ঢাকা      শুক্রবার ১৯, জুলাই ২০১৯ - ৪, শ্রাবণ, ১৪২৬ - হিজরী



ডা. তারাকী হাসান মেহেদী

মেডিকেল অফিসার, বিসিএস (স্বাস্থ্য)।


সড়কে মৃত্যু মিছিল: রক্ষা পাওয়ার উপায়

সেনেগাল, গাম্বিয়ার মত আফ্রিকান দেশে যখন বাস, মিনিবাস একটা সুন্দর সিস্টেমে চলে, সেখানে আমাদের ঢাকার গণপরিবহন ব্যবস্থা তৃতীয় নয় বরং চতুর্থ বিশ্বের চেয়েও খারাপ বলা চলে। সেনেগালে দেখেছি প্রত্যেক এলাকায় বাস, মিনিবাস নির্দিষ্ট করে দিয়ে নাম্বার দেওয়া আছে। এখানে আমাদের মত সুপ্রভাত, জাবালে নুর, বসুন্ধরা, আজমেরি নেই। সব বাস অভিন্ন নাম্বারে চলে। ফলে বাসে বাসে কোন প্রতিযোগিতা নেই।

একটার পর একটা বাস আসছে, বাসস্টপ নির্দিষ্ট করে দেওয়া আছে, লোকজন সেখান থেকে উঠছে। বাসের মধ্যেই খাঁচা দিয়ে ঘেরা অংশে টিকিট কাটার কাউন্টার আছে। সেখানে একজন বসে আছে, সে টাকা নিচ্ছে, টিকিট দিচ্ছে।

ইউরোপের বাস সিস্টেম আরেকটু উন্নত। টিকিট কিনে বাসে উঠে মেশিনে ভ্যালিডেট করতে হয়। কিন্ত আলাদা আলাদা কোন কোম্পানি নেই, ফলে বেশি যাত্রী উঠানোর অসুস্থ প্রতিযোগিতাও নেই। একটা টিকিট বাস, ট্রাম, মেট্রো সবখানেই চলে।

আজ বিইউপি এর এক ছাত্র বাস চাপায় মারা গেল। আসলে সে মারা যায়নি, তাকে হত্যা করা হয়েছে। এটা নতুন কিছু না। কিছুদিন আগে দুই শিক্ষার্থীকেও বাসস্টপেই চাপা দিয়ে মেরেছিল।

সড়কে এমন মৃত্যু প্রতিনিয়ত ঘটছে। এর পেছনে মূল কারণই হচ্ছে বাসমালিক ও চালকদের লোভ ও অসুস্থ প্রতিযোগিতার মানসিকতা। এ থেকে রক্ষা পাওয়ার এখন উপায় হলঃ

১. আলাদা আলাদা মালিকের হাতে বাসগুলো না রেখে সব বাস একটা নির্দিষ্ট কর্তৃপক্ষের অধীনে নিয়ে আসতে হবে। যেমন- লিসবোয়া মেট্রো পর্তুগালের লিসবনের মেট্রো ট্রেন, বাস, ট্রাম সব নিয়ন্ত্রণ করে; ডাকার ডেম ডিক সেনেগালের বাস মিনিবাস নিয়ন্ত্রণ করে ও সকল বাস এর অধীনে চলে।

২. ড্রাইভার, হেলাপারদের বেতনভুক্ত করতে হবে। এতে যাত্রী কম বা বেশি হল, তা নিয়ে তাদের চিন্তা থাকবে না। তারা মাসিক বেতন পাবে, গাড়ি খালি হলেও সময়মতো গন্তব্যে ঠিকই যাবে।

৩. বাস চালক ও হেলপারের ইউনিফর্ম এর ব্যবস্থা করতে হবে। এতে তাদের মধ্যে দায়িত্ববোধ চলে আসবে। তাছাড়া কোন দুর্ঘটনা ঘটালে জনসাধারণ বেশে পালিয়ে যাওয়াও অপেক্ষাকৃত কঠিন হবে তাদের জন্য।

৪. কাউন্টার থেকে টিকিট নিয়ে বাসে উঠার সিস্টেম করতে হবে। কিংবা বাসের মধ্যে টিকিট সিস্টেম থাকতে হবে। টিকিট ছাড়া শুধু নগদ টাকা দিয়ে উঠানামা বন্ধ করতে হবে। টিকিট রাজধানীর ভেতর সকল বাসের জন্য প্রযোজ্য হবে।

গগণপরিবহনগুলোকে জরুরী ভিত্তিতে একটা সিস্টেমের মধ্যে না নিয়ে আসলে এভাবে সড়কে মৃত্যুর সংখ্যা বাড়তেই থাকবে। তাছাড়া যানযট নিয়ন্ত্রণ করতেও এটা অনেক বেশি জরুরী।

সংবাদটি শেয়ার করুন:

 


আরো সংবাদ














জনপ্রিয় বিষয় সমূহ:

দুর্যোগ অধ্যাপক সায়েন্টিস্ট রিভিউ সাক্ষাৎকার মানসিক স্বাস্থ্য মেধাবী নিউরন বিএসএমএমইউ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঢামেক গবেষণা ফার্মাসিউটিক্যালস স্বাস্থ্য অধিদপ্তর