০৯ মার্চ, ২০১৯ ০৮:৫১ পিএম

অতিরঞ্জিত সংবাদ কাম্য নয়: অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ রেজাউল করিম

অতিরঞ্জিত সংবাদ কাম্য নয়: অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ রেজাউল করিম

মেডিভয়েস রিপোর্ট: ‘কক্সবাজার মেডিকেল কলেজে দুর্নীতি হয়েছে’ শিরোনামে সম্প্রতি বিভিন্ন খবরের কাগজে প্রকাশিত খবরের ব্যাখ্যা দিয়েছেন কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ রেজাউল করিম।

সংবাদ মাধ্যমে পাঠানো লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, কক্সবাজার মেডিকেল কলেজে ২০ কোটি ৮০ লক্ষ টাকার আসবাবপত্র বিল আটকে দেয়ার বিষয়টি সত্য নয়। এখনো এসব আসবাবপত্রের বিল করা হয়নি এবং কোন সরকারি তহবিল ব্যয় হয়নি। যার বিলই হয়নি তা ভুয়া বিল হলো কিভাবে?

আসবাবপত্রগুলো গত ২ বছর ৩ মাস ধরে কলেজ ও হোস্টেলে ব্যবহৃত হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন,  এগুলো নিম্নমানের বলে যে খবর বেরিয়েছে তাও সত্য নয়। চাইলে যে কেউ আসবাবপত্রগুলো দেখতে পারেন।

ডা. রেজাউল করিম বলেন, দরপত্রের মাধ্যমে ক্রয় প্রক্রিয়ায় কাউকে কাজ দেয়ার ব্যাপারে কারো একক কর্তৃত্ব নেই। এছাড়া আসবাবপত্রগুলোর দাম অন্যান্য মেডিকেল কলেজ কর্তৃক ক্রয়কৃত আসবাবপত্রের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে আসবাবপত্রের দাম এ রকমই হয়ে থাকে। কারণ দরপত্রে উল্লেখিত দামের সঙ্গে ভ্যাট, আইটি, মুনাফা ও অন্যান্য ব্যয়ও ধরা হয়ে থাকে।

তিনি অভিযোগ করেন, প্রতিবেদকরা তার সঙ্গে কোন কথা না বলে, তার মতামত না নিয়ে বিষয়টি অতিরঞ্জিত করে সংবাদ তৈরি করেছেন, যা কাম্য নয়।

তিনি আরও বলেন, সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ স্থাপনের ৬ বছরের ব্যবধানে ২০১৭ সালের মে মাসে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল উদ্বোধন হয়। ২০১৩ সালে গাজীপুরে শহীদ তাজউদ্দীন আহমেদ মেডিকেল কলেজ স্থাপিত হয়ে মাত্র ৪ বছর পর ২০১৭ সালের এপ্রিল মাসে ওই মেডিকেল কলেজে সঙ্গে হাসপাতাল যুক্ত হয়।

ডা. রেজাউল করিম বলেন, তিনি অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় ২০১৭ সালের ৬ মে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ উদ্বোধন ও কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। কিন্তু গত ১১ বছরেও কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল নির্মাণকাজ শুরু হয়নি। কবে কাজ শুরু হবে তা অনিশ্চিত। এটা কক্সবাজারবাসীর প্রতি এক ধরনের অবিচার।

এ মেডিকেল কলেজে প্রায় দেড় বছর অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন জানিয়ে তিনি বলেন, তার সময়ে কলেজে অভূতপূর্ব উন্নয়ন হয়েছে। এর আগে কক্সবাজার মেডিকেল কলেজে কোন নিয়ম-শঙ্খলা ছিল না। ভালো কোন লাইব্রেরি, লেকচার হল, ভাল ক্লাসরুম, ডিসেকশন হল, ল্যাব ও কনফারেন্স রুম ছিল না।

এমনকি তার আগে ক্লাসে ছাত্র-ছাত্রীদের উপস্থিতি ছিল নাম মাত্র ১০-১৫%। ছাত্র-ছাত্রীদের ক্লাসে প্রয়োজনীয় উপস্থিতি না থাকলেও বিশ্ব-বিদ্যালয়ের পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ করে দেওয়া হতো। কার্ড শেষ না করে, টার্ম পরীক্ষা পাস না করে, ক্লাসে ৫% এরও কম উপস্থিত থেকেও কেউ কেউ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেশনাল পরীক্ষা দিয়েছে।

এ অবস্থায় ২০১৫ সালের ১৯ ডিসেম্বর কক্সবাজার মেডিকেল কলেজে অধ্যক্ষ হিসেবে যোগ দেন তিনি। এরপর নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করে কলেজে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনেন।

অধ্যক্ষ রেজাউল করিম জানান, তিনি মানসম্মত চিকিৎসক তৈরির লক্ষ্যে মেডিকেল কলেজটি গড়তে চেয়েছিলেন। লক্ষ্য ছিল, ২০১৬ সালের মধ্যে নতুন ক্যাম্পাসে কলেজ ও হোস্টেল স্থানান্তর করার।

তিনি বলেন, এর আগে কলেজে সিনিয়র শিক্ষকের তীব্র সংকট ছিল। অনেক বিভাগে কোন অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপক ও সহকারী অধ্যাপক ছিল না। এ অবস্থায় সময়ের স্বল্পতার কারণে তাই কিছু কিছু সিদ্ধান্ত প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষ ও ক্রয়কারী হিসাবে সরল বিশ্বাসে অধ্যক্ষকে নিতে হয়, যা না হলে নতুন ক্যাম্পাসে কলেজ ও হোস্টেল স্থানান্তর করা সম্ভব হতো না।

মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কাজ শুরু করার পরিকল্পনার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ২৫০ শয্যার কক্সবাজার সদর হাসপাতালে দৈনিক ৫০০ এরও বেশি রোগী ভর্তি হয়। স্থান সংকুলান না হওয়ায় হাসপাতালের ফ্লোরে ও হাঁটার জায়গায় রোগীদের রাখতে হতো।

৫০০ শয্যার হাসপাতাল হলে কক্সবাজার মেডিকেল কলেজে ১০০-১২০ জন ছাত্র-ছাত্রী ভর্তি হবে। ডিপিপি পাস করা হোস্টেলসমূহ ৬তলা হবে এবং কলেজ ভবন ভার্টিকেল ও হরাইজেন্টাল সম্প্রসারণ হবে।

তাছাড়া ক্লিনিক্যাল বিভাগসমূহ হাসপাতালে থাকার কারণে সেখানে বেশ কিছু আসবাবপত্রের প্রয়োজন ছিল। কলেজের মাল্টিপারপাস হলে ও অডিটরিয়ামে অনেক আসবাবপত্রে দরকার। প্রত্যেক বিভাগে মিনি কনফারেন্স রুম করার জন্য ও বেশ কিছু আসবাবপত্র লাগবে।

এসব বিবেচনায় নিয়ে আসবাবপত্রের কার্যাদেশ দেয়া হয়। হয়ত প্রয়োজনের বেশি কিছু আসবাবপত্রের কার্যাদেশ দেয়া হয়েছে বলে মনে হতে পারে, যা পরবর্তীতে ব্যবহার করা যাবে। কিন্তু আসবাবপত্রগুলো মানসম্মত ও দাম অন্যান্য মেডিকেল কলেজের দরপত্রের সহিত সামঞ্জস্যপূর্ণ।

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি
জাতীয় ওষুধনীতি-২০১৬’ এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন

নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি