ঢাকা      বৃহস্পতিবার ২১, মার্চ ২০১৯ - ৬, চৈত্র, ১৪২৫ - হিজরী



ডা. মশিউর রহমান (সাদিক)

মেডিকেল অফিসার
জিয়া হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল, দিনাজপুর।


বাংলাদেশের ফার্মাসিউটিক্যালস: চাই সুষ্ঠ সমন্বয়

ব্যবসা-বাণিজ্য স্বাধীনভাবে জীবনে প্রতিষ্ঠা লাভ ও মানুষের সেবা করার এক প্রাচীনতম প্রতিযোগিতাপূর্ণ এক মাধ্যম। এক্ষেত্রে এগিয়ে আছে বাংলাদেশের ফার্মাসিউটিক্যালস তথা ঔষধ কোম্পানিগুলো। বাংলাদেশের চাহিদা পূরণ করে বিশ্বের বড় বড় অনেক দেশে ছড়িয়ে পড়েছে আমাদের ঔষধ। আন্তর্জাতিক মান ও গুণাগুণ সম্পন্ন ঔষধ তৈরি করাই এ সাফল্যের প্রধান কারণ।

তবে, অসম প্রতিযোগিতার কারণে ছোট কোম্পানি গুলোকে অনেক সময় পড়তে হয় অমানবিক ও অন্যায় পথে টিকে থাকার লড়াইয়ে। অন্যদিকে, বড় বড় কোম্পানি গুলো মাঝে মাঝে ঔষধ সরবরাহ করতে গিয়ে হিমশিম খায়। ফলে ভোগান্তির শিকার হয় গরীব অসহায় ও মুমূর্ষু রোগি ও স্বজনরা। 

ঔষধের দোকানদার তথা ফার্মাসিস্টদের স্টকবাণিজ্যের প্রতারণায় অনেক সময় ৮ টাকার জীবন রক্ষাকারী ওষুধ কিনতে হয় ৮০০ থেকে ৮০০০ টাকায়। এ এক অমানবিক সিন্ডিকেট বাণিজ্য। মাঝে মাঝে এমন খবর পত্রিকায় দেখা যায়। ফলে ঔষধ কোম্পানির প্রতিনিধিগণ পড়ে বিপাকে। অথচ এ সমস্যা সমাধানে সরকার তথা ফার্মাসিউটিক্যাস নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ একটু সচেতন ও যুগোপযোগী সিদ্ধান্ত নিলেই সুন্দর ও সুষ্ঠ সমাধান সম্ভব। 

সমন্বয় ও সংশোধন পদ্ধতি-

প্রথমেই কোম্পানি গুলোকে ক্যাটাগরি অনুসারে সাজাতে হবে। যেমন-

ক. বড়/প্রতিষ্ঠিত কোম্পানি

খ. মাঝারি/বর্ধনশীল কোম্পানি

গ. ছোট/ঝুঁকিপূর্ণ কোম্পানি

ঘ. নতুন/উৎপাদনমুখী কোম্পানি

কোম্পানিগুলোকে ভাগ করে নিতে হবে:

১. প্রতিষ্ঠিত কোম্পানিগুলোকে শুধু এন্টিবায়োটিক, ভ্যাকসিন ও ক্যান্সারের ঔষধ উৎপাদন ও পর্যাপ্ত পরিমাণে সরবরাহ করার জন্য অঙ্গিকারাবদ্ধ করতে হবে।

২. মাঝারি কোম্পানিগুলোকে শুধু ক্রনিক কেয়ার (কার্ডিয়াক, শ্বাসতন্ত্র, রেনাল ও ডায়াবেটিস) এর ঔষধ উৎপাদন ও সরবরাহ করতে বাধ্য করতে হবে।

৩. ছোট কোম্পানিগুলোকে পেইন কিলার, এন্টি-আলসারেন্ট, ক্যালসিয়াম, আয়রন, ভিটামিন ও মিনারেলস সমৃদ্ধ ঔষধ আবিষ্কার করতে হবে।

৪. নতুন কোম্পানিগুলোকে যে গ্রুপ বা কোম্পানি পর্যাপ্ত পরিমাণে ঔষধ সরবরাহ করতে ব্যর্থ হচ্ছে তাদের সাথে সময় ও সুযোগ ভেদে সমন্বয় করতে হবে।

এজন্য কোম্পানির মালিক তথা পরিচালনা কমিটিকে উচ্চতর পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষক কমিটি গঠন করে চুক্তিবদ্ধ করতে হবে। তবেই মিলবে ঔষধ কোম্পানি গুলোর অবৈধ উৎপাত ও ডাক্তার, কবিরাজ, পল্লী চিকিৎসক এবং ফার্মাসি তথা ঔষধ বিক্রেতাদের সিন্ডিকেট বাণিজ্য।

আসুন আমরা শিক্ষিত, সচেতন ও প্রকৃত ডাক্তার সমাজ ঐক্যবদ্ধ হই এবং আমাদের স্বনামধন্য ফার্মাসিউটিক্যালস কোম্পানির ঐতিহ্য অব্যাহত রাখার চেষ্টা করি। বন্ধ হোক সকল কমিশন বাণিজ্য, ভেজাল ও নিম্নমানের ঔষধ উৎপাদন ও সরবরাহ।

সংবাদটি শেয়ার করুন:

 


সম্পাদকীয় বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

স্যাম্পল ঔষধের কিছু ক্ষতিকর দিক!

স্যাম্পল ঔষধের কিছু ক্ষতিকর দিক!

টক'-শো তে তো কতো লোকে কত কথাই বলে। ওষুধের স্যাম্পল নাকি ডাক্তারদেরকেই…

প্রাইভেট প্রাকটিস: প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ পরিবর্তনে আশাবাদী চিকিৎসকরা

প্রাইভেট প্রাকটিস: প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ পরিবর্তনে আশাবাদী চিকিৎসকরা

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে কেবল হাসপাতালের এক কর্নারে সরকারি চিকিৎসকদের প্রাইভেট প্রাকটিস গড়ে উঠলে ও…

ইরানে যেভাবে কিডনি দিবস পালিত হয়

ইরানে যেভাবে কিডনি দিবস পালিত হয়

বিশ্ব কিডনি দিবস বাংলাদেশে কিভাবে পালিত হলো তা নিয়ে দেশের সংবাদমাধ্যমগুলোর দিকে…

সড়কে মৃত্যু মিছিল: রক্ষা পাওয়ার উপায়

সড়কে মৃত্যু মিছিল: রক্ষা পাওয়ার উপায়

সেনেগাল, গাম্বিয়ার মত আফ্রিকান দেশে যখন বাস, মিনিবাস একটা সুন্দর সিস্টেমে চলে,…



জনপ্রিয় বিষয় সমূহ:

দুর্যোগ অধ্যাপক সায়েন্টিস্ট রিভিউ সাক্ষাৎকার মানসিক স্বাস্থ্য মেধাবী নিউরন বিএসএমএমইউ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঢামেক গবেষণা ফার্মাসিউটিক্যালস স্বাস্থ্য অধিদপ্তর