ঢাকা      সোমবার ২৪, জুন ২০১৯ - ১০, আষাঢ়, ১৪২৬ - হিজরী

বিশ্বে স্বাস্থ্যখাতে সবচেয়ে কম ব্যয় বাংলাদেশের

মেডিভয়েস ডেস্ক: স্বাস্থ্যখাতের উন্নয়নে সরকারের নেওয়া একের পর এক কর্মসূচি বাস্তবায়ন হতে চলেছে। বাস্তবায়ন হওয়ার পথে আরও একাধিক কর্মসূচি। এছাড়া প্রতিজেলায় একটি মেডিকেল কলেজ ও বিভাগে একটি মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় করার চিন্তাও সরকারের পরিকল্পনায় রয়েছে।

মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা যথাযথ বলে মনে করলেও মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্তকে অযৌক্তিক হিসেবে উল্লেখ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। এটিকে বেকার চিকিৎসকের সংখ্যা বাড়ার কারণ হিসেবে চিহ্নিত করে তারা জানিয়েছেন, এ সংখ্যা এরই মধ্যে এক লাখ ছাড়িয়েছে।

এ প্রেক্ষাপটে জেলায়, জেলায় সুশঙ্খল বড় হাসপাতাল গড়ে তোলার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

এ রকম আলোচনা-সমালোচনায় স্বাস্থ্যখাতের পথচলার মধ্যেই সম্প্রতি বাংলাদেশে স্বাস্থ্যব্যয় বেড়ে যাওয়া নিয়ে এক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ওষুধের মূল্য বৃদ্ধি, অপ্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও বাণিজ্যিক চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানে সেবা নেওয়ার প্রবণতা বাড়ার কারণে রোগীদের নিজস্ব স্বাস্থ্যব্যয় বাড়ছে। এতে আরও দেখানো হয়েছে, রোগীর নিজস্ব খরচের ৬৪.৫% যায় ওষুধ কিনতে, পরীক্ষা-নিরীক্ষায় ৮.২% ও হাসপাতালে ১৩.৭% ব্যয় হয়।

মজার বিষয় হলো, ব্যয় বেড়ে যাওয়ার পেছনে অনেকেই চিকিৎসকদের দায়ী করলেও ওই হিসাবে দেখা যায়, স্বাস্থ্যব্যয়ের মাত্র ৮.৪% খরচ হয় তাদের পেছনে। এছাড়া বিকল্প চিকিৎসাসেবা ও অন্যান্য খাতে খরচ হয় ৫.২%।

কিছু অব্যস্থাপনা ও যথাযথ নজরদারির অভাবে এ ব্যয় বাড়ছে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

তবে স্বাস্থ্যখাতে রোগীর নিজস্ব খরচ বাড়লেও এ খাতের উন্নয়নে রাষ্ট্রের ব্যয় ততটা সন্তোষজনক নয়। ২০১৫ সালের ওয়ার্ল্ড ব্যাংক এবং বিশ্ব স্বাস্থ্যসংস্থার এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, বাংলাদেশে স্বাস্থ্যখাতে ব্যয় হয় মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ২.৬৪ শতাংশ। বিশ্বের ধনী-গরিব সব দেশ মিলিয়ে দেখলেও এ খাতে বাংলাদেশের ব্যয় একেবারে পেছনের দিকে।

অথচ মধ্য-আয়ের দেশও তাদের স্বাস্থ্যসেবায় গড়ে ৫.৩৬% খরচ করে। এমনকি হতদরিদ্র সুদানেও এ খাতে ব্যয় হয় জিডিপির ৬.৩১%।

এ পরিসংখ্যানের শুরুর দিকে থাকা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ব্যয় হয় ১৬.৮৪ শতাংশ। আর জার্মানিতে ১১.১৫ শতাংশ ও জাপানে ব্যয় হয় ১০.৮ শতাংশ। এমনকি দক্ষিণ এশিয়ার এক যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ আফগানিস্তানে জনস্বাস্থ্যে বয় হয় ১০.২ শতাংশ, ব্রাজিলে ৮. ৯১ শতাংশ আর ইথিওপিয়ায় ৪.০৫।

এ পরিসংখ্যানে বিষয়টি পরিষ্কার যে, এ খাতে বাংলাদেশের খরচ একেবারেই নগণ্য।

এ প্রসঙ্গে ইউনিভার্সিটি অব সেন্ট্রাল ফ্লোরিডা কলেজ অব মেডিসিনে সহকারী ডিন এবং অধ্যাপক ডা. সেজান মাহমুদ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফেসবুকে এক স্ট্যাটাসে বলেন, ‘আমরা এগিয়ে যাচ্ছি স্বাস্থ্যসূচকে, আয়ের দিক থেকে, প্রযুক্তিতে; তাহলে কেন স্বাস্থ্যব্যয়ে আগাবো না? এজন্যেই আমাদের ধনী ও ক্ষমতাশীলরা বিদেশে চিকিৎসা নিতে যান। মরে শুধু নিম্ন ও নিম্ন মধ্যবিত্তের মানুষেরা। স্বাস্থ্য-বৈষম্য দূর হোক’।

নির্দ্বিধায় বলা যায়, স্বাস্থ্যসেবায় রাষ্ট্রের ব্যয় অন্যান্য দেশের তুলনায় কম হওয়ার কারণে সার্কভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে স্বাস্থ্যখাতে বাংলাদেশের রোগীদের নিজস্ব ব্যয় সবচেয়ে বেশি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্বাস্থ্যের পেছনে ব্যয়ের ৬৭ শতাংশ বহন করে রোগী বা তার পরিবার। বাকি ৩৩ শতাংশ আসে সরকার ও দাতা সংস্থার কাছ থেকে। এমনকি কোনো কোনো বিশেষজ্ঞ বলেছেন, বাংলাদেশে চিকিৎসা ব্যয় মেটাতে গিয়ে প্রতিবছর ৫০ লাখ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে যায়। আর এসব কারণেই এ দেশের স্বাস্থ্যসেবা এখনো আশানুরূপভাবে এগুতে সক্ষম হয়নি।

হয় তো এ কারণেই এদেশের চিকিৎসা ব্যবস্থার প্রতি বিতশ্রদ্ধ হয়ে ধনী ও ক্ষমতাশীলদের একটি অংশ ভালো চিকিৎসার আশায় বিদেশে পাড়ি জমান। আর বেশিরভাগ নিম্ন ও নিম্ন মধ্যবিত্তের মানুষ অনেকটা অপারগ হয়ে এদেশের হাসপাতালের চিকিৎসা নেন।

কিন্তু এ অবস্থা অব্যাহত থাকলে স্বাস্থ্যখাত নিয়ে সরকারের কোনো পরিকল্পনাই স্থায়ীভাবে সফলতার মুখ দেখবে না। অথচ স্বাস্থ্যখাতে বাংলাদেশের অনেক গুরুত্বপূর্ণ অর্জন আছে। যেমন: দেশের মানুষের গড় আয়ু ৭২ বছরের বেশি। দেশের ৮৫ শতাংশের বেশি শিশু ভিটামিন ‘এ’ পায়। মোট প্রজনন হার ২.৩ এবং জন্মনিয়ন্ত্রণপদ্ধতি ব্যবহারের হার ৬২%।

সুতরাং স্বাস্থ্যখাতে ব্যয় বাড়ানোর মাধ্যমে সেবার মূল্য কমানো ও মান বৃদ্ধি নিশ্চিতের পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তা নিতে হবে। এক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে পারলেই অল্পসময়ের মধ্যে কাঙ্খিত লক্ষ্যে র্পৌঁছে যাবে বাংলাদেশের চিকিৎসা ব্যবস্থা।

সংবাদটি শেয়ার করুন:

 


আরো সংবাদ














জনপ্রিয় বিষয় সমূহ:

দুর্যোগ অধ্যাপক সায়েন্টিস্ট রিভিউ সাক্ষাৎকার মানসিক স্বাস্থ্য মেধাবী নিউরন বিএসএমএমইউ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঢামেক গবেষণা ফার্মাসিউটিক্যালস স্বাস্থ্য অধিদপ্তর