ঢাকা      রবিবার ২৫, অগাস্ট ২০১৯ - ১০, ভাদ্র, ১৪২৬ - হিজরী



আহসান আহমেদ

শিক্ষার্থী, ঢাকা মেডিকেল কলেজ


ইন্টারেস্টিং সায়েন্স ফ্যাক্টস-২ 

হার্ট পেসমেকার আবিষ্কারকের কথা

উইলসন গ্রেটব্যাচ। এই ক্লিনিক্যাল ইনভেন্টর তার প্রথম জীবনে নৌবাহিনীতে এভিয়েশন চিফ রেডিওম্যান হিসেবে কাজ করতেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে তিনি মিত্র শক্তির পক্ষে যুদ্ধ করেছিলেন। নৌবাহিনী থেকে অবসরের পর তিনি একজন ডাক্তারের আন্ডারে ক্রোনিক ডিজিজ রিসার্চ সেন্টারে কাজ করছিলেন। এর আগে তিনি ইলেকট্রিক ইঞ্জিনিয়ারিং এ তার গ্রাজুয়েশান কমপ্লিট করেন।

হার্ট পেসমেকার তৈরির ঘটনা ছিল নিতান্তই কাকতালীয়।  উল্লেখিত ডাক্তারের জন্য গ্রেটব্যাচ সাহেব হার্টবিট আরো স্পষ্ট শোনার জন্য একটি যন্ত্র তৈরির চেষ্টা করছিলেন। একদিন ভুলবশত সার্কিটে কিছু এলোমেলো কানেকশন দিয়ে বসেন।  পরে হার্টবিট শুনতে গিয়ে দেখা গেল ওই যন্ত্র ছোট ছোট ইলেকট্রিক পালস তৈরি করছে যা হার্ট এর বিটিংকে কোনভাবে এফেক্ট করছিল।

তিনি বুঝে গেলেন হার্ট ইম্পালসকে যে কোন ভাবে হোক এর দ্বারা প্রভাবিত করা যাবে। ঘটনা কাকতালীয় হতে পারে। কিন্তু কাকতালে পাওয়া এই যুগান্তকারী আবিষ্কারকে ব্যবহার উপযোগী করতে যে পরিশ্রম তিনি করেছিলেন তা অবর্ণনীয়।

প্রথমদিকে এই পেসমেকার ছিল বড়সড় একটা টেলিভিশন এর সাইজের। যা হার্ট এর রোগীদের জন্য কোন স্থায়ী সমাধান ছিল না। কেননা এত বড় যন্ত্র বহন করা কারো পক্ষেই সম্ভব না। আর তাছাড়া স্কিন এর উপরে ব্যবহার করতে হতো বলে যথেষ্ট যন্ত্রণাদায়ক ছিল রোগীর জন্য। পরের দুই বছরের অক্লান্ত পরিশ্রমে এই বিশাল যন্ত্র রূপ নেয় হাতের তালুতে রাখতে পারা যায়, এমন ছোট্ট একটা যন্ত্রে।

প্রাথমিকভাবে ওই পেসমেকারগুলো হার্ট এর অভ্যন্তরে ইমপ্ল্যান্ট শুরু হলো। কিন্তু সমস্যা ছিল ব্যাটারি। প্রথমদিকে তো এক বছরও টিকতো না ব্যাটারিগুলো। বারবার ইন্টারভেনশন নিঃসন্দেহে ঝামেলার। তখন আসে ব্যাটারি মডিফিকেশান এর পালা। তিনি এক বিশেষ ধরনের লিথিয়াম ব্যাটারি তৈরি করেন যা ১০ বছর পর্যন্ত একনাগাড়ে কাজ করে যেতে পারে। আর এই ঘটনাই সারা পৃথিবীতে হার্ট পেসমেকার ব্যবহারের মোড় সম্পূর্ণরূপে ঘুরিয়ে দেয়।

বর্তমানে ব্যবহৃত পেসমেকারগুলোর ৯০ ভাগ এই তার প্রতিষ্ঠিত  উইলসন গ্রেটব্যাচ লিমিটেডের তৈরি লিথিয়াম ব্যাটারিগুলো ব্যবহৃত হয়। এই ব্যাটারি ডেভেলপ করতে গিয়েই সৃষ্টিকর্তার ওপর ভরসা রেখে তার চাকরি-বাকরি সব ছেড়ে দেন। বাড়ির ব্যাকইয়ার্ডে একটা কক্ষে শুরু করেন নিরন্তর গবেষণা। নিজ হাতে ৫০ টি পেসমেকার তৈরি করেন। যার ৪০ টিই সময়ের বাধা উতরে যায়।

সারা বিশ্বে মিলিয়ন মিলিয়ন মানুষ তাদের দুর্বল হৃদয় নিয়ে কিছু বছর বেশি বেঁচে আছে এই মহান ইনভেনশনের বদৌলতে।

সংবাদটি শেয়ার করুন:

 


আন্তর্জাতিক বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

ইরানে নতুন আট ওষুধের উদ্বোধন

ইরানে নতুন আট ওষুধের উদ্বোধন

মেডিভয়েস ডেস্ক: ইরান আটটি নতুন ওষুধ উদ্বোধন করেছে। রাজধানী তেহরানে মাদকাসক্তি নিরাময়…

নয়া দিল্লিতে হাসপাতালে আগুন

নয়া দিল্লিতে হাসপাতালে আগুন

মেডিভয়েস ডেস্ক: ভারতের রাজধানী নয়া দিল্লির একটি হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার…

আরো সংবাদ














জনপ্রিয় বিষয় সমূহ:

দুর্যোগ অধ্যাপক সায়েন্টিস্ট রিভিউ সাক্ষাৎকার মানসিক স্বাস্থ্য মেধাবী নিউরন বিএসএমএমইউ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঢামেক গবেষণা ফার্মাসিউটিক্যালস স্বাস্থ্য অধিদপ্তর