শিবলী মাহমুদ

শিবলী মাহমুদ

শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ


১৬ অগাস্ট, ২০১৬ ০১:২৫ পিএম
সময় কথন

স্বপ্নতরীর পাল তুলেছি তীর কত দূরে, বলো

স্বপ্নতরীর পাল তুলেছি তীর কত দূরে, বলো

১.
মোবারক সাহেব অস্থির হয়ে ছুটোছুটি করছেন।
এ পাশ থেকে ওপাশ। হাসপাতালের করিডোরের এই সংকীর্ণ পরিসর তার প্রায় মুখস্ত হয়ে গেছে।
এক পাশ থেকে মাঝারী মাত্রায় বিশ থেকে বাইশ পা ফেললেই ওপাশে পৌছে যাচ্ছেন তিনি। তার স্ত্রীকে অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে যাওয়া হয়েছে প্রায় সোয়া এক ঘণ্টা। এই সময়টাতে চিন্তিত একজন মানুষের পা গুনে গুনে ফেলার কথা নয়, কিন্তু তিনি করছেন। নিজের কাজে তিনি নিজেই অবাক হচ্ছেন। কিন্তু তার চেয়েও বেশী রাগ হচ্ছে কপালের উপর। এইটুকু সময়ের মধ্যে দু’বার কারেন্ট গেছে এবং তিনি জানেন, এই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একমাত্র জেনারেটরটা বহুদিন ধরে নষ্ট হয়ে পড়ে আছে।


