রাইয়ান মাহমুদ

রাইয়ান মাহমুদ

ঢাকা মেডিকেল কলেজ


১৭ অগাস্ট, ২০১৬ ০২:৪৪ পিএম

স্ফিগমোম্যানোমিটার

স্ফিগমোম্যানোমিটার

চিকিৎসক কিংবা চিকিৎসা বিজ্ঞানের ছাত্র মানেই সাথে কমপক্ষে তিনটি জিনিস থাকা চাই। গায়ে ধবধবে সাদা এপ্রোন, গলায় স্টেথোস্কোপ, গলায় কিংবা হাতে স্ফিগমোম্যানোমিটার। শেষোক্ত যন্ত্রটি ডাক্তারের ভাষায় বিপি মেশিন আর রোগীর ভাষায় প্রেসার মাপার যন্ত্র নামে পরিচিত। চিকিৎসকদের সম্পর্কে অনেক রোগীর মূল্যায়নই আজকাল এরকম, ‘স্যারের সবই ঠিক আছে, কিন্তু প্রেসারটাই দেখলো না’। 
ইন্সট্রুমেন্ট রিভিউ বিভাগে আজ আমরা জানবো এই গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রটি সম্পর্কে।

স্ফিগমোম্যানোমিটার হলো রক্তচাপ পরিমাপক যন্ত্র। Sphygmomanometer শব্দটি মূলত দুটি ভিন্ন শব্দের সমন্বয়। গ্রীক Sphygmos = Pulse এবং বৈজ্ঞানিক পরিভাষা Manometer = চাপ পরিমাপক যন্ত্র। 
এই যন্ত্রে মূলত একটি প্রসারণক্ষম হস্তবন্ধনী (Cuff) এবং একটি ম্যানোমিটার থাকে। যন্ত্রের কাফে সংশ্লিষ্ট ধমনীর প্রবাহকে বাঁধাগ্রস্থ করে আর ম্যানোমিটার রক্তচাপ পরিমাপ করে। কাফের চাপ ধীরে ধীরে কমতে থাকলে একটি নির্দিষ্ট চাপে রক্তপ্রবাহ পুনরায় শুরু হয় এবং একসময় পুরোপুরি বাঁধাহীন হয়। যে চাপে রক্তপ্রবাহ শুরু হয় তাকে সিস্টোলিক চাপ আর যে চাপে রক্তপ্রবাহ সম্পূর্ণ বাঁধামুক্ত হয় তাকে ডায়াস্টোলিক চাপ বলে।

রক্তপ্রবাহ শুরু এবং বাঁধাহীন হওয়ার মধ্যবর্তী সময়ে একধরণের বিশেষ শব্দ (Korotkoff sound) শোনা যায়। এই শব্দ শোনার জন্য ম্যানুয়াল স্ফিগমোম্যানোমিটারের সাথে একটি স্টেথোস্কোপ ব্যবহৃত হয়। এই যন্ত্র সাধারণত মি.মি. পারদ চাপ (mmHg) এককে রক্তচাপ পরিমাপ করে। 

স্যামুয়েল সিগফ্রিড কার্ল রিটার ভন বাস্ক (১৮৩৭-১৯০৫) নামক একজন অস্ট্রিয়ান চিকিৎসক ১৮৮১ সালে এটি আবিষ্কার করেন। পরবর্তীতে অধিকতর সহজ করে ব্যবহার উপযোগী করেন ইটালিয়ান শিশু চিকিৎসক রিভা রকি। তবে ১৯০১ সালে এই যন্ত্রের আধুনিকায়ন করে মেডিকেল কমিউনিটিতে জনপ্রিয় করেন Cushing Syndrome এর আবিষ্কারক হার্ভে উইলিয়াম কুশিং।

স্ফিগমোম্যানোমিটার প্রধানত ২ ধরনের

১. ম্যানুয়াল স্ফিগমোম্যানোমিটারঃ এই ধরণের স্ফিগমোম্যানোমিটারে Auscultation এর জন্য একটি স্টেথোস্কোপ প্রয়োজন হয়। দক্ষ ব্যক্তি ছাড়া সাধারণের পক্ষে এই যন্ত্র ব্যবহার করে রক্তচাপ নির্ণয় সম্ভব নয়।
এটি আবার ২ প্রকার-
ক. মার্কারী স্ফিগমোমিটারঃ এই যন্ত্রে পারদ স্তম্ভের উচ্চতা দেখে রক্তচাপ পরিমাপ করা হয়। ক্যালিব্রেশনের ত্রুটি না থাকায় মার্কারী স্ফিগমোমিটারে সুবেদিতা বেশি। 
খ. অ্যানেরয়েড স্ফিগমোমিটারঃ এটি বহুল ব্যবহৃত এবং মার্কারী ম্যানোমিটারের তুলনায় অধিকতর নিরাপদ। এতে একিট ডায়াল ব্যবহৃত হয় যার পাঠ দেখে রক্তচাপ পরিমাপ করা হয়। অ্যানেরয়েড স্ফিগমোমিটারে ক্যালিব্রেশনর ত্রুটি থাকতে পারে। 

২. ডিজিটাল স্ফিগমোমিটারঃ এটি এক ধরনের ইলেকট্রনিক ডিভাইস যা সহজে ব্যবহারযোগ্য। কোন ধরণের প্রশিক্ষণ ছাড়াই এই যন্ত্র ব্যবহার করা যায়।

এই যন্ত্রে একটি প্রেশার সেন্সর এবং একটি মাইক্রোপ্রসেসর থাকে। এটি Mean Pressure  থেকে পরোক্ষ ভাবে Systolic এবং Diastolic প্রেশার নির্ণয় করে। বেশিরভাগ যন্ত্রের মনিটরেই রক্তচাপের পাশাপাশি পাল্্স রেটও প্রদর্শিত হয়। ডিজিটাল স্ফিগমোমিটার সহজে ব্যবহার যোগ্য হলেও কিছু বিশেষ ক্ষেত্রে এটি ব্যবহার করা যায় না।

যেমনঃ Arteriosclerosis, Arrhythmia, Preeclampsia, Pulsus alternus, Pulsus paradoxus ইত্যাদি। 
ডিজিটাল স্ফিগমোমিটারে নানাবিধ সুবিধা থাকা সত্ত্বেও ম্যানুয়াল স্ফিগমোমিটারই চিকিৎসকদের প্রথম পছন্দ।

(মেডিভয়েস : সংখ্যা ৩, বর্ষ ১, নভেম্বর ২০১৪ তে প্রকাশিত)

 

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত