ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৪ অক্টোবর ২০১৯, ৮ কার্তিক ১৪২৬,    আপডেট ৬ ঘন্টা আগে
ডা. শেখ আতাহার হোসেন

ডা. শেখ আতাহার হোসেন

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল


২৮ মার্চ, ২০১৯ ১৯:০৯

মানবিকতার উন্মেষ ঘটুক

মানবিকতার উন্মেষ ঘটুক

হাসপাতালে ভর্তির দুই দিনের মাথায় একজন পঞ্চাশোর্ধ মহিলা রোগী মারা গেলেন। ঘটনাচক্রে গত ২১ তারিখ রাত ১০টায় আমি তাকে রিসিভ করেছিলাম।

ওই দিন তাকে হাসপাতালে নিয়ে এসেছিলেন তার মেয়ে এবং মেয়ের জামাই। আজ  মৃত্যুর পরেও তার কাছে মেয়ে আর মেয়ের জামাইই আছেন।

আমি ডেথ সার্টিফিকেট লিখতে লিখতে মেয়ের জামাইকে জিজ্ঞাসা করলাম, মহিলার স্বামী এবং সন্তান-সন্ততি আছে কিনা।

জানতে পারলাম, ওই ভদ্র মহিলার স্বামী ১৩ বছর আগে এই হাসপাতালেই মারা গিয়েছিলেন। তখনও এই মেয়ের জামাই ছিলেন তার সঙ্গে।

মেয়ের জামাই জানালেন, মহিলার এক ছেলে আছে। তার বয়স ২৫ বছর। এছাড়া তার দুই মেয়ে রয়েছে, তাদের সবার বিয়ে হয়ে গেছে। কিন্তু শুধু বড় মেয়ের জামাইকেই কাছে দেখলাম।

দুঃখজনক হলেও সত্যি যে তাঁর একমাত্র ছেলেকে এই ২ দিনে একবারও দেখিনি। জানতে পারলাম, তিনি বউ নিয়ে আলাদা থাকেন তাই আসার সময় হয়নি।

একজন রাজমিস্ত্রি হিসেবে বড় মেয়ের জামাইয়ের আয়রোজগারই বা কত হবে? তারপরেও তার শাশুড়ির জন্য নিজের পকেটের টাকা খরচ করতে পিছপা হননি তিনি।

লাশ নিয়ে যাওয়ার সময় আমাকে বলে গেলেন, স্যার বাসা থেকে টাকা-পয়সা যা নিয়ে এসেছিলেন, তার সবই শেষ হয়ে গেছে। কিন্তু তাতে তার কষ্ট নেয়। শাশুড়িকে তিনি সুস্থ করে বাসায় নিয়ে যেতে পারলেন না, এটাই তার কষ্ট।

পরে আমি মেয়ে আর মেয়ের জামাইকে ডেকে নিয়ে একসঙ্গে যতটুকু পারা যায় সান্ত্বনা দিলাম। আর কান্না না করে আল্লাহর কাছে তাদের মায়ের জন্য দোয়া করতে বললাম। সেই সঙ্গে ভদ্র মহিলার ডেথ সার্টিফিকেট তাদের হাতে দিলাম।

আমরা গাইনিতে অধিকাংশ সময় সন্তানসম্ভবা নারী পাই, যাদের মেয়ে বাচ্চা হবে জানতে পেরে স্বামী তাদের সঙ্গে আসে না।

এমনকি প্রায়ই এমন অভিযোগ আসে, মেয়ে বাচ্চা হবে জেনে কোনো কোনো স্বামী স্ত্রীকে খেতে দেয় না, ঠিক মতো চেকআপের ব্যবস্থা করে না।

এক কথায় স্ত্রীর সঙ্গে যাচ্ছেতাই আচরণ করে তারা। অন্যদিকে কোনোভাবে যদি জানতে পারে স্ত্রীর ঘরে ছেলে হবে তাহলে চিত্র হয়ে যায় একেবারে উল্টো। এক্ষেত্রে স্ত্রীর যত্নের কোনো অভাবই নেই।

কিন্তু আজ  ঠিকই নিজের চোখে দেখলাম, মা-বাবার জন্য মেয়েদের আন্তরিকতার সুখকর আর ছেলেদের অবহেলার হৃদয়ভাঙা চিত্র।

অন্তিম সময়ে অধিকাংশ মা-বাবার পাশেই তাদের মেয়েরা থাকেন আর দুঃখজনকভাবে ছেলেরা আসার সময় পায় না।

তাই বাচ্চা হবার সময় ছেলে ছেলে করে পাগল না হয়ে ছেলে-মেয়ে যাই হোক সন্তানকে মানুষের মতো মানুষ করার চেষ্টা করাই একান্ত কাম্য। তাতে অন্তত মৃত্যুর সময় তারা মা-বাবার পাশে থাকবে।

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত