ঢাকা      মঙ্গলবার ২১, মে ২০১৯ - ৬, জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৬ - হিজরী

বিশেষ সাক্ষাৎকার

ভর্তি পরীক্ষায় ২য় আইরিনের আশৈশব স্বপ্ন ছিল চিকিৎসক হওয়ার

এ বছর মেডিকেল ভর্তি (এমবিবিএস প্রথম বর্ষ) পরীক্ষায় দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছেন উম্মে শেফা আইরিন। ভর্তি পরীক্ষায় তার টেস্ট স্কোর ৮৫.৭৫। তার বাবার নাম শাহ মোহাম্মদ ইদ্রিস ও মা নূর নাহার বেগম। তিনি চট্টগ্রাম গভর্নমেন্ট গার্লস হাইস্কুল থেকে এসএসসি ও চট্টগ্রাম কলেজ থেকে জিপিএ ৫ পেয়ে এইচএসসি পাস করেন।

সাফল্যের অনুভূতি:

মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় জাতীয় মেধায় দ্বিতীয় হওয়ার পর অনুভূতির বিষয়ে জানতে চাইলে উম্মে শিফা আইরিন বলেন, এক কথায় বলবো, অসাধারণ।!যখন এই সংবাদটা শুনি, তখন আমার মনে হয়েছিল, আমি বুঝি পৃথিবীর সবচাইতে বড় সম্পত্তিটা পেয়ে গেছি। আমার মনে হয়, পাওয়ার আর কিছু নেই।

ভর্তি পরীক্ষার আগে আত্মবিশ্বাস:

ভর্তি পরীক্ষার আগেই উম্মে শিফার আত্মবিশ্বাস ছিল তিনি মেডিকেলে অবশ্যই চান্স পাবেন। কিন্তু এত বড় সাফল্য যে তার হাতে ধরা দেবে তা তিনি কল্পনাও করতে পারেননি। এ বিষয়ে উম্মে শিফা বলেন, ‘জানতাম চান্স পাবো। কিন্তু কোথায় পাবে সেটা নিয়ে কোন প্রেডিকশন ছিল না। তবে সেকেন্ড হয়ে যাবো, সেটা কখনোই ভাবিনি।’

চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন:

এই পেশাটাকে আমার ছোটবেলা থেকে ভালো লাগে। কেন ভালো লাগে, বলতে পারবো না। হয়তো মানুষের হাসিমুখ দেখতে ভালো লাগে তাই, হয়তো কারো দুঃখের দিনে তার পাশে দাঁড়াতে ভালোবাসি তাই। তবে আমার আব্বু-আম্মুর একটা স্বপ্ন ছিলো, তাদের মেয়ে ডাক্তার হোক। আমি শুধু চেয়েছি, আব্বু-আম্মুর স্বপ্নটা যেন পূরণ করতে পারি।

ভবিষ্যতে যা হতে চান:

ভবিষ্যতে কী হতে চান এমন প্রশ্নের জবাবে উম্মে শিফা আইরিন বলেন, এখনো ঠিক করিনি। তবে ইচ্ছে আছে কার্ডিওলজি বা নিউরোলজি নিয়ে পড়াশোনা করার।

মেডিকেলে ভর্তিচ্ছুদের জন্য পরামর্শ:

আগামীতে যারা মেডিকেল ভর্তি হতে চান তাদের প্রতি ঢাকা মেডিকেল কলেজের নবীন ছাত্রী উম্মে শেফা আইরিন বলেন, আপাতত এইচএসসি পরীক্ষাটা ভালো করার জন্য যা কিছু করার সবকিছু করতে হবে। কারণ, এইচএসসি পরীক্ষায় এ প্লাসটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

এ বিষয়ে উদাহরণ টেনে উম্মে শেফা আইরিন বলেন, আমার একটা ফ্রেন্ড ছিল। আমার ব্যাচেই ছিল। প্রথম দিকে সে খুবই ভালো করতো। কখনও সে ফার্স্ট হতো আর কখনও আমি ফার্স্ট হতাম। আমাদের দুই জনের মধ্যেই ফার্স্ট-সেকেন্ড হতাম। আমাদের দুইজনের মধ্যে খুবই কম্পিটিশন ছিল। পরে রেজাল্টে দেখা গেল ওর ৪.৫৯ আসলো। অর্থাৎ, তার ২১ নাম্বারের মতো কাটা গেছে। তবে গোল্ডেন পাওয়া ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের জন্য দরকার আছে। কিন্তু মেডিকেলের জন্য অতটা দরকার নেই।
পাঠ্যবই সম্পর্কে ভালো ধারণা রাখা: আর এইচএসসি বইটা সম্পর্কে ভালো আইডিয়া থাকলে পরে তেমন একটা সমস্যা হবে না। আমার সবচেয়ে বড় সুবিধা ছিল যে, আমার ৬টা বই সম্পর্কে ভালো আইডিয়া ছিল। আমি কোশ্চেন দেখেই বলতে পারতাম এটা ওই পেজ থেকে এসেছে, ওই প্যারা থেকে এসেছে। বই সম্পর্কে আমার খুব ভালো ধারণা ছিল।
তবে আমার টেনশন ছিল-ইংরেজি ও জিকে (সাধারণ জ্ঞান) নিয়ে। কিন্তু প্রশ্ন নিয়ে নিজের কাছেই অবাক হচ্ছিলাম, এতকিছু পারছি কেমন করে?

যা কিছু প্রিয়:

প্রিয় খাবার: আইসক্রিম
প্রিয় বই: ফেলুদা সমগ্র
প্রিয় লেখক: হুমায়ুন আহমেদ
প্রিয় রঙ: নীল
মুহূর্ত: পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো
প্রিয় খেলা: ফুটবল
প্রিয় দল: ব্রাজিল
খেলোয়াড়: নেইমার
অবসরে যা করেন: ঘুমাই

(সাক্ষাৎকারটি মেডিভয়েসের জানুয়ারি ২০১৯ প্রিন্ট সংখ্যায় প্রকাশিত)

সংবাদটি শেয়ার করুন:

 


আরো সংবাদ














জনপ্রিয় বিষয় সমূহ:

দুর্যোগ অধ্যাপক সায়েন্টিস্ট রিভিউ সাক্ষাৎকার মানসিক স্বাস্থ্য মেধাবী নিউরন বিএসএমএমইউ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঢামেক গবেষণা ফার্মাসিউটিক্যালস স্বাস্থ্য অধিদপ্তর