২৭ মার্চ, ২০১৯ ০৭:০৬ পিএম

পুরুষের জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি ‘নিরাপদ’, বাজারে আসছে শিগগির

পুরুষের জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি ‘নিরাপদ’, বাজারে আসছে শিগগির

মেডিভয়েস ডেস্ক: পুরুষের জন্য এক ধরণের জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি প্রাথমিকভাবে মানবদেহের জন্য নিরাপদ বলে জানিয়েছেন চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা। তারা বলেন, ৪০ জনের ওপর চালানো এ সংক্রান্ত প্রথম পর্বের পরীক্ষায় আশাব্যঞ্জক ফল পেয়েছেন।

সম্প্রতি আমেরিকার নিউ অর্লিনসে এন্ডোক্রিন ২০১৯ নামের উচ্চপর্যায়ের একটি মেডিকেল সম্মেলনে এ কথা ঘোষণা দেন বিজ্ঞানীরা।

এতে বলা হয়েছে, জন্মানিয়ন্ত্রণ এ বড়ি দিনে একটি করে খেতে হবে। এতে আছে এক ধরণের হরমোন, যা পুরুষের দেহে শুক্রকীটের উৎপাদন বন্ধ করে দেয়ার মাধ্যমে কাজ করবে।

পুরুষদের জন্য কনডম এবং ভ্যাসেকটমি ছাড়া আর কোন জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি বর্তমানে বাজারে নেই। এ সম্মেলনে বলা হয়েছে, এ বড়ি বাজারে আসতে এক দশক পর্যন্ত সময় লেগে যেতে পারে।

এত সময় লাগার নেপথ্যে?
যুক্তরাজ্যে মেয়েদের জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি চালু হয়েছিল ৫০ বছরেরও বেশি আগে। এর অর্ধশতক পরে পুরুষদের বড়ি চালু হয়নি। কিন্তু এ বিষয়ে এত সময় লাগছে কেন?

অনেকে বলেন, পুরুষদের জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি চালু করার ক্ষেত্রে ‘সামাজিক ও বাণিজ্যিক ইচ্ছার ঘাটতি' আছে। কিন্তু একাধিক জনমত জরিপে দেখা গেছে, অনেক পুরুষই বলেছেন যদি এরকম বড়ি পাওয়া যায় - তাহলে তারা তা ব্যবহার করার কথা বিবেচনা করবেন।

কিন্তু পুরুষটি যে বড়ি খেয়েছেন - সে কথা কি তার নারী সঙ্গিনী বিশ্বাস করবেন? সেটা আরেকটা কঠিন প্রশ্ন।

২০১১ সালে যুক্তরাজ্যের অ্যাংগলিয়া রাস্কিন ইউনিভার্সিটি পরিচালিত একটি জরিপে দেখা যায়, ১৩৪ জন নারী উত্তরদাতার মধ্যে ৭০ জনই বলেছেন, তাদের মনে এই উদ্বেগ কাজ করবে যে তাদের পুরুষ সঙ্গীটি হয়তো বড়ি খেতে ভুলে যাবেন।

এছাড়া এক্ষেত্রে জীববৈজ্ঞানিক চ্যালেঞ্জও আছে। পুরুষদের জন্য হর্মোনভিত্তিক একটি বড়ি তৈরি করার সময় বিজ্ঞানীদের এটা নিশ্চিত করতে হবে যে, তার যৌন অনুভূতি বা পুরুষাঙ্গের উত্থানশক্তি যেন কমে না যায়।

শুক্রকীট উৎপাদন
চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, সন্তান জন্মদানের ক্ষমতাসম্পন্ন পুরুষের অন্ডকোষে নতুন শুক্রকীট প্রতিনিয়তই তৈরি হতে থাকে, এবং এ উৎপাদন পরিচালনা করে নানা রকম হর্মোন।

পুরুষের জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি তৈরি করতে হলে এমনভাবে এ প্রক্রিয়াটি বন্ধ করতে হবে, যাতে হর্মোনের স্তর কমে গিয়ে কোন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা না দেয়।

ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের এলএ বায়োমেড, যারা নতুন এই বড়ি তৈরি করেছে, তারা বলছে তারা হয়তো এ লক্ষ্য অর্জনে সফল হবে। গবেষকরা বলছেন, এ নিয়ে ৪০ জনের ওপর চালানো প্রথম পর্বের পরীক্ষায় তারা আশাব্যঞ্জক ফল পেয়েছেন।

তারা পরীক্ষায় দেখেছেন, যারা ২৮ দিন ধরে ‘ইলেভেন বেটা এম এন টিডিসি’ নামের ওই বড়িটি খেয়েছেন, তাদের হর্মোনের স্তর কমেছে। আর বড়ি খাওয়া ছেড়ে দেবার পর আবার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে এসেছে।

তাদের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হয়েছিল খুবই কম এবং মৃদু। ওই ৪০ জনের পাঁচ জন তাদের যৌন ইচ্ছে কমে যাবার কথা জানিয়েছেন। আর দুজন বলেছেন, পুরুষাঙ্গের উত্থান শক্তি কিছুটা কমে গেছে।

তবে চূড়ান্তভাবে তাদের যৌন ক্রিয়াশীলতা কমে যায়নি। এছাড়া কেউই পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কারণে বড়ি খাওয়া বন্ধ করেননি, এবং সবার দেহেই এটি 'নিরাপদ' বলে উত্তীর্ণ হয়েছে।

গবেষক প্রফেসর ক্রিস্টিনা ওয়াং এবং তার সহযোগীরা এ ফলাফল নিয়ে উল্লসিত, কিন্তু সতর্ক।

প্রফেসর ওয়াং বলছেন, আমাদের ফলাফলে দেখা যাচ্ছে যে এই বড়ি শুক্রকীট উৎপাদন কমাবে কিন্তু যৌন ইচ্ছা আগের মতই থাকবে।

তবে জন্মনিয়ন্ত্রণ প্রক্রিয়া হিসেবে এটা কতটা কার্যকর হবে তা জানতে হলে আরো বড় আকারে এবং দীর্ঘ সময় নিয়ে আরো পরীক্ষা চালাতে হবে।

তিনি বলছিলেন, পুরুষদের জন্মনিয়ন্ত্রণের অন্য নানা উপায়ও পরীক্ষা করছেন তিনি। অন্য আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো, এ ধরণের গবেষণা এবং ওষুধ তৈরিতে ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানিগুলো কতটা আগ্রহ দেখায়। কারণ এ ক্ষেত্রে বিনিয়োগের সমস্যা রয়েছে।

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত