ঢাকা      বৃহস্পতিবার ২১, মার্চ ২০১৯ - ৬, চৈত্র, ১৪২৫ - হিজরী



ডা. মো. ফজলুল কবির পাভেল

সহকারী সার্জন, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল


অস্টিওপোরোসিস

অস্টিওপোরোসিস বা হাড়ের ক্ষয় রোগ পরিচিত এক অসুখ। এটি এমন একটি অসুখ যার ফলে হাড়ের ঘনত্ব নির্দিষ্ট মাত্রার চেয়ে কমে যায়। এর ফলে হাড় দুর্বল হয়ে পড়ে। ভঙ্গুরও হয়ে যায়। চল্লিশ বছরের পর হাড় থেকে ক্যালসিয়াম ও ফসফেট কমতে থাকে। এর ফলে হাড়ের পরিবর্তন হয়। হাড় হয়ে পড়ে দুর্বল ও ভঙ্গুর।

এই রোগে মহিলা ও পুরুষ উভয়ই আক্রান্ত হয়। তবে মহিলাদের অনেক বেশি দেখা যায় । শতকরা আশি ভাগ ক্ষেত্রে মেয়েদেরই রোগটি দেখা দেয়। মেয়েদের মেনোপজ বা ঋতুস্রাব বন্ধের পর শরীরে ইস্ট্রোজেন হরমোন কমে যায়। এর  ফলে হাড়ের ক্ষয়ের মাত্রা বেড়ে যায়। পুরুষের ক্ষেত্রে টেস্টোস্টেরন হরমোন ৬০-৭০  বছর বয়সে কমতে শুরু করে  এবং তখন হাড়ের ক্ষয় শুরু হয়।

অস্টিওপোরোসিসে হাড়ের ঘনত্ব কমে হাড় দুর্বল ও ভঙ্গুর হয়ে যায়। ফলে সামান্য পরিমাণ আঘাতেই শরীরের বিভিন্ন জায়গার হাড় ভেঙে যেতে পারে। অস্টিওপোরোসিস একটি নীরব ঘাতক। তেমন লক্ষণ থাকেনা। প্রাথমিক অবস্থায় অস্টিওপোরোসিসের তেমন কোনো উপসর্গও থাকেনা। যখন হাড়ে ফাটল ধরে বা হাড় ভেঙে যায় তখন বোঝা যায়। কিন্তু ততদিনে অনেক দেরী হয়ে যায়। 

ভাল ভাবে ইতিহাস নিয়ে, এক্সরে এবং বিএমডি টেস্ট করে অস্টিওপোরোসিস ডায়াগনোসিস করা যায়। বিএমডি (বোন মিনারেল ডেনসিটি) পরীক্ষা করে হাড়ের ঘনত্ব নির্ণয় করা হয়। এটি সাধারণ এক্স-রের মতো একটি পরীক্ষা যা সম্পূর্ণ ব্যথামুক্ত। এই পরীক্ষা সহজ এবং রেডিয়েশন খুব কম হয়। তবে এই পরীক্ষা সবজায়গায় হয়না। মেশিনের দামও অনেক বেশি। 

অস্টিওপোরোসিসের হাত থেকে বাঁচতে প্রচুর পরিমাণ ক্যালসিয়াম খেতে হবে। প্রতিদিন খাবারে যেন ক্যালসিয়াম  থাকে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। দুগ্ধজাত খাদ্যে এবং সামুদ্রিক মাছে প্রচুর ক্যালসিয়াম থাকে। ভিটামিন ডি পরিমিত মাত্রায় গ্রহণ করতে হবে। ভিটামিন ডি ক্যালসিয়াম শোষণ বাড়ায়। ভিটামিন ডি বেশি পাওয়া যায় ডিমে,  কড লিভার তেলে, সামুদ্রিক মাছে ও কলিজায়। সূর্যের আলো ভিটামিন ডি’র অন্যতম প্রধান উৎস। এই আলো চামড়ায় পড়লে চামড়ায় থাকা এক উপাদান নানা বিক্রিয়া শেষে ভিটামিন ডি তে পরিণত হয়। নিয়মিত ব্যায়াম করতে হবে। পুষ্টিকর খাবার খেতে হবে। ধূমপান এবং এলকোহল বর্জন করতে হবে। অস্টিওপোরোসিসের বেশ কিছু ওষুধ আছে। সেসব খাওয়া যেতে পারে। তবে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শে। 

অস্টিওপোরোসিস পরিচিত রোগ। এই বিষয়ে তাই সবার জানা উচিত।

সংবাদটি শেয়ার করুন:

 


স্বাস্থ্য বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

নাকডাকা রোগের চিকিৎসা

নাকডাকা রোগের চিকিৎসা

স্লিপ এপনিয়ার (নাক ডাকা রোগ) চিকিৎসা যতটা না বায়োমেডিকেল সাইন্স ভিত্তিক, তার…

জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি এবং স্ট্রোক

জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি এবং স্ট্রোক

জন্মনিয়ন্ত্রন বড়ি বা ওরাল কণ্ট্রাসেপটিভ পিল (ওসিপি) খুব জনপ্রিয়। আবিষ্কারের পর যুগ…

ব্যাথানাশক ওষুধ থেকে সাবধান

ব্যাথানাশক ওষুধ থেকে সাবধান

অনেকে ওষুধের দোকান থেকে ওষুধ কিনে খান। আমাদের দেশে এই কালচার বহুল…

ডায়রিয়া থেকে আকস্মিক কিডনি বিকল

ডায়রিয়া থেকে আকস্মিক কিডনি বিকল

একিউট কিডনি ইনজুরি বা আকস্মিক কিডনি বিকল বিভিন্ন কারণে হতে পারে। তারমধ্যে…

অস্টিওনেক্রোসিস রোগের কারণ ও প্রতিকার

অস্টিওনেক্রোসিস রোগের কারণ ও প্রতিকার

অস্টিওনেক্রোসিস রোগে অস্থির কিছু অংশ নষ্ট হয়ে যায়। অস্থিতে রক্ত চলাচলে সমস্যা…

গর্ভাবস্থায় কোষ্ঠকাঠিন্য

গর্ভাবস্থায় কোষ্ঠকাঠিন্য

গর্ভাবস্থায় কোষ্ঠকাঠিন্য একটি অতি পরিচিত সমস্যা। বেশির ভাগ মহিলাই সাধারণত এ সময়…



জনপ্রিয় বিষয় সমূহ:

দুর্যোগ অধ্যাপক সায়েন্টিস্ট রিভিউ সাক্ষাৎকার মানসিক স্বাস্থ্য মেধাবী নিউরন বিএসএমএমইউ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঢামেক গবেষণা ফার্মাসিউটিক্যালস স্বাস্থ্য অধিদপ্তর