ঢাকা      মঙ্গলবার ২৩, এপ্রিল ২০১৯ - ৯, বৈশাখ, ১৪২৬ - হিজরী



ডা. মাহফুজুর রহমান রাজ

ডেন্টাল সার্জন

রাজশহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে


গ্রামীণ জনপদে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের পদায়ন করুন

সড়ক দুর্ঘটনায় নিজের কলার বোন ভেঙে যাওয়ার পরও অসুস্থ চিকিৎসক ছুটি না নিয়ে রোগীদের সেবা করছেন। ছবি: সংগৃহীত

একটি সংবাদ যখন আমাদের আনন্দ দেয় একই সাথে দুঃখও দেয়। বীরগঞ্জ বাংলাদেশের একটি প্রত্যন্ত উপজেলা। দিনাজপুর জেলার বীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিয়ে দীর্ঘদিন আগে একটা লেখা লিখেছিলাম। হেডলাইন ছিল রূপকথার বীরগঞ্জ। এরপর দীর্ঘ সময় গড়িয়েছে গত বছর বীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স জাতীয় পুরস্কার পেয়েছে তাদের দীর্ঘ সময় কষ্ট করে।

কয়েকদিন ধরেই একটি সংবাদ বিভিন্ন মাধ্যমে আসছে যে দুইজন চিকিৎসক যারা এখন ছুটিতে থাকার কথা। কারণ তাঁদের একজন অন্তঃসত্ত্বা যিনি মাতৃত্বকালীন ছুটি ভোগের কথা , অন্যজন কয়েকদিন আগে সড়ক দুর্ঘটনায় যার কলার বোন ভেঙে গেছে। এই দুই চিকিৎসক কোন প্রকার ছুটি না নিয়ে নিরলসভাবে ২৪ ঘন্টা বীরগঞ্জ উপজেলার গ্রামীণ জনপদের মানুষকে চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাচ্ছেন।

এটা অত্যন্ত আনন্দের সংবাদ যে, এদেশের চিকিৎসকরাও সংবেদনশীল মানুষের দুঃখ-কষ্ট মাথায় রেখে নিজেদের প্রাপ্য ছুটি ভোগ না করে চিকিৎসা সেবাকে চালু রেখেছেন।

একই সংবাদের কষ্টের দিক যেটা সেটা হচ্ছে সেখানে চিকিৎসকের পদ আছে ৩০টি। অর্থাৎ সেখানে ৩০ জন চিকিৎসক থাকার কথা। কিন্তু সেখানে আছেন তিনজন যাদের কথা বললাম তারা দুইজনসহ সেখানকার উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা। 

আমরা বাঙালি আমরা নাকি ইউরোপিয়ান কালচার বুঝি না। আমরা যদি কারোর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি সেটার সমালোচনা হয়। আফসোস আমাদের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ সেখানে নতুন কোনো চিকিৎসকদের পদায়ন না করে কিংবা তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ না করে একটি বেসরকারি হাসপাতাল নিয়ে বেশি উৎসাহী। জনসাধারণের সমালোচনা তো এজন্যই হয়।

আমাদের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ যদি গ্রামীণ জনপদের মানুষকে নিয়ে না ভাবেন তাহলে এভাবেই দুজন অসুস্থ চিকিৎসককে দিয়ে একটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চালাতে হয়।

শহরে মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল গুলোর একটি পদের বিপরীতে একাধিক চিকিৎসককে পদায়ন করা হয়েছে কিন্তু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলো যখন চিকিৎসক সংকট নিয়ে ধুঁকছে , তখন আমরা প্রত্যাশা করতে পারি যে আমাদের উর্ধতন কর্তৃপক্ষ দ্রুতই একটা ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা করবেন।

এই বীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সারা দেশে নজিরবিহীনভাবে নরমাল ডেলিভারির কার্যক্রমকে চালিয়ে গেছে। বীরগঞ্জের গ্রামীণ জনপদের অবহেলিত নারীদের সেবা প্রদানের জন্য সেই সময় তারা একজন গাইনি বিশেষজ্ঞ ও সার্জন চেয়েছিলেন। কিন্তু সেখানে এমন বিশেষজ্ঞ কাউকে দেওয়া হয়নি। 

আমরা চাই যে, উপজেলাগুলি প্রাণান্তকর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে গ্রামীণ জনপদের মানুষকে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার জন্য, সেখানে চিকিৎসকদের কীভাবে পদায়ন করা যায় কীভাবে তাদেরকে সেখানে রাখা যায় এটি নিয়ে আমাদের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ভাববেন। তাদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানাবেন কারণ প্রত্যন্ত অঞ্চলে তারা কিভাবে চিকিৎসাসেবা চালিয়ে যান ঢাকা শহরে বসে তা বুঝা বড়ই দুষ্কর।

সংবাদটি শেয়ার করুন:

 


সম্পাদকীয় বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

হিমোফিলিয়ার চিকিৎসায় সরকারি উদ্যোগ জরুরি

হিমোফিলিয়ার চিকিৎসায় সরকারি উদ্যোগ জরুরি

রাত ১১টা। মোবাইলে অপরিচিত নম্বর থেকে কল আসে। ভয়-সংশয়ে ফোন ধরতেই ওপাশ…



জনপ্রিয় বিষয় সমূহ:

দুর্যোগ অধ্যাপক সায়েন্টিস্ট রিভিউ সাক্ষাৎকার মানসিক স্বাস্থ্য মেধাবী নিউরন বিএসএমএমইউ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঢামেক গবেষণা ফার্মাসিউটিক্যালস স্বাস্থ্য অধিদপ্তর