মোবারক সাহেব জানেন না, দরজার ওপাশে কি হচ্ছে।  দরজার কাচ যদি স্বচ্ছ হতো, তিনি আবছা চোখে হয়তো দেখতেন, ঘেমে থাকা একজন সার্জন, পাশের নোংরা কাপড় পরা ওটি বয়ের ধরে রাখা মোমবাতির টিমটিমে আলোয় অপারেশন শেষ করতে হিমশিম খাচ্ছেন। তিরতির করে কাঁপতে থাকা আলোর শিখা কাঁপিয়ে দিচ্ছে সার্জনের চোখ। শেষ সেলাইটা দিতে হয়তো তার হাতটা অল্প একটু কেঁপেছে। পাশেই হয়তো অজ্ঞান হয়ে আছে সার্জনের আজকের পেশেন্ট, তার স্ত্রী।
এমন অজস্র মানুষের অস্ত্রোপচার প্রতিদিন হয়ে যায়, মোমের আলোয়। কিছু মানুষ সেরে ওঠে, কিছু মানুষ বয়ে চলে পরবর্তী যন্ত্রণা। গরু অথবা জমি বেচা টাকার শ্রাদ্ধ্য হয় প্রতিদিন। তার পরের কদিনের চলবার অনিশ্চয়তা নিয়ে। বড্ড বেহিসাবি হয়ে।
মোবারক সাহেব তাদেরই একজন, যাদের জীবন অপারেশন থিয়েটারের ঐ বাতির মতো, আলগোছে যার চারপাশে হাত ছড়িয়ে না রাখলে নিভে যায় কষ্টের কোন না বলা ঝড়ে।
২. প্রফেসর আব্দুল হামিদ মেডিসিনের একজন বিখ্যাত ডাক্তার। প্রায় কিংবদন্তী পর্যায়ের একজন। নচিকেতার পরিচিত সেই গানটার মত তারও 'এ টু জেড' ডিগ্রি রয়েছে। সারা জীবনভর তিনি ডিগ্রির পেছনে দৌঁড়েছেন। তার খুব ভালো করেই জানা আছে, পাবলিক 'ডিগ্রি' ছাড়া আর কিছু বোঝে না। আজকের যুগে প্রাকটিসের চাইতে বেশী জরুরি হচ্ছে, ডিগ্রির এক বিশাল বহর।
"গাদাখানেক টাইটেল নেই, তাহলে ব্যাটা কিসের ডাক্তার হইছে?" "উনি তো এ্যাসোসিয়েট প্রফেসর, এখনো প্রফেসর হননি, উনার কাছে যাওয়া লাগবে না। তারচে চল, অন্য ডাক্তারের কাছে যাই" এসব হচ্ছে জনসাধারণের চিন্তাভাবনা। হামিদ সাহেব তাদের এ ধরণের সব চাওয়াই পূর্ণ করেন বলে তার কাছে রোগীরা ভিড় করে থাকে।
আজকে সন্ধ্যায় তিনি চেম্বারে আসতে দেরী করে ফেলেছেন। মাথা ঝিমঝিম করছে তার। সকাল বিকাল রাত চেম্বার করে তিনি কান্ত। একটু ছুটি প্রয়োজন বোধহয় তার। কিন্তু 'শেষ ছুটি'র আগে তিনি বোধহয় আর ছুটি নেবেন না। এই শহরে অসংখ্য মানুষ, অসংখ্য ডাক্তার। সব ডাক্তার রোগী পায় না, তিনি পান। এত কষ্টে অর্জিত সম্মান তিনি ছেড়ে দিতে পারেন না। তিনি বেল বাজিয়ে পরবর্তী রোগীকে আসবার জন্য বললেন।
পোষাকে-আশাকে এই রোগীকে একটু গরীব মনে হলো। এদের আসলে মানসিক সমস্যাটাই বেশি হয়।
কিছুতেই খুতখুতে ভাব যায় না। হামিদ সাহেব শুনলেন, রোগীর সমস্যা অনেক দিন ধরে খুশখুশে কাশি। মাঝে মাঝে বুকে বেশ ব্যথাও হয়। আপাতত মাথাব্যথাটাও বেশ ভোগাচ্ছে।
হামিদ সাহেব কলমের খোচায় বেশ কটা টেস্ট লিখে ফেললেন, সি.বি.সি, চেস্ট এক্সরে.. সেরাম ইলেকট্রোলাইটস,. সিটি স্ক্যান.. সেরাম ক্রিয়েটিনিন.. টোটাল প্রোটিন.. ফাস্টিং ব্লাাড সুগার টেস্ট.... সাথে কিছু পথ্য। যাবার সময় কম্পাউন্ডার বলে দিলো, রাস্তার ওপাশের একটা ডায়াগনস্টিক সেন্টারের নাম। ভালো টেস্ট করে। রোগী কথামত অবশ্যই যাবে। তাকে টেস্টের কাগজপত্রগুলো একটা খামে ঢুকিয়ে দিয়ে দেওয়া হবে। খামের ওপরে বড় অক্ষরে লেখা থাকবে..
Referred by: Prof. Abdul Hamid
সবটুকু পড়ে শেষ করবার আগেই রোগীর চোখদুটো একটু জ্বালা করে উঠলে, খুব একটা দোষ হওয়ার কথা না, বোধহয়।
৩.
মানিক একটা বেকারীতে চাকরি করে।
সংক্ষেপে, আটা পাড়িয়ে মন্ড বানানোর কাজ। সাথে টুকটাক প্যাকেজিং, মার্কেটিং। কিছুদিন ধরে তার কিছু ভাল লাগছে না। ঘুমঘুম আসে শুধু। পরিচিত একজন তাকে বলেছে, শহরের মোড়ে একজন ডাক্তার বসে। খুব ভালো ওষুধ দেয়। ডিগ্রীও অনেক। রাস্তার মোড়ে মানিক যখন দাড়িয়েছে,তখন সকাল নয়টা।
উজ্জ্বল আলোয় মানিক দেখলো সাইনবোর্ডে লেখা
"ডা: হাফিজুর রহমান
এম.বি (ঢাকা), বি.এস (রাজশাহী) ইন সার্জারি
বি.সি.ডি (লন্ডন) ইন মেডিসিন
ই.এফ.জি (কুষ্টিয়া)
সুদীর্ঘ ২০ বছরের অভিজ্ঞতায় স্ত্রী পুরুষের নুতন-পূরাতন সব ধরণের জটিল কঠিন সমস্যার সমাধান দেওয়া হয়।"
মানিক কিছুতেই ঠাহর করে পারে না, তার রোগ এত জটিল কিছু কি না? এতবড় ডাক্তার না দেখালেও তার চলতো। তবু সে ঢোকে। ডাক্তার সাহেবের চেম্বারে তখন ভিড় ভীষণ। অনেক অপেক্ষার পর মানিকের সিরিয়াল যখন আসলো, মানিক ঘেমে প্রায় ভিজে গেছে ততক্ষণে। মানিক ঢুকলো।
ডাক্তার জিজ্ঞেস করলেন, "কি সমস্যা?"
মানিক ভয়ে ভয়ে উত্তর দিলো, "ছার! ঘুম ঘুম আসে শুধু। কিছু ভাল্লাগেনা। গার মদ্যি সব সময় ম্যাজ ম্যাজ করে।"
"বেডে শুয়ে পড়ো।"
বুঝতে পারে না মানিক। "কি?" 
পেছনে ইঙ্গিত করে ডাক্তার আবার বললেন,"বলছি শুয়ে পড়।"
বিছানায় শুয়ে পড়লো মানিক।
ডাক্তার বললেন,একটা স্টেরয়েড ইন্জেকশন দিয়ে দিচ্ছি, ঠিক হয়ে যাবে।
সুচটা ফোটাতে ফোটাতে ডাক্তার জিজ্ঞাসা করলেন, "আর কোন সমস্যা?"
একটু চুপ করে সূচ ফোটানোর ব্যাথাটা সহ্য করে মানিক বললো, "তলপেটে একটু ব্যথা ব্যথা লাগে মাঝেমাঝে। কোন পাশে?"
একটু ঠাহর করে মানিক বললো,"ছার! বামপাশে।"
চোখ বড়বড় হয়ে গেল ডাক্তারের।
"হ্যাঁ? বামপাশে? (!) তাইলে তো এ্যাপেন্ডিসাইটিস হইছে। অপারেশন লাগবে।"
কাদো কাদো চোখে মানিক বললো,"ছার! না করলে অয় না? আমি গরীব মানুষ। ছাইরা দেন।"
ডাক্তার তার চোখ আরো বড় করে বললেন, "মিয়া! বুঝো কিছু? বাচবাই তো না শেষে। আমার দুর্নাম হবে।"
চুপ করে থাকে মানিক।
ডাক্তার একটু সদয় হন এবার। ঘচঘচ করে কিছু একটা লিখে দিলেন তিনি। মানিককে বলেন, "শোন্! বি ফিফটি ফোর্ট দিছি। দশদিন খাবি। ব্যথা যদি না কমে, তাইলে আর উপায় নাই, এক্কেরে ঘ্যাচাং।"
মানিক ঢুলতে ঢুলতে হেটে বাইরে আসে। তার ঘুম ঘুম পায়। গা আরো ম্যাজ ম্যাজ করতে থাকে।

