ঢাকা      মঙ্গলবার ২৩, এপ্রিল ২০১৯ - ৯, বৈশাখ, ১৪২৬ - হিজরী



ডা. রুমি আহমেদ

সাবেক ছাত্র, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ;
যুক্তরাষ্ট্রে চিকিৎসক হিসেবে কর্মরত।


‘ওবায়দুল কাদেরের চিকিৎসা দেশেই সম্ভব’

ডা. রুমি আহমেদ দীর্ঘদিন যুক্তরাষ্ট্রে চিকিৎসক হিসেবে কর্মরত আছেন। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের সাবেক ছাত্র ডা. রুমি খুব কাছ থেকে দেখেছেন বাংলাদেশ এবং যুক্তরাষ্ট্রের চিকিৎসা ব্যবস্থাকে। লিখেছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ও সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের চিকিৎসা এবং চিকিৎসায় নিয়োজিত চিকিৎসকদের ভুমিকা নিয়ে। মেডিভয়েসের পাঠকদের জন্যে লেখাটি তুলে ধরা হলো:

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ও সড়ক পরিবহন মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের চিকিৎসা নিয়ে কিছু বলি। এই লিখার জন্য যা তথ্য পেয়েছি, তার পুরোটাই পাবলিক রেকর্ড থেকে নেয়া - মূলত তার চিকিৎসকদের প্রেসকনফারেন্স এর মাধ্যমে জানা। 

বিএসএমএমইউর ভিসির বক্তব্য অনুযায়ী অসুস্থতার কোনো এক পর্যায়ে বিএসএমএমইউতে ওবায়দুল কাদের সাহেবের সম্ভবত কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হয় এবং সিপিআর (চেস্ট মেসেজ) দেয়া হয়। আমাদের সংবাদিকরা সম্ভবত ব্যাপারটার গুরুত্ব বোঝেননি এবং কোন ফলোআপ প্রশ্ন করেননি।

বড় প্রশ্ন হচ্ছে, কতক্ষণ সিপিআর (চেস্ট মেসেজ) দেয়া হয়েছিল! সিপিআর (চেস্ট মেসেজ) এর ডিউরেশনের উপর নির্ভর করবে ব্রেইনে রক্ত চলাচল কতক্ষণ ইনএডেকুএট ছিল। ডাক্তাররা বলছেন, উনি চোখ খুলছেন।  কিন্তু এখনো বোঝা যাচ্ছে না উনি কতটা পারপাসফুলভাবে রিঅ্যাক্ট করছেন। কার্ডিওলোজিস্টরা ওনার হার্ট ভালো করে দিতে পারবেন, কিন্তু এই ব্রেইন ড্যামেজ হলো কিনা, তার উপর কাদের সাহেবের রাজনৈতিক ভবিষ্যত নির্ভর করবে। আশার কথা উনি চোখ খুলছেন, কিন্তু এটা পারপাসফুল কিনা বোঝা যাবে শীঘ্রই, হয়তো আজই।

বিএসএমএমইউ'র ইন্টারভেনশনাল কার্ডিওলজি যেভাবে কাদের সাহেবের চিকিৎসা হ্যান্ডেল করেছে তা কমেন্ডেবল। প্রচণ্ড রাজনৈতিক প্রেসারের মুখে রোগীকে রাস্তার ওপারে ইব্রাহিম কার্ডিয়াক অথবা ইউনাইটেড বা ল্যাবএইডে না পাঠিয়ে, মূলত রোগীর অবস্থা বিবেচনায় নিজেরাই এনজিও সুইটে নিয়ে গিয়ে পিসিআই করেছে এবং চিকিৎসার দায়িত্ব নিয়েছে। এখনও চমৎকারভাবে তারা তাদের কাজ করে যাচ্ছে। এখনও বেলুন পাম্প দিয়ে করোনারি ব্লাড ফ্লো মেইন্টেন করা হচ্ছে।

ভেন্টিলেটরে রাখা আছে। আজ প্রেস কনফারেন্সে তাদের কনফিডেন্সটা দেখার মতো ছিল। হয়তোবা একটু স্থিতিশীল হলে উনি সিঙ্গাপুর যাবেন। কিন্তু কাদের সাহেবের যা সমস্যা তার পরিপূর্ণ চিকিৎসা বাংলাদেশে হয় এবং খুব ভালোভাবেই হয়।

বাংলাদেশে রাজনীতিবিদরা খাওয়া-দাওয়া থেকে শুরু ঘুম পর্যন্ত প্রায় সব ক্ষেত্রে অপরিকল্পিত জীবন যাপন করেন, এক্সারসাইজ করেন না। অনেকে ধূমপান করেন এবং অনেকেরই আনট্রিটেড স্লিপ এপনিয়া (নাক ডাকার রোগ) আছে। এসব মিলিয়ে ওনারা একেবারে হার্ট এটাকের টাইম বোমা।

প্রেস কনফারেন্স থেকে যা জেনেছি, কাদের সাহেবের RCA ১০০% ব্লক ছিল। LAD ৯৯ % এবং সম্ভবত LCX ৮০ % ব্লক ছিল। ডাক্তাররা সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েই LAD স্টেন্ট করেছেন। বুদ্ধি করেই টোটালি অক্লুডেড RCA এ তে যাননি। এখন রিপারফিউশন ইনজুরি মাথায় রেখে কেয়ারফুলি আগাচ্ছেন।

বাংলাদেশে মেডিকেল সায়েন্সের যেই ফিল্ডগুলো সবচেয়ে এগিয়ে গেছে এবং স্থান-কাল-পাত্র বিবেচনায় আন্তর্জাতিক মানের চিকিৎসা দিয়ে যাচ্ছে, সেগুলার মধ্যে কার্ডিওলজি ও পেডিয়াট্রিক্স অন্যতম। বাংলাদেশের চিকিৎসকদের সামর্থ্যে দেশের মানুষের কোন সন্দেহ থাকলে তাদের বলবো, কাদের সাহেবকে চিকিৎসা প্রদানকারী কার্ডিওলজি টিমের দিক তাকান। দেখবেন স্কিল আর কনফিডেন্সের অপূর্ব সম্মিলন।

সংবাদটি শেয়ার করুন:

 


সম্পাদকীয় বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

হিমোফিলিয়ার চিকিৎসায় সরকারি উদ্যোগ জরুরি

হিমোফিলিয়ার চিকিৎসায় সরকারি উদ্যোগ জরুরি

রাত ১১টা। মোবাইলে অপরিচিত নম্বর থেকে কল আসে। ভয়-সংশয়ে ফোন ধরতেই ওপাশ…



জনপ্রিয় বিষয় সমূহ:

দুর্যোগ অধ্যাপক সায়েন্টিস্ট রিভিউ সাক্ষাৎকার মানসিক স্বাস্থ্য মেধাবী নিউরন বিএসএমএমইউ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঢামেক গবেষণা ফার্মাসিউটিক্যালস স্বাস্থ্য অধিদপ্তর