ঢাকা শুক্রবার, ১৮ অক্টোবর ২০১৯, ২ কার্তিক ১৪২৬,    আপডেট ৩৫ মিনিট আগে
২৯ মার্চ, ২০১৯ ১৯:১৫

বাংলাদেশে প্রতি দশজনে একজন থ্যালাসেমিয়া বাহক

বাংলাদেশে প্রতি দশজনে একজন থ্যালাসেমিয়া বাহক

মেডিভয়েস রিপোর্ট: প্রতিবছর বিশ্বে ৬০ থেকে ৮০ হাজার লোক থ্যালাসেমিয়া রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন।  আর বাংলাদেশেই প্রতিবছর ৯ হাজার থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত শিশু জন্মগ্রহন করে।  আর প্রতিদশজনে একজন থ্যালাসেমিয়ার বাহক হচ্ছেন।

শুক্রবার বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘থ্যালাসেমিয়া মুক্ত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে এক মতবিনিময় সভায়’ স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা এসব তথ্য তুলে ধরেন।  এসময় তারা বলেন, থ্যালাসেমিয়া প্রতিরোধে বিয়ের আগে ছেলে-মেয়ে উভয়েরই রক্ত পরীক্ষা করা উচিত। আর এ বিষয়ে আদালতেরও নির্দেশনা রয়েছে।

তারা বলেন, থ্যালাসেমিয়ার বাহকেরা দেখতে স্বাস্থ্যবান। তারা সমাজে স্বাভাবিক মানুষের মতোই চলাফেরা করেন, কিন্তু তারা জানেন না যে তারা ভয়াবহ এ রোগের বাহক। বাহক না জানার কারণে বিয়ের মাধ্যমে দেশে থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত শিশু জন্ম নিচ্ছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ, ঢাকা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক খান মো. আবুল কালাম আজাদ, ঢাকা মেডিকেলের হেমাটোলজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক আলমগীর কবির ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব সিরাজুল ইসলাম আলোচনায় অংশ নেন।

সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ বলেন, এ রোগের প্রধান সহায়ক বা প্রতিকার হচ্ছে রক্ত দেয়া বা সংগ্রহ করা। কিন্তু আমাদের দেশে রক্ত পাওয়ার জন্য যে ধরণের অবকাঠামো দরকার সে ধরণের অবকাঠামো এখানো গড়ে উঠেনি।  সেজন্য এখনই থ্যালাসেমিয়া প্রতিরোধ সম্ভব নয়।

তবে প্রতিরোধ হিসেবে বিয়ের আগে স্বামী-স্ত্রী উভয়েরই রক্ত পরীক্ষা করে নেয়া উচিত।  এছাড়া স্কুলে ছাত্র ছাত্রী ভর্তির সময় থ্যালাসেমিয়া পরীক্ষার ব্যবস্থা করা।  তাহলে থ্যালাসেমিয়া প্রতিরোধ করা সম্ভব।

বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় ঢাকা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক খান মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, বাংলাদেশে এতো বেশি থ্যালাসেমিয়া রোগী ভবিষ্যতে তাদের চিকিৎসা দেয়া দুরুহ হয়ে পড়বে।  থ্যালাসেমিয়া একটি নিরব ঘাতক, এজন্য সমাজের সর্বস্তরের মানুষের উচিত তাদের বাহকদের রক্তদানে এগিয়ে আসা। এছাড়া প্রত্যেকটি জেলায় একটি করে থ্যালাসেমিয়া সেন্টার স্থাপনে সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসতে অনুরোধ জানান আবুল কালাম আজাদ।  

থ্যালাসেমিয়া প্রতিরোধ আন্দোলন বাংলাদেশের আহ্বায়ক ও সাবেক স্বাস্থ্যসচিব সিরাজুল ইসলাম খান ও সদস্য সচিব মাহফুজুর রহমান রাজ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানটির সঞ্চালনা করেন ঢাকা মেডিকেল কলেজের সহকারী অধ্যাপক নুসরাত সুলতানা লিমা।

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত