ডা. মো. ফজলুল কবির পাভেল

ডা. মো. ফজলুল কবির পাভেল

সহকারী সার্জন, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল


২৪ ফেব্রুয়ারী, ২০১৯ ০৯:৪৭ এএম

রজঃনিবৃত্তির সমস্যা সমাধানে হরমোন থেরাপি

রজঃনিবৃত্তির সমস্যা সমাধানে হরমোন থেরাপি

মহিলাদের মাসিক একটি নির্দিষ্ট সময়ের পরে বন্ধ হয়ে যায়। একে রজঃনিবৃত্তি বা মেনোপজ বলা হয়। সাধারণত ৪৫ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে মেয়েদের মাসিক চিরতরে বন্ধ হয়ে যায়। তবে বিভিন্ন দেশে মাসিক বন্ধ হবার সময় ভিন্ন ভিন্ন। খাদ্যভাস, আবহাওয়া, জীবনযাত্রার সাথে এর সম্পর্ক আছে। এজন্যেই বিভিন্ন দেশের মেয়েদের বিভিন্ন সময়ে মাসিক বন্ধ হয়। বয়স যত বাড়তে থাকে ওভারি বা ডিম্বাশয়ের কার্যক্ষমতা তত কমতে থাকে। কমতে কমতে এক সময় বন্ধ হয়ে যায়। তখনি দেখা দেয় রজঃনিবৃত্তি বা মেনোপজ।

রজঃনিবৃত্তির পর মহিলাদের নানারকম শারীরিক ও মানসিক পরিবর্তন হয়। এ সময় অনেক মহিলাদের তীব্র মানসিক কষ্ট হয়। তার সাথে হরমোনের অভাবে শুরু হয় নানা রকম শারীরিক উপসর্গ। আবার এ সময়ে ছেলেমেয়েরা কর্ম অথবা পড়াশোনার চাপে মাকে তেমন সময় দিতে পারেনা। সবকিছু একসাথে মিলে দুর্বিসহ অবস্থা তৈরি হয়। 

রজঃবৃত্তির পর যেসব সমস্যা সচরাচর দেখা যায় তার মধ্যে আছে- 

১. অত্যধিক ঘাম।

২. ঘুমের সমস্যা।

৩. দুশ্চিন্তা। 

৪. প্রসাবের সমস্যা। 

৫. অস্থিক্ষয়। 

৬. হাড়ের ব্যথা। 

৭. যৌনকর্মে অনীহা।

৮. মিলনে কষ্ট।

৯. প্রস্রাবে সংক্রমণ। 

১০. যৌনাঙ্গে প্রদাহ।

১১. নিদ্রাহীনতা।

১২. হার্টের সমস্যা। 

১৩. আবেগজনিত সমস্যা।

১৪. হাত পা জ্বালাপোড়া ইত্যাদি। 

সবার যে একরকম সমস্যা হয় তা নয়। একেজনের একেক সমস্যা বেশী হয়। এসব সমস্যার প্রায় বেশীরভাগ কারণই কিন্তু হরমোনের অনুপস্থিতি। 

রজঃনিবৃত্তির পর হরমোন চিকিৎসা দিলে উপরোক্ত সমস্যা অনেক কমে যায়। সবার ক্ষেত্রেই যে আবার হরমোন থেরাপী লাগবে তা নয়। হরমোন চিকৎসা দিলে উপকার বেশী হয়। হরমোন চিকিৎসায় খুব বেশী যে ব্যয় হয় তাও নয়। একবেলা খেলেই চলে এবং খুব বেশীদিন যে খেতে হয় তাও নয়। চিকিৎসা শুরুর কয়েকদিনের মধ্যেই রোগী অনেক আরাম বোধ করে। উপসর্গগুলো কমে যায়। 

তবে হরমোন চিকিৎসা সবাই নিতে পারবেনা। যাদের স্তন, ওভারি বা ইউটেরাসে ক্যান্সার আছে তাদের হরমোন থেরাপী দেয়া যাবেনা। যাদের লিভারের অসুখ, রক্তের কিছু অসুখ এবং অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ রক্তচাপ আছে তাদের ক্ষেত্রেও হরমোন থেরাপী দেওয়া ঠিক নয়। হরমোন থেরাপীর কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া আছে। যেমন- 

১. স্তনে ব্যথা।

২. মাথা ব্যথা।

৩. বমিভাব। 

৪. হজমে সমস্যা।

৫. পেট ব্যথা।

৬. রক্তস্রাব 

হরমোন থেরাপী নিলে স্তন ক্যান্সার ও এন্ডোমেট্রিয়াল ক্যান্সার হতে পারে। তাই এই থেরাপী নিলে স্তন ও ইউটেরাস নিয়মিত চেক আপ করান উচিত। হরমোন থেরাপী অনেকের জন্যেই আর্শীর্বাদ বয়ে এনেছে। রজঃনিবৃত্তির পর সমস্যা দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শে হরমোন থেরাপী নিলে রোগী অনেক ভাল থাকে।

Add
শপথ পাঠ অনুষ্ঠানে দুই মেয়রকে প্রধানমন্ত্রী

নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে মশা আপনাদের ভোট খেয়ে ফেলবে

শপথ পাঠ অনুষ্ঠানে দুই মেয়রকে প্রধানমন্ত্রী

নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে মশা আপনাদের ভোট খেয়ে ফেলবে

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
বেশিদিন ওমিপ্রাজল খেলে হাড় ক্ষয়ের ঝুঁকি বাড়ে 
কিডনি পাথরের ঝুঁকি বাড়ায় নিয়মিত অ্যান্টাসিড সেবন 

বেশিদিন ওমিপ্রাজল খেলে হাড় ক্ষয়ের ঝুঁকি বাড়ে