চিত্রগুলো স্বাভাবিক, মানুষগুলো কাল্পনিক।
হচ্ছে আশেপাশেই, খুব কাছেই। মোমবাতি নিয়ে সার্জারির ঘটনা ঘটতে পারে, সেটা সার্জনের দোষ নয়। সে দোষ আমাদের সিস্টেমের। আবার,ডাক্তার সাহেবরা যখন টাকা আয়ের প্রতিযোগিতায় নামেন, ডাক্তারিকে তখন আর 'পেশা' বলা চলে না, 'নেশা' হয়ে যায় সেটা। মনুষ্যত্ব লুটোপুটি খায় বুটের নিচে, অথবা,টাকা গোনা হাতের ময়লায়।
গুটিকয়েকের জন্য পুরো পেশা কলঙ্কিত হতে পারে না, আমরা হতে দেব না। রেফারেল সিস্টেম চালু করতে হবে। সবাই প্রফেসরের কাছে দৌড়ালে প্রত্যেক রোগীর বরাদ্দ সময় কমে আসবে এটাই স্বাভাবিক, আর, তাহলে জেনারেল প্রাকটিশনারদের কাজই বা কি থাকবে??


'হাফিজুর রহমান'দের মত হাতুড়ে ডাক্তার ছিলেন, আছেন, থাকবেন। প্রান্তিক পর্যায়ে সাধারণ রোগীদের এরাই চিকিৎসা দেন। এদেরকে কেউ উঠিয়ে দিতে পারবে না, সেটা সম্ভবও নয়। তারচে যদি এদের একটা লিস্ট করে, লিস্ট ধরে ধরে এক অথবা দুই বছরের বাধ্যতামূলক ট্রেনিংয়ের আওতায় আনা যায়, তাহলে বোধহয় ''স্টেরয়েড মারা চিকিৎসা ব্যবস্থার" কিছুটা হলেও উন্নতি হবে।
এইদেশে অনেক যন্ত্রপাতি থাকে না,নষ্ট হয়ে গেলে নতুন জিনিস আসে না। এইদেশে স্বাস্থ্যব্যবস্থার মূল চাবিকাঠি কুক্ষিগত অল্প কিছু মানুষের হাতে। স্বাস্থ্য সেবা মানে মানুষকে মোটাতাজা করা নয়; সুস্থ্য রাখা, চিকিৎসা দেওয়া। ডাক্তারদের, প্রমোশন পাবার লোভে পলিটিক্যাল প্রাকটিস, খুব আশা করার মত কিছু নয়।
তরুণ ডাক্তারদের মধ্যে এখন হতাশা প্রচুর। নরমাল গ্রাজুয়শেনের চাইতে বেশি সময় নিয়ে পড়েও তারা যথাসময়ে পরিবারকে সাপোর্ট দিতে পারছে না। আর, যথাযথ ব্যবস্থা না থাকায়, পড়াশুনার পাশাপাশি বিভিন্ন হাসপাতালে চুক্তিভিত্তিক কাজে অংশ নিতে বাধ্য হচ্ছে।
সরকারি চাকরির দুরাবস্থার কথা ভেবে আজ অনেকেই পিছিয়ে যাচ্ছে। বিসিএস দেবার সময় বোথ ক্যাডারে দিচ্ছে, সুযোগ থাকলে প্রশাসনে চলে যাচ্ছে।
এই হতাশার শেষ কোথায়?
গবেষণার দিক দিয়ে সারা বিশ্ব থেকে পিছিয়ে যাচ্ছে আজকের প্রজন্মের ডাক্তারেরা। উন্নত দেশগুলোতে প্রত্যেকটি বিষয় এর অনেকগুলো শাখা হয়ে গিয়েছে, এবং সেগুলোতে বিশেষজ্ঞও তৈরি হচ্ছে। আমাদের দেশে সেটা হয় না। ফলে একজন ডাক্তারকেই সব দেখতে হয়, রোগীরা প্রকৃত অর্থে যথাযথ সেবা পাচ্ছে না। 
ক্লিনিক্যাল সাইডে প্রচুর মানুষ ঝুঁকছে,কিন্তু বেসিক সাইন্সে সেটা একেবারেই কম।আবার,ক্লিনিক্যাল সাইডে অভিজ্ঞ অনেক ডাক্তার থাকার কারনে নতুন ডাক্তারেরা প্রাকটিসের সুযোগ পাচ্ছে কম, তৈরী হচ্ছে হতাশা।
রাজনৈতিক লেজুড়বৃত্তির জন্য মেধাবীরা পারছে না উপরে উঠে আসতে। তবু স্বপ্ন দেখি আমরা।


এই দেশ, এই মাটি নিয়ে। আমাদের দেশের বিভিন্ন প্রাইভেট হাসপাতালগুলোতে এখন প্লাজমা এক্সচেঞ্জ এর মত জটিল বিষয়গুলো করা শুরু হয়েছে। মস্তিষ্কের জটিল থেকে জটিলতর পরীক্ষাগুলো এখন এদেশেই হচ্ছে। Neurology ছাড়াও Orthopedics এ এখন অনেক এগিয়ে গিয়েছে দেশ। এখন দেশেই Joint Replacement Surgery, Spinal stabilization হচ্ছে।
Pituitary tumor চিকিৎসার ক্ষেত্রে Endoscopic surgery নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছে। এক্ষেত্রে ব্রেনের কম ক্ষতি হয় বলে,এটা এখন বহুলভাবে ব্যবহূত হচ্ছে। বেশ কয়েক বছর ধরে Cruzon's disease এর চিকিৎসার জন্য Pediatric Neurosurgery' প্রচলন শুরু হয়েছে। Vascular Neurosurgery ও আমাদের দেশে হচ্ছে।
এছাড়া Neuronavigation, Awake Craniotomy'  জন্য বহুদিন ধরে প্রচেষ্টা চলছে।

গায়ের একজন মানুষ। সন্ধ্যা হলে সে হয়তো  প্রতিদিনই একটা নির্দিষ্ট চা'য়ের দোকানে এসে বসে থাকে, গল্প করে। সময় কাটায়। কিন্তু, ভেবে দেখেছেন, কেন? দোকানটা সাজানো গোছানো বলে? ঐ দোকানে এসি লাগানো আছে তাই? না, সেটা মোটেও গুরুত্বপূর্ণ নয় তার কাছে। বরং দোকানদার তার সাথে ভালো ব্যবহার করে, এখানে এসে সে দুটো মনের কথা বলতে পারে, এটাই তার কাছে বড়।
চায়ের দোকানের সাথে হয়তো চিকিৎসা খাতের উদাহরণ চলে না, তবু বলি, আমরা যদি পারি, চিকিৎসা সেবা উন্নত করতে, যদি পারি পেশেন্টের যথার্থ যতœ নিতে, কেন মানুষ বিদেশে যাবে? কেন ষোল কোটি মানব সম্পদের এই দেশ থেকে সহায় সম্বল বিক্রি করে চিকিৎসার জন্য মানুষের বোম্বে যাওয়া লাগবে??
একটু ধৈর্য্য ধরুন। আমাদের অনেক কিছুই নেই, আর, আপনি জানেন, সেই শূণ্যতা পূর্ণ হতেও এখনো ঢের বাকি।
তাই বলে আপনি হতাশ হয়ে পড়বেন?
আপনি থেমে যাবেন? ভেঙে পড়বেন?
আপনার অর্জিত জ্ঞানে এদেশের একজন গরীব রিকশাওয়ালার অধিকার রয়েছে, একজন মুটে-দিন মজুরের অধিকার রয়েছে। অধিকার রয়েছে প্রখর রৌদ্রে ইট ভাঙা মায়ের পাশে বসে ঘ্যানঘ্যান করা ছ বছরের করিমের।
কান পেতে শুনুন।
অনুভবের দরজা খুলে একটু ভাবুন।
আপনার পড়া, বিরাট বিশাল ইংরেজি বইয়ের দুপাতা খুলে একটা লাইনও বুঝবে না, এমন মানুষ কম নেই একেবারে। ওরা ফ্যালফ্যাল করে চেয়ে আছে আপনার দিকে। শেকড়ের এই দাবি কি করে ভুলবেন?
এই পথে ফুলের মালা কেউ বিছিয়ে রাখেনি, সেটাই স্বাভাবিক। চলার পথে যদি বাধা না থাকে, সে পথে চলতে যোগ্যতার কোন প্রয়োজন হয় না; শুধু হাঁটলেই হয়। আমাদের চোখে সে পথ, কোন পথ নয়।
আমরাতো চলেছি দীপ্ত পদক্ষেপে।
মিষ্টি একটা ভোরের প্রতীক্ষায়।
একদিন ছোট্টবেলার 'এইম ইন লাইফ' রচনার সাথে বড়বেলার বাস্তবতা মিশে যাবে। কোন একদিন মানবীয় নীতিবোধের সাথে গুলিয়ে যাবে না কাগজের টাকার প্রতি প্রবল আকর্ষণ।
কোন একদিন লাল টুকটুকে একটা সূর্য উঠবে, যার আলো ছুয়ে দেবেনা কোন অসহায়ের কুচকে থাকা ললাট..
আমরা স্বপ্ন দেখি তার।
আর জানি, আপনিও দেখেন।
ভুল বলেছি?
“আমাদের ছুটে চলা, আলো খুঁজে খুঁজে
যেন কোন চোখ, অযতনে না পড়ে বুজে,
আমাদের অনুভব, স্বপ্নে ছাওয়া
নীল সে সীমানারা, আকাশ ছোঁয়া।”
(মেডিভয়েস তৃতীয় সংখ্যায় প্রকাশিত)

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত