ঢাকা সোমবার, ১৪ অক্টোবর ২০১৯, ২৮ আশ্বিন ১৪২৬,    আপডেট ১১ ঘন্টা আগে
ডা. মুহিব্বুর রহমান রাফে

ডা. মুহিব্বুর রহমান রাফে

এম‌বি‌বিএস, বি‌সিএস (স্বাস্থ্য) এম‌ডি (ফি‌জিক্যাল মে‌ডি‌সিন এন্ড রিহ্যা‌বি‌লি‌টেশন) ‌ফি‌জিয়্যা‌ট্রিস্ট।


১৭ অগাস্ট, ২০১৬ ১৩:৫১

এম.ডি/এম.এস রেসিডেন্সি এডমিশন

এম.ডি/এম.এস রেসিডেন্সি এডমিশন

বাংলাদেশের পোস্ট গ্রাজুয়েশন জগতে রেসিডেন্সি প্রোগ্রাম এক অনবদ্য সংযোজন। দুঃখজনক হলেও সত্য বাইরের দুনিয়ায় সব ডিগ্রী রেসিডেন্সি হলেও বাংলাদেশে এটি শুরু হয়েছে মাত্র ৫ বছর আগে। কিন্তু এরই মধ্যে রেসিডেন্সি প্রোগ্রাম নবীনদের হৃদয়ের মণি কোঠায় স্থান করে নিয়েছে। গতবছর ২০১৩ নভেম্বরে ৫৫০০ পরীক্ষা দিয়ে প্রায় ৬০০জন রেসিডেন্সিতে চান্স পেয়েছেন। প্রাণ গোপাল স্যার যখন গর্ব ভরে বলেন, রেসিডেন্টস্ আর মাই গোল্ডেন বয়েজ এন্ড ডটার্স- তখন সত্যিই অনুভূতি হয় অন্যরকম। যারা এবার রেসিডেন্সি দিতে চান, তাদের জন্যই এই লেখা।
ক) রেসিডেন্সি প্রোগ্রাম কেন আলাদা?
- এটি একটি সম্পূর্ণ ও অসাধারণ সুপারভাইজড প্রোগ্রাম। একজন সুপারভাইজারের অধীনে থেকে প্রতি মূহুর্তে আপনাকে শিক্ষা গ্রহণ করতে হবে। বিভিন্ন সাবজেক্টে এক-তিন মাস ব্লক পোস্টিং আপনার জ্ঞানকে করবে আরও সমন্বিত, আপনার ট্রেনিং হবে আরও কার্যকর।
- পাঁচ বছর একই ইন্সস্টিটিউট থেকে ডিগ্রী নিয়ে বের হবেন। ট্রেনিং এর জন্য এধার-ওধার দৌড়াদৌড়ির ঝামেলা নেই। বিসিএস ক্যাডাররাও ডেপুটেশন পেয়ে যাবেন। কোর্সে থাকাকালীন সময়ে বিসিএস হলে সর্বোচ্চ তিন বছরের ছুটি পাবেন। পরে এসে সরাসরি বাকী কোর্স সমাপ্তকরনে জয়েন করবেন। দলীয়করন, ফাইল চালাচালি, হয়রানীর কোন সম্ভবনা নেই।
- ফেজ ‘এ’ দুই বছর আর ফেজ ‘বি’ তিন বছর। ফেজ ‘এ’ শেষ হলে সরাসরি ফেজ ‘বি’ তে। নন রেসিডেন্সির মতো নেই বছর বছর পার্ট-১ বেসিক সায়েন্সের পরীক্ষা আর হতাশায় ভোগা। চমৎকার এই কোর্সে আপনি মোটামুটি রেগুলার থাকলেই খুব সুন্দরভাবে চুড়ান্ত লক্ষ্যে পৌঁছে যেতে পারবেন।
- শুধুমাত্র বিএসএমএমইউ-র বাইরেও ২০১৩ সালে বেশ কিছু মেডিকেল কলেজে শুরু হয়েছে এ প্রোগ্রাম। তাই চান্স পাওয়ার সম্ভাবনা এখন আরো বেশি। 
- আসলটা তো বলাই হয়নি। বিশ্বে বিরল এই দেশের "হাভাতে অনারারী" সিস্টেমের বিপরীতে ডাক্তারদের সামান্য সম্মান প্রদর্শনের চেষ্টা করা হয়েছে এই প্রোগ্রামে। আপাতত দশ হাজার করে পাচ্ছেন রেসিডেন্টরা।
খ) সবই ভালো, নেগেটিভ কিছু নেই?
আছে,
- এখনও রেসিডেন্সিকে ট্রেনিং হিসাবে আলাদা সার্টিফিকেট দেবার বিধান চালু হয়নি। এতে আপনার এফসিপিএস পার্ট-১ ঝুলে যেতে পারে।
- লিখিত নিয়মানুযায়ী বাইরে চাকুরী, প্র্যাকটিস, পরীক্ষা দেয়া যায়না। তবে এই নিয়মের প্রয়োগে এখনও কঠোরতা আরোপ পরিলক্ষিত হয়নি।
ঘ) কারা পরীক্ষার জন্য বিবেচিত হবেন? এবার যাদের ৩৩তম বিসিএস হয়েছে, তারা কি আগামী রেসিডেন্সি পরীক্ষা দিতে পারবেন?
- দুঃখিত। ৩৩তম বিসিএস এ যোগদানকারীরা আগামী দুই বছরের আগে রেসিডেন্সি/নন রেসিডেন্সি পরীক্ষায় বসতে পারবেন না। তবে চাকুরীর এক বছর পূর্ণ হলে এনেসথেসিয়া ও বেসিক সায়েন্সে পরীক্ষা দেয়া যায়। এফসিপিএস এর ক্ষেত্রে কোন বাঁধা নেই।
ছ) পরীক্ষা কত মার্কস এর? নেগেটিভ নম্বর থাকবে কি?
- ২০০ নম্বরের, মোট সময় ১৮০ মিনিট। বিগত বছরগুলোতে যেহেতু ছিল, তাই এবার না থাকার কোন কারণ নেই।
জ) পরীক্ষা কবে নাগাদ হতে পারে?
- লিখিত পরীক্ষা- ২৮ নভেম্বর ২০১৪ শুক্রবার, বুয়েট ক্যাম্পাসে, সকাল ৯ টা থেকে দুপুর ১২ টা। পরীক্ষার ফি জমা দেয়ার তারিখ ২৭ অক্টোবর থেকে ১৩ নভেম্বর ২০১৪। ফিঃ ৪০০০ টাকা।
ঞ) কিছু এক্সক্লুসিভ টিপস্:
- আগে নিশ্চিত হয়ে নিন, আপনার পছন্দনীয় বিষয়টি কোন ফ্যাকাল্টির অধীনে, তদনুযায়ী পড়াশুনা শুরু করুন।
- আশঙ্কা, দ্বিধাবোধ, হতাশা ঝেড়ে ফেলে নতুন উদ্যমে শুরু করুন। কি পড়বেন, এক সপ্তাহের মধ্যে গুছিয়ে নিন, পুরাতন পড়া গুলোকে ঝালাই করুন।
- বিগত বছরের প্রশ্নগুলো বিশ্লেষণ করুন। গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলো নির্ধারণ করুন। সিনিয়রদের পরামর্শ নিন। যেই অংশগুলো থেকে বারবার প্রশ্ন আসে সেগুলো ভালো করে বিভিন্ন আঙ্গিক থেকে বুঝে বুঝে পড়–ন।
- মনে রাখবেন বর্তমান পরীক্ষাগুলোর ৮৫-৯০% প্রশ্ন পিউর বেসিক বা ক্লিনিক্যাল রিলেটেড বেসিক। তাই বেসিকে যাদের যত দখল, মাঠের দখলও তাদেরই থাকবে।
- বিগত বছরের প্রশ্নগুলো বারবার সমাধান করুন। সময়ের ব্যাপারে সচেতন হোন। প্রয়োজনবোধে প্রচলিত কোচিং সেন্টারগুলোতে মডেল টেস্ট দিতে পারেন।
মনে রাখবেন, এমডি/এমএস পরীক্ষায় বিদ্যার দৌড় জরুরি হলেও সাথে বুদ্ধির দৌড় আরও বেশি জরুরি। তাই ঠান্ডা মাথায় কুশলী প্রস্তুতি নিয়ে পরীক্ষা দিন। জয় আপনার সুনিশ্চিত। সবার জন্য শুভ কামনা রইলো।

লেখকঃ এমডি অধ্যয়নরত, ডিপার্টমেন্ট অব ফিজিক্যাল মেডিসিন এন্ড রিহ্যাবিলিটেশন, বিএসএমএমইউ।
   

(মেডিভয়েস তৃতীয় সংখ্যা নভেম্বর’১৪ তে প্রকাশিত)

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত