ঢাকা      মঙ্গলবার ২৫, জুন ২০১৯ - ১১, আষাঢ়, ১৪২৬ - হিজরী

জমজ শিশুর সিজার নিয়ে ডা. হোসনে আরার চিকিৎসাই সঠিক ছিল: বিএমডিসি

মেডিভয়েস রিপোর্ট: কুমিল্লায় জমজ শিশুর সিজার নিয়ে ডা. হোসনে আরার চিকিৎসাই সঠিক ছিল বলে সিদ্ধান্ত দিয়েছে বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (বিএমডিসি)। সোমবার বাংলাদেশ মেডিকেল এন্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের রেজিস্ট্রার স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এ তথ্য জানানো হয়।

মঙ্গলবার রাত ১০টার পর ভুক্তভোগী চিকিৎসক ডা. হোসনে আরা এ আদেশের কপিটি তার ফেসবুক টাইমলাইনে প্রকাশ করেন।

এতে ডা. হোসনে আরার উদ্দেশে বিএমডিসির পক্ষ থেকে বলা হয়, কুমিল্লায় প্রসূতির যমজবাচ্চার একটিকে পেটে রেখেই সিজার অপারেশন সম্পন্ন করার বিষয়ে আপনার চিকিৎসা পদ্ধতিতে ক্রটি ছিল না। রেফার করার সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল। তাই আপনাকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হইল।

কেন পেটে বাচ্চা রেখে সেলাই করা হয়েছিল?

এ বিষয়ে দেশের প্রখ্যাত ইনফার্টিলিটি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. রাশিদা বেগম গত ২০১৭ সালের ১৯ নভেম্বর মেডিভয়েসে ‘ডা. হোসনে আরা ও সিজারিয়ান প্রসঙ্গ’ শিরোনামে একটি মতামত লেখেন। এতে তিনি বলেন, টুইন ডায়াগনোসিস আমরা আল্ট্রাসনোগ্রাফীর ওপর নির্ভর করে করি। টুইনের বেলায় আলট্রাসনো নিশ্চিত করে এবডোমিনাল প্রেগন্যান্সি ডায়াগনোসিস করতে পারে না। তাতো এখানেই দেখা গেল।

এমনকি সিঙ্গল প্রেগন্যান্সির বেলাতেও বাইকরনুয়েড ইউটেরাসের একটি খালি এবং একটিতে প্রেগন্যান্সি ডায়াগনোসিস করে। তবে এবডোমেন এ ফ্রী ফ্লুইড এবং এবনরম্যাল প্লাসেন্টা এবং ইউটেরাস খালি দেখে ডায়াগনোসিস করা যেতে পারে।

টুইন বলেই হয়ত এটি ডায়াগনোসড ছিলনা যে হিটারোটপিক প্রেগন্যান্সি। এমতাবস্থায় যে কেউ স্বাভাবিক টুইন এর মতই সিজারের জন্য প্রস্তুত হবে। সে বাচ্চা কোনদিন পর্যন্ত বেঁচে ছিল বা তার বেঁচে থাকার মধ্যেই তাকে উদ্ধার করার জন্য ঠিক কোন সময়ে সিজার করতে হোত তা হোসনে আরা কেন, সেরা অবস্ট্রেট্রিসিয়ানের বাবার বাবাও পারত না। তাই ৩৭ সপ্তাহ পর্যন্ত বেঁচে ছিল এবং শেষতক তাকে বাঁচানো গেল না এমন ধারনা অযৌক্তিক। ডেলিভারির পরেও এদের মরটালিটি ৪০-৯৫ভাগ। সে ঝুঁকি আছে বলেই (ডা. হোসনে আরা) হাত দেয়নি। বরং হাত দিলেই ক্যাটাস্ট্রোপ হবার আশংকা ছিল।

এ বিষয়ে ঢাকা মেডিকেলের চিকিৎসক ডা. মাকসুদউল্লাহ তার ফেসবুক টাইমলাইনে বিস্তারিত জানিয়েছেন। তিনি বলেন, বাচ্চা ভেতরে রেখে সেলাই করাটাই সঠিক ছিল। যে বাচ্চা ভিতরে রেখে সেলাই করার কথা প্রচার হয়েছে, সেটা জরায়ুতে ছিল না। জরায়ুর বাইরে টিউমারের মতো দেখা যাচ্ছিল। উন্নত দেশের ডাক্তারেরাও তাই করতো।

আল্ট্রাসনগ্রাফিতে দুইটি বাচ্চার কথা উল্লেখ ছিল। কিন্তু একটা বাচ্চা জরায়ুর বাইরে , সেটা উল্লেখ ছিল না। সেটা হয়তো সেই সনগ্রাফারের পক্ষে বুঝা সম্ভব হয় নি। সাধারনত উপজেলা পর্যায়ে ডাক্তারদের মধ্যে যারা আল্ট্রাসনগ্রাফি করেন, তারা এতটা দক্ষ হওয়ার কথা না।

জরায়ুর দেয়াল কেটে দেখা গেল বাচ্চা একটা। জরায়ুর বাইরে অন্যত্র একটা টিউমারের মতো দেখা গেছিল। একটা উপজেলাতে এটা একটা জটিল এবং স্পর্শকাতর পরিস্থিতি, যা জরায়ুর দেয়াল কাটার আগে বুঝা সম্ভব ছিল না।

এটা যদি আগেই বুঝা যেত, তাহলে তিনি বা অন্য কোনো ডাক্তার ভুলেও একটি উপজেলাতে এ ধরনের অপারেশন করার সাহস করতেন না। শুরুতেই ঢাকা মেডিকেলে পাঠিয়ে দিতেন। একদিকে জরায়ুর দেয়াল কাটা হলো। তারপর আবার জরায়ুর বাইরে টিউমারের জায়গায় কাটতে গেলে কাটাকাটি বেশি হওয়ার কারনে রক্তপাত বেশি হয়ে মায়ের মৃত্যুর আশংকা বেশি ছিল। সেটা করতে গেলে তিনি বরং দোষী সাব্যস্ত হতে পারতেন। সেটা করতে গেলে অনেক জটিলতা সৃষ্টি হতে পারতো। মায়ের জীবন বাঁচানোর জন্যই ডাক্তার এমনটা করেছেন। সেজন্য ডাক্তার শেখ হোসনে আরা অভিনন্দন পাওয়ার যোগ্য। তাকে সাধুবাদ জানাই।

তাছাড়া একটি উপজেলা পর্যায়ে জরায়ুতে একটি অপারেশন করে আবার জরায়ুর বাইরে টিউমার সদৃশ অংশে অপারেশন করতে গেলে যেসব জটিলতা দেখা দিতে পারতো , সেগুলো সমাধানের সব ব্যবস্থা উপজেলাতে কখনোই পাওয়া যেত না। সে কারনে রোগীকে রেফার করা হয়েছিল। রোগী রেফারের গুরুত্ব দেয়নি। সময়মতো সে ঢাকা মেডিকেলে আসেনি। ফলে এক মাস পর দেখা যায় ভেতরে মৃত বাচ্চার অবস্থান।

ডাক্তারের রেফারেলকে গুরুত্ব দিয়ে রোগী যদি সেদিন বা তার পরের দিন ঢাকা মেডিকেলে চলে আসতো তাহলে আর এমনটা হতো না। এজন্য রোগী নিজেই দায়ী। আমাদের রোগীরা অনেকেই এমন করে। তারা ডাক্তারের উপদেশকে গুরুত্ব দিতে চায় না। তারা মনে করে , আমিতো ভালোই আছি। পরে জটিলতা সৃষ্টি হলে নিজের দায়কে ডাক্তারের ঘাড়ে চাপাতে চেষ্টা করে।

সংবাদটি শেয়ার করুন:

 


আরো সংবাদ















জনপ্রিয় বিষয় সমূহ:

দুর্যোগ অধ্যাপক সায়েন্টিস্ট রিভিউ সাক্ষাৎকার মানসিক স্বাস্থ্য মেধাবী নিউরন বিএসএমএমইউ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঢামেক গবেষণা ফার্মাসিউটিক্যালস স্বাস্থ্য অধিদপ্তর