার্ক পিয়ার্স, পরিবার পরিকল্পনা বিভাগীয় পরিচালক অতিরিক্ত সচিব ব্রজ গোপাল ভৌমিক, অধ্যাপক ডা. রওশন আরা।

অনুষ্ঠানের শুরুতে মানিকগঞ্জ জেলার মাতৃ ও নবজাতকের স্বাস্থ্যের বর্তমান অবস্থান তুলে ধরেন পরিবার পরিকল্পনা মানিকগঞ্জ জেলার উপপরিচালক ডা. রঞ্জিত কুমার মন্ডল ও মানিকগঞ্জে মাতৃ ও নবজাতকের স্বাস্থ্যের উন্নয়ন গৃহীত কর্মসূচি তুলে ধরেন সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ জহিরুল করিম।

আয়োজক সূত্রে জানা গেছে, ইউএসআইডির মামনি মাতৃ ও নবজাতক স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়ন প্রকল্প ২০১৯ সাল থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত মানিকগঞ্জ জেলায় কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

বর্তমানে সারা দেশে ১০টি জেলায় এই প্রকল্পের কাজ চলছে। প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য গর্ভবতীর সেবা, স্বাভাবিক প্রসব, নবজাতকের যত্ন ও প্রসূতির সেবা। এগুলো সঠিকভাবে পালন করা গেলে দেশে মাতৃ ও নবজাতকের মৃত্যুরোধ করা সম্ভব। আগে মাতৃ মৃত্যু ছিল লাখে ৫০০ জন, এখন ১৭০ জন মাতৃ মৃত্যু হয়। প্রকল্পটি বাস্তাবায়ন হলে মাতৃ মৃত্যু লাখে ৭০ জনে নেমে আসবে।

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি
জাতীয় ওষুধনীতি-২০১৬’ এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন

নